মিনা ট্র্যাজেডি : শয়তানকে জিততে দেয়া যাবে না

পবিত্র কাবা ও কাবার প্রভাববলয়াধীন এলাকা আল্লাহর রহমতপ্রাপ্ত। খানায়ে কাবার রক্ষক খোদ আল্লাহ রাব্বুল আলামিন। হাজীরা আল্লাহর মেহমান। পুরো হজের আনুষ্ঠানিকতায় আল্লাহর নির্দেশ ও নবী-রাসূলের অনুসরণ অপরিহার্য। তাই হজকেন্দ্রিক ট্র্যাজেডি মানতে কষ্ট হয়। তার মধ্যে মিনা ট্র্যাজেডি ঘটল। এবারের মিনা ট্র্যাজেডি ২৫ বছরের মধ্যে ভয়াবহতম দুর্ঘটনা। এর আগেও দুর্ঘটনা ঘটেছে। বালাদুল আমিন খ্যাত শান্তি ও নিরাপত্তার নগরীতে খুনখারাবির মতো ঘটনাও ঘটেছে। গুলি করে হাজী হত্যার মতো অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনাও এড়ানো সম্ভব হয়নি। একদল আরব চরমপন্থী কাবায় প্রবেশ করে তাদের দাবি জানিয়েছিল ১৯৮১ সালে। নিরাপত্তা বাহিনী অভিযান চালিয়ে কাবার পরিবেশ অবারিত করেছে। ইরানি হাজীদের সাথে সৌদি নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্ঘাত শুরু হয়েছিল কাবাচত্বরে স্লোগান দেয়ার অভিযোগে।

মুসলিম উম্মাহর সব সদস্য দৃঢ়তার সাথে বিশ্বাস করেন, কাবা নিরাপদ নগরী। এখানে যেকোনো রক্তপাত ও হত্যা নিষিদ্ধ- তাদের এ বিশ্বাস বারবার হোঁচট খেয়েছে। আস্থা ও ভরসায় ফাটল ধরেছে। বিশ্বাসের গ্রন্থি ছিঁড়েছে কয়েকবার। তারপরও মিনা ইস্যুতে কারো বাগ্যুদ্ধ মুসলিম উম্মাহর কাছে প্রত্যাশিত নয়। দুর্ঘটনারও কার্যকারণ থাকে। নাশকতারও কারণ খুঁজে বের করতে হয়। উসকানি থাকলে তার ক্লুও থাকে। তাই দায় নিতে হয় দায়িত্বশীল কাউকে না কাউকে। হজ ইস্যুতে ওআইসি এড়িয়ে জাতিসঙ্ঘকে টানাও বিব্রতকর। এ থেকে শিক্ষা নেয়া এবং ভবিষ্যৎ দুর্ঘটনামুক্ত রাখতে বড় ধরনের উদ্যোগ নেয়া উচিত। কারণ, এ অভিজ্ঞতা সুখকর নয়। গত বছর মার্চে মিনা এলাকায় গিয়ে শয়তানকে পাথর ছোড়ার বহুমাত্রিক ব্যবস্থা দেখে স্বস্তি পেয়েছিলাম এবং সামগ্রিক হজ ব্যবস্থাপনায় সংশ্লিষ্টদের ভূমিকা প্রশংসনীয় মনে হয়েছে। কিন্তু দুর্ঘটনা এড়াতে না পারার বিষয়টি খোদ সৃষ্টিকর্তার পক্ষ থেকে কোনো বার্তা বহন করে কি না, তা বিবেচনায় নেয়া উচিত। কারো অর্জন কিংবা কৃতিত্বকে প্রশ্নবিদ্ধ করার অপপ্রয়াস হলেও সব কিছু গভীর পর্যালোচনার দাবি রাখে। মানবিক ব্যবস্থাপনা নিয়ে কারো অহমিকা চুরমার করে দেয়ার জন্য এটাও খোদায়ি কুদরত নয় তো? একটু পেছনে তাকানো যাক- ১৯৭৫ থেকে ২০১৫। এই ৪০ বছরের ইতিহাসে হজে গিয়ে দুর্ঘটনা ও রোগে মারা গেছেন প্রায় চার হাজার মানুষ। এর মধ্যে কোনো কোনো মৃত্যু ছিল ‘নিছক দুর্ঘটনা’। অসুস্থতার বিষয়টিও হয়তো আয়ত্তের বাইরে ছিল। কিন্তু মক্কার মসজিদ আল-হারামে ক্রেন উল্টে হজ করতে সমবেত বিপুলসংখ্যক মানুষের মৃত্যুর ঘটনাটি সহজভাবে প্রাকৃতিক দুর্যোগের ওপর চাপিয়ে দায় এড়ানো সম্ভব কি? এটি ছিল হজের গত ২৫ বছরের ইতিহাসে সবচেয়ে ভয়াবহ দুর্ঘটনা- যা সৌদি আরব সরকারও স্বীকার করেছে।

তখনো কেউ জানত না আরো বড় ট্র্যাজেডি অপেক্ষা করছে। আরব ক্যালেন্ডার অনুযায়ী, এবার কোরবানির ঈদের দিন ছিল বৃহস্পতিবার। হজের আনুষ্ঠানিকতার শেষ সময়ে মিনায় পদপিষ্ট হয়ে নিহত হন এক হাজার ১০০ জন এবং আহত হন আরো অন্তত ৯৩৪ জন। এর মধ্যে বাংলাদেশী ২৬ জন হাজীর লাশ মর্গে রয়েছে। এই ঘটনার মাত্র ১২ দিন আগে মক্কার মসজিদ আল-হারামে ক্রেন উল্টে নিহত হন ১১৭ জন আর আহত হন প্রায় ২৩৮ জন। স্বল্পসময়ের ব্যবধানে এত মৃত্যু সবাইকে শোকাহত ও ব্যথাতুর করাই স্বাভাবিক। তাই বলে এত বড় দু’টি মর্মান্তিক ও হৃদয়বিদারক দুর্ঘটনা নিয়ে কোনো ব্লেম গেম নয়, এখানে সমস্যা ও সঙ্কট নিরূপণের বিষয়টি বড়।

আরো পেছনে তাকালে দেখা যায়, ২০১১ সালের সেপ্টেম্বরে হজের সময় সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারান ২৫ জন হাজী। এদের মধ্যে ১৩ জন ছিলেন আফগান। ২০০৬ সালে মক্কার কাবা শরিফের অদূরে বহুতল আল-গাজা হোটেল ভেঙে পড়ে নিহত হন ৭৬ জন এবং আহত হন আরো ৬৪ জন। ওই বছরই মিনায় শয়তানকে পাথর ছুড়ে মারতে গিয়ে পদদলিত হয়ে মারা যান আরো ৩৪৫ জন। ২০০৪ সালের পয়লা ফেব্রুয়ারি আল-জামারাতে শয়তানকে পাথর ছুড়ে মারার সময় পদদলিত হয়ে মারা যান ২৪৪ হাজী। ২০০১ সালের ৫ মার্চ আল-জামারাতে ওই একই ধরনের ঘটনায় মারা যান ৩৫ জন হাজী। ১৯৯৮ সালের ৯ এপ্রিল আল-জামারাতে শয়তানকে পাথর নিক্ষেপের সময় হুড়োহুড়িতে হঠাৎ আতঙ্কিত হয়ে পদদলিত হয়ে মারা যান ১৮০ জন। ১৯৯৭ সালের ১৫ এপ্রিল মিনায় তাঁবুতে আগুন লেগে পুড়ে মারা যান ৩৪০ জন। আর ওই ঘটনায় আহত হন আরো দেড় হাজার। ১৯৯৪ সালের ২৩ মে ওই আল-জামারাতেই মারা যান ২৭০ জন, যাদের মধ্যে বেশির ভাগই ছিলেন ইন্দোনেশীয়। ১৯৯০ সালের ২ জুলাই মক্কায় সুড়ঙ্গপথে পদপিষ্ট হয়ে মারা যান এক হাজার ৪২৬ জন হাজী, যাদের বেশির ভাগই ছিলেন মালয়েশীয়, ইন্দোনেশীয় ও পাকিস্তানি। ১৯৮৯ সালের ৯ জুলাই মক্কায় দু’টি বোমা বিস্ফোরণের ঘটনায় নিহত হন এক হাজী এবং আহত হন আরো ১৬ জন। ১৯৮৭ সালের ৩১ জুলাই মক্কায় নিরাপত্তাকর্মীদের সাথে ইরানি হাজীদের সংঘর্ষে নিহত হন ৪০২ জন এবং আহত হন ৬৪৯ জন হাজী। নিহতদের বেশির ভাগই ছিলেন ইরানি। গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরিত হয়ে তাঁবুতে আগুন লেগে ১৯৭৫ সালের ডিসেম্বরে নিহত হন ২০০ হাজী। ঘটনা-দুর্ঘটনাগুলো মূল্যায়ন করলে এটা স্পষ্ট- কিছু দুর্ঘটনা শুধুই দুর্ঘটনা হিসেবে মেনে নেয়া যায়, কিন্তু জামারাতে শয়তানকে পাথর ছুড়তে গিয়ে পদদলিত হয়ে বারবার মৃত্যুর বিষয়টি মেনে নেয়া কতটুকু যৌক্তিক? এর কি কোনো সন্তোষজনক সমাধান নেই? শয়তানকে পাথর ছোড়ার প্রতীকী আমলটি করতে গিয়ে আমরা আর কত শয়তানের প্রবঞ্চনার শিকার হবো!

প্রথমেই মেনে নেয়া উচিত, এসব দুর্ঘটনায় সৌদি কর্তৃপক্ষের দায় সমান নয়। কিছু ঘটনা দুর্ঘটনাই বটে। তবে জামারায় পদদলিত হওয়ার ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঠেকাতে বহু উদ্যোগ প্রশংসনীয়, কিন্তু শেষ রক্ষা না হওয়ার জন্য ব্যবস্থাপনার ত্রুটিকে ছোট করে দেখা যায় না। আমরা প্রত্যাশা করব, মানুষের মনে এত মৃত্যুর কারণে আস্থাহীনতার যে অস্বস্তি ও রক্তক্ষরণ দেখা দিয়েছে, বিশ্বাস ও নির্ভরতায় যে ফাটল ধরেছে, সেটা পুনরুদ্ধার করতে মুসলিম উম্মাহকেই একযোগে কাজ করতে হবে। বাংলাদেশীরা স্বস্তি বোধ করবেন তাদের হারিয়ে যাওয়া হাজীদের নিয়ে বিভ্রাট ও বিভ্রান্তি সৃষ্টি করে নয়, সঠিক তথ্য জানতে দেয়ার মাধ্যমে। ইতোমধ্যে বাংলাদেশী হাজীদের মধ্যে ২৬ জনের মৃত্যু ও প্রায় ৯৮ জন নিখোঁজের খবর পাওয়া গেছে। প্রতিটি মৃত্যু শোকের। আল্লাহর মেহমানদের আল্লাহই ইহরাম বাঁধা অবস্থায় কবুল করেছেন- এটা সান্ত্বনার বিষয়, কিন্তু স্বস্তির নয়। দুনিয়ার সব হজ গমনেচ্ছুর মনে আবার স্বস্তি-নিরাপত্তা ফিরিয়ে আনতে বাগ্যুদ্ধ কোনো সমাধান নয়। কাবাকেন্দ্রিক জীবনকে উপলব্ধি করে কাবার মালিকের কাছে শর্তহীন আত্মসমর্পণের মাধ্যমেই সমাধানের পথ খুঁজে পেতে হবে। বিবেচনায় নিতে হবে পৃথিবীজুড়ে মানুষের পরামর্শ ও সুপারিশগুলো।

সেই সমাধানের পথে আমাদের পরামর্শ থাকবে- ১. হজ ব্যবস্থাপনার সাথে সংশ্লিষ্টদের পরিসংখ্যানের মাধ্যমে দেখতে হবে কতসংখ্যক হজযাত্রীকে মক্কায় প্রবেশের অনুমতি দিলে ব্যবস্থাপনাগত ত্রুটি ও সীমাবদ্ধতাগুলো পরিহার করা সম্ভব হবে। সেভাবেই হজের কোটা নির্ধারণ করা যেতে পারে। ২. সময় ভাগ করে একসাথে কতজন হাজী জামারায় যেতে দিলে সমস্যা হবে না- সেটা মাথায় রেখে রাস্তায় চলাচলের ব্যবস্থা নিরাপদ ও স্বস্তিদায়ক করতে হবে। তা ছাড়া হজের আমলগুলোর মধ্যে কোনগুলো অধিকতর প্রতীকী, স্পর্শকাতর ও ঝুঁকিবহুল; তা আগেভাগে হাজীদের প্রশিক্ষণ দিয়ে বোঝাতে হবে। সময় বণ্টন করে হাজীদের সেভাবেই চলাচলের ব্যবস্থা নিয়ন্ত্রণ করতে হবে। ৩. হাজীদের মাসলা-মাসায়েল ও হুকুম-আহকামের ট্রেনিংয়ের সাথে স্পর্শকাতর ও ঝুঁকিপূর্ণ আমলগুলো সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা দিতে হবে। তাদের করণীয় বুঝিয়ে দিতে হবে। ৪. হজের সময় জেদ্দা বিমানবন্দরে ও ইমিগ্রেশন ব্যবস্থাপনায় ভোগান্তি কমিয়ে গতি আনতে হলে ইমিগ্রেশন ব্যবস্থার অতিরিক্ত কড়াকড়ি শিথিল করতে হবে; সে ক্ষেত্রে ইউরোপীয় ইউনিয়নভুক্ত দেশের মতো পাসপোর্ট বা হজকার্ড দেখিয়ে ইমিগ্রেশন পার হওয়ার ব্যবস্থা করা যেতে পারে। হজভিসা ইস্যুর সময় নিরাপত্তা নিশ্চিত করে হজকার্ড ইস্যু করলে, এটা সাথে রাখার ব্যবস্থা নিলে ইমিগ্রেশন থেকে শুরু করে সর্বত্র ভোগান্তি কমতে পারে। ৫. হজ ব্যবস্থাপনার জন্য একাধিক ভাষাজ্ঞানসমৃদ্ধ চৌকস ও প্রশিক্ষিত যুবকদের বাছাই করতে হবে; যারা একাধিক মধ্যস্থতাকারী ভাষা জানবেন এবং হাজীদের তথ্য জানাতে ও সাহায্য করতে সক্ষম হবেন, এ ধরনের স্বেচ্ছাসেবক মুসলিম দেশগুলো থেকে সংগ্রহ করা সম্ভব। ৬. হাজীদের চলাচলের সব পথ অত্যন্ত উঁচুমানসম্পন্ন ট্রাফিক-ব্যবস্থার মাধ্যমে নিয়ন্ত্রণ করতে হবে। বিপরীতমুখী চলাফেরা কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণ করতে হবে। ৭. কিছু হাজী প্রকৃতিগত কারণে বেপরোয়া হতেও পারেন- তাদের ব্যাপারে নজরদারি ও সহযোগিতা বাড়িয়ে নিয়ন্ত্রণব্যবস্থা জোরদার করা সম্ভব। ৮. ভাষা সমস্যা দূর করতে প্রধান ভাষাগুলোর চর্চা ট্রাফিক কর্মীদের মধ্যে বাড়ানো যেতে পারে। ৯. হজ একবারের জন্য ফরজ, কাউকে একাধিকবার হজে যাওয়ার ব্যাপারে নিরুৎসাহিত না করেও নিয়ম করে অগ্রাধিকার নীতি প্রাধান্য দিয়ে ফরজ আদায়ের সুযোগ বাড়ানো সম্ভব। ১০. মক্কায় টানেল ব্যবস্থার বিকল্প আরো কিছু হতে পারে কি না, তা নিয়ে বিশেষজ্ঞদের চিন্তাভাবনা কল্যাণকর হতেও পারে।

সৌদি সরকার ইতোমধ্যে তদন্ত ও দায়দায়িত্ব নিরূপণের উদ্যোগ নিয়েছে। আমাদের পরামর্শগুলোও তারা বিবেচনায় নিতে পারেন। মিল্লাতের পিতা হজরত ইব্রাহিম আ:-এর দোয়া আল্লাহ কবুল করেছেন। উম্মাহর নেতৃত্বকে ভেবে দেখতে হবে- পাপ-তাপে জর্জরিত, জুলুম-অত্যাচারে নিপীড়িত উম্মাহর সদস্যরা আজ কেন নিজেদের মক্কায় নিরাপদ ভাবতে পারছেন না। সবার উচিত এর উত্তর খোঁজা। সবশেষে মিল্লাতের পিতা যিনি মক্কার পত্তন করেছিলেন, আল কুরআনের সূরা ইব্রাহিমে উল্লেখিত ছয়টি আয়াতে তাঁর দোয়াটি সবাইকে স্মরণ করতে অনুরোধ করব। দোয়াটি হচ্ছে-

৩৫. (স্মরণ করো) যখন ইব্রাহিম (আল্লাহর কাছে) দোয়া করল- হে আমার মালিক, এ (মক্কা) শহরকে শান্তি ও নিরাপত্তার শহরে পরিণত করো এবং আমাকে ও আমার সন্তানসন্ততিদের মূর্তিপূজা থেকে দূরে রেখো।

৩৬. হে আমার মালিক, নিঃসন্দেহে এ (মূর্তি)গুলো বহু মানুষকেই গোমরাহ করেছে, অতঃপর যে আমার আনুগত্য করবে সে আমার দলভুক্ত হবে, আর যে ব্যক্তি আমার নাফরমানি করবে (তার দায়িত্ব তোমার ওপর নয়), নিশ্চয়ই তুমি ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু।

৩৭. হে আমাদের মালিক, আমি আমার কিছু সন্তানকে তোমার পবিত্র ঘরের কাছে একটি অনুর্বর উপত্যকায় এনে আবাদ করলাম, যাতে করে- হে আমাদের মালিক, এরা নামাজ প্রতিষ্ঠা করতে পারে, তুমি (তোমার দয়ায়) এমন ব্যবস্থা করো যেন মানুষদের অন্তর এদের দিকে অনুরাগী হয়, তুমি ফলমূল দিয়ে তাদের রিজিকের ব্যবস্থা করো, যাতে তারা তোমার (নিয়ামতের) শোকর আদায় করতে পারে।

৩৮. হে আমাদের মালিক, আমরা যা কিছু গোপন করি এবং যা কিছু প্রকাশ করি, নিশ্চয়ই তুমি তা সব জানো; আসমানসমূহে কিংবা জমিনের (যেখানে যা কিছু ঘটে এর) কোনোটাই আল্লাহর কাছে গোপন থাকে না।

৩৯. সব প্রশংসা আল্লাহ তায়ালার জন্য, যিনি আমাকে আমার (এ) বৃদ্ধ বয়সে ইসমাইল ও ইসহাক (তুল্য দুটো নেক সন্তান) দান করেছেন; অবশ্যই আমার মালিক (তাঁর বান্দাদের) দোয়া শোনেন।

৪০. হে আমার মালিক, তুমি আমাকে নামাজ প্রতিষ্ঠাকারী বানাও, আমার সন্তানদের মাঝ থেকেও (নামাজি বান্দা বানাও), হে আমাদের মালিক, আমার দোয়া তুমি কবুল করো।

৪১. হে আমাদের মালিক, যেদিন (চূড়ান্ত) হিসাব-কিতাব হবে, সেদিন তুমি আমাকে, আমার পিতামাতাকে এবং সকল ঈমানদার মানুষকে (তোমার অনুগ্রহ দ্বারা) ক্ষমা করে দিয়ো।

You Might Also Like