মুজাহিদ ও সালাউদ্দিনের মৃত্যু পরোয়ানায় সই করল ট্রাইব্যুনাল

একাত্তরে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল আলী আহসান মোহাম্মদ মুজাহিদ ও বিএনপি নেতা সালাহউদ্দিন কাদের চৌধুরীর মৃত্যু পরোয়ানা জারি করেছে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল।

আজ (বৃহস্পতিবার) ট্রাইব্যুনালের চেয়ারম্যান বিচারপতি মো. আনোয়ারুল হক এবং অন্য দুই বিচারপতি মো. শাহিনুর ইসলাম ও মোহাম্মদ সোহরাওয়ার্দী তাদের মৃত্যু পরোয়ানায় সই করেন।

এর আগে গতকাল বুধবার দুপুরে আলী আহসান মোহাম্মদ মুজাহিদ ও সালাহউদ্দিন কাদের চৌধুরীর ফাঁসি বহাল রেখে আপিল বিভাগের রায়ের পূর্ণাঙ্গ অনুলিপি প্রকাশিত হয়। এরপর সন্ধ্যায় রায়ের কপি যুদ্ধাপরাধ বিচার ট্রাইব্যুনালে পৌঁছে দেন সুপ্রিম কোর্ট প্রশাসন।

প্রচলিত রীতি অনুযায়ী এখন আসামিপক্ষ আপিল বিভাগের রায় রিভিউ (পুনর্বিবেচনার) আবেদন করবেন। আর এ আবেদনের জন্য তারা ১৫ দিনের সময় পাবেন। ১৫ দিনের মধ্যে আসামিপক্ষ রিভিউ আবেদন করলে আপিল বিভাগ তা অগ্রাধিকার ভিত্তিতে নিষ্পত্তি করবেন। রিভিউ নিষ্পত্তির পর যে রায় বহাল থাকে তা কার্যকর হবে।

উল্লেখ্য, গত ১৬ জুন মুজাহিদ এবং ২৯ জুলাই সাকা চৌধুরীর আপিল খারিজ করে সংক্ষিপ্ত রায় দেন আপিল বিভাগ। প্রধান বিচারপতি এসকে সিনহার নেতৃত্বাধীন চার সদস্যের বেঞ্চ এ রায় দেন। বেঞ্চের অপর তিন সদস্য হচ্ছেন- বিচারপতি নাজমুন আরা সুলতানা, বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেন ও বিচারপতি হাসান ফয়েজ সিদ্দিকী। চার বিচারপতির স্বাক্ষরের পর বুধবার মুজাহিদের ১৯১ পৃষ্ঠার এবং সাকা চৌধুরীর ২১৭ পৃষ্ঠার ওই রায়ের পূর্ণাঙ্গ অনুলিপি প্রকাশ হয়।

২০১৩ সালের ১৭ জুলাই আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ মুজাহিদের মামলার রায় দেন। ওই রায়ে তার বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপক্ষের আনা ৭টি অভিযোগের মধ্যে ৫টি প্রমাণিত হয়েছিল। এর মধ্যে ৬ ও ৭ নম্বর অভিযোগে তাকে ফাঁসির আদেশ দেয়া হয়। সাংবাদিক সিরাজুদ্দীন হোসেনকে হত্যার অভিযোগটি বুদ্ধিজীবী হত্যার মধ্যে পড়ে যাওয়ায় ট্রাইবু্যুনাল এ বিষয়ে আলাদা কোনো সাজা দেননি। সাংবাদিক সিরাজুদ্দীন হত্যার বিষয়টি মামলায় এক নম্বর অভিযোগ হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা ছিল।

অন্যদিকে, মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে ২০১৩ সালের ১ অক্টোবর বিএনপি নেতা সালাউদ্দিন কাদেরের বিরুদ্ধে মৃত্যুদণ্ডাদেশ দেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১। এই রায়ের বিরুদ্ধে ওই বছরের ২৯ অক্টোবর আপিল করেন বিএনপি নেতা।

হরতালের আগের রাতে গাড়ি ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনায় ২০১০ সালের ১৬ ডিসেম্বর গ্রেফতার হন বিএনপি নেতা সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরী। এর পর ওই বছরের ১৯ ডিসেম্বর তাকে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় গ্রেফতার দেখানো হয়। ২০১২ সালের ৪ এপ্রিল অভিযোগ গঠনের মধ্য দিয়ে তাঁর বিচার শুরু করেন ট্রাইব্যুনাল।

You Might Also Like