কুনিওকে হত্যার দায় স্বীকার করেছে আইএস

রংপুরে জাপানের নাগরিক হোসি কুনিওকে হত্যার দায় স্বীকার করেছে জঙ্গিগোষ্ঠী ইসলামিক স্টেট (আইএস)। টুইটারে হত্যার কথা স্বীকার টুইট করেছে এই জঙ্গি সংগঠন। রয়টার্সের খবরে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

শনিবার সকালে রংপুরের কাউনিয়া উপজেলার আলুটারি গ্রামে একদল মুখোশধারীর গুলিতে নিহত হন কুনিও। ওই এলাকায় জমি ইজারা নিয়ে একটি ঘাসের খামার করছিলেন তিনি।

আইএস আরো হামলা চালানোর হুমকি দিয়েছে জানিয়ে তাদের টুইট উদ্ধৃত করে রয়টার্স বলেছে, ধর্মযুদ্ধে অংশগ্রহণকারী জোটের দেশগুলোর নাগরিকদের বিরুদ্ধে চলমান অভিযান অব্যাহত থাকবে। মুসলমানদের মাটিতে তাদের নিরাপত্তা বা জীবিকা থাকবে না।

এর আগে সোমবার ঢাকায় ইতালির নাগরিক তাবেলা সিজার খুন হওয়ার পর আইএস ওই হত্যাকাণ্ডের দায় স্বীকার করে বার্তা দেয়। আইএসের ওই বার্তার বিষয়টি নিশ্চিত করে ‘সাইট ইন্টিলিজেন্স গ্রুপ’ নামে জঙ্গি হুমকি পর্যবেক্ষণকারী একটি ওয়েবসাইট ।

কিন্তু তাবেলা হত্যাকাণ্ডে আইএসের সংশ্লিষ্টতার কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি জানিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল তাদের দাবি নাকচ করেন।

এদিকে এক সপ্তাহের মধ্যে দেশে দুজন বিদেশি নাগরিক খুন হলেন। দুটি হত্যাকাণ্ডেরই দায় স্বীকার করল মধ্যপ্রাচ্যভিত্তিক জঙ্গিগোষ্ঠী আইএস। আরো কিছু নাগরিককে হত্যার হুমকি দিয়েছে এই সংগঠনটি। কিন্তু তাদের বিষয়ে তেমন কোনো তথ্য নেই দেশের আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর হাতে।

রংপুরে শনিবার প্রকাশ্যে দুর্বৃত্তরা হত্যা করেন কুনিওকে। দুর্বৃত্তদের ছোড়া তিনটি গুলি লাগে হোসি কুনিওর শরীরে। এ ঘটনায় পুলিশ জিজ্ঞাসাবাদের জন্য নিহত কুনিও যে বাসায় ভাড়া থাকতেন, সেই বাসার মালিক গোলাম জাকারিয়া, তার ছেলে হীরা, নিহতের সহযোগী হুমায়ুন কবীর হীরা, রিকশাচালক মুন্নাফ ও যে বাড়ির সামনে হামলা করা হয়, সে বাড়ির ছেলে মুরাদকে আটক করেছে।

এলাকাবাসী জানান, এক বছরের ভিসা নিয়ে জাপানের নাগরিক হোসি ‍কুনিও রংপুরে এসেছিলেন। গত ছয় মাস ধরে তিনি রংপুরের মাহীগঞ্জের আলুটারি এলাকায় একটি কৃষি প্রকল্প পরিচালনা করে আসছিলেন। শনিবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে রংপুর নগরীর মুন্সীপাড়ার ৩১ নম্বর ভাড়া বাসা থেকে রিকশাযোগে মাহীগঞ্জ যাওয়ার সময় আলুটারিতে কয়েকজন দুর্বৃত্ত তাকে কাছ থেকে গুলি করে। এ সময় তার বুকে, পাঁজরে ও হাতে তিনটি গুলি লাগে। দুর্বৃত্তরা মৃত্যু নিশ্চিত করার জন্য ধারাল অস্ত্র দিয়ে তার হাতের রগ কেটে দেয় এবং শরীরের বিভিন্ন স্থানে কুপিয়ে জখম করে। স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে রংপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

এ ব্যাপারে রংপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার জয়নাল আবেদীন জানান, জাপানের নাগরিককে হত্যার মূল হোতাদের গ্রেফতারে পুলিশ তৎপর রয়েছে এবং এর মধ্যে পাঁচজনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করা হয়েছে।

নিহত কুনিওর সহযোগী হুমায়ন কবির হীরা বলেন, ‘নিহত হোসি কুনিও রংপুরে ঘাসের বীজ, আলুর ও শিম বীজ নিয়ে নিজস্ব কৃষি প্রকল্পের কাজ করতেন। তিনি আমাকে ছাড়া এখানে অন্য কাউকে তেমন চিনতেন না।’

এখানে কারো সঙ্গে তার শত্রুতা বা বিরোধের কারণ নেই বলে তিনি মনে করেন।

রংপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের ডা. সরওয়ার হোসেন জানান, হাসপাতালে আসার আগেই তার মৃত্যু হয়েছে। যেভাবে হত্যাকাণ্ড ঘটানো হয়েছে, এটা পেশাদার খুনীর কাজ।

You Might Also Like