প্রশ্ন ফাঁসের অভিযোগে আটক ইউজিসি কর্মকর্তার মৃত্যু র‍্যাবের হেফাজতে

মেডিকেল কলেজে ভর্তি পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগে আটক বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) সহকারী পরিচালক ওমর সিরাজ র‌্যাবের হেফাজতে মারা গেছেন। বৃহস্পতিবার রাত ১১টায় শেরেবাংলা নগর থানার পুলিশ তার লাশ ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে পাঠায়।

শেরেবাংলা নগর থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) ওয়াজেদ আলী সাংবাদিকদের জানান, ওমর সিরাজকে র‌্যাব-৪ এর একটি টিম গ্রেফতার করেছিল। গতকাল বৃহস্পতিবার রাতে হঠাৎ অসুস্থ হয়ে গেলে রাজধানীর হৃদরোগ ইন্সটিটিউটে তাঁকে নেয়া হয়। পরে সেখানেই চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়। পরে র‌্যাবের পক্ষ থেকে থানায় খবর দেয়া হলে পুলিশ হৃদরোগ হাসপাতাল থেকে তার লাশ উদ্ধার করে মর্গে পাঠায়।

এদিকে, ওমর সিরাজের ভাই এটিকে ‘পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড’ বলে অভিযোগ করেছেন। তিনি বলেন, ‘প্রথমে র‍্যাব থেকে ওর স্ত্রীর নম্বরে ফোন করেছে যে ওমর সিরাজ হঠাৎ করে অসুস্থ হয়ে পড়ে, সেখান থেকে তাকে আমরা হাসপাতালে পাঠাই, ওখানে তার মৃত্যু হয়েছে।’

তিনি অভিযোগ করেন, ‘একটা পরিকল্পনা করে তাঁকে ফাঁসানো হয়েছে। আর যারা ফাঁসিয়েছে তারা র‍্যাবের সহযোগিতায় তাকে হত্যা করেছে।

গত ১৮ সেপ্টেম্বর মেডিকেলের প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগে ওমর সিরাজসহ তিনজনকে আটক করে পুলিশ। পরে দুদিনের রিমান্ড শেষে ২৪ সেপ্টেম্বর মামলা র‍্যাবের কাছে হস্তান্তর করা হয়। র‍্যাব-৪ ওমর ফারুককে আবারো দুদিনের রিমান্ডে নেয়।

র‌্যাবের হাতে গ্রেফতারের পর প্রশ্নফাঁসে জড়িত থাকার অভিযোগে গ্রেফতার হওয়ায় ওমর সিরাজকে সাময়িক বরখাস্ত করে ইউজিসি কর্তৃপক্ষ। তিনিই মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষা এবং কৃষি ব্যাংক, জুডিশিয়াল সার্ভিস কমিশন ও বিভিন্ন সরকারি প্রতিষ্ঠানের নিয়োগ পরীক্ষার হলে উত্তরপত্র বিতরণকারী এ চক্রের হোতা বলে জানায় র‌্যাব।

র‌্যাবের সংবাদ বিজ্ঞপ্তি থেকে জানা গেছে, ওমর সিরাজ অসাধু উপায় অবলম্বন ও জালিয়াতি করে মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষা, কৃষি ব্যাংকের অফিসার নিয়োগ, জুডিশিয়াল সার্ভিস কমিশনের সহকারী জজ নিয়োগ পরীক্ষার উত্তরপত্র সরবরাহ করে আসছিলেন বলে জিজ্ঞাসাবাদে জানা গেছে।

র‌্যাবের আইন ও গণমাধ্যম শাখার পরিচালক মুফতি মাহমুদ খান বলেন, ওমর সিরাজ গ্রেফতারের পরপরই র‌্যাবের কাছে স্বীকার করেছিলেন যে, তিনি সব ধরনের প্রশ্নপত্র ফাঁসের সঙ্গে জড়িত ছিলেন। তিনি আরও বলেন, তার সিন্ডিকেটের অন্য সদস্যদের গ্রেফতারে র‌্যাবের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

You Might Also Like