সন্ত্রাস-জঙ্গিবাদ ও জলবায়ূ পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবেলায় সকল রাষ্ট্রকে একসঙ্গে কাজ করার আহ্বান

বিশ্বশান্তির জন্য সন্ত্রাস-জঙ্গীবাদ এবং জলবায়ূ পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবেলাই এখন বড় চ্যালেঞ্জ। এই­­ দুই চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় সব রাষ্ট্রকে একসঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি বলেন, বাংলাদেশের ধর্মনিরপেক্ষ চরিত্র ধ্বংসকারী চরমপন্থি ও স্বাধীনতাবিরোধীদের মোকাবিলায় সরকার সবসময় তৎপর আছে। বুধবার দুপুরে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের ৭০তম অধিবেশনে দেয়া ভাষণে প্রধানমন্ত্রী এ আহ্বান জানান।

বেলা ১২টা ৫৫ মিনিটে প্রধানমন্ত্রী তার ভাষণ শুরু করেন। প্রায় ১৫ মিনিট স্থায়ী এ ভাষণে প্রধানমন্ত্রী এই বড় দুটি চ্যালেঞ্জ ছাড়াও অভিবাসন সমস্যা ও টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করতে সরকারের নেয়া পদক্ষেপ এবং দেশের শান্তিরক্ষীদের ভূমিকার কথা তুলে ধরেন।

প্রধানমন্ত্রী তার ভাষণে বলেন, শুধু জাতিসংঘ নয়, সামগ্রিক অর্থে সারা বিশ্বের জন্য এ বছরটি আমূল পরিবর্তনের বছর। এ বছরই বিশ্ব সংস্থার ৭০তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালিত হচ্ছে। ‘আমাদের নিয়তি একইসূত্রে গাঁথা। এই বিশ্বাসের উপর ভিত্তি করে এই বিশ্বসংস্থার গোড়াপত্তন। প্রতিষ্ঠার পর থেকেই বিশ্বশান্তি ও নিরাপত্তা এবং উন্নয়ন ও মানবাধিকারের অগ্রগতির জন্য জাতিসংঘ গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ গ্রহণ করে আসছে। সত্তর বছর ধরে জাতিসংঘ মানব সম্প্রদায়ের জন্য আশা-আকাঙ্ক্ষার প্রতীক হয়ে আছে।

টেকসই উন্নয়নের জন্য এই বছরটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আদ্দিস আবাবায় অনুষ্ঠিত “উন্নয়নের জন্য অর্থায়ন” শীর্ষক শীর্ষ-সম্মেলন এবং নিউইয়র্কে সদ্য সমাপ্ত ২০১৫-পরবর্তী উন্নয়নশীর্ষ সম্মেলন গোটা বিশ্বের জনগণের জীবনযাত্রায় পরিবর্তন আনার ক্ষেত্রে নতুন আশার সঞ্চার করেছে। এ বছরের শেষে প্যারিসে আমরা একটি অর্থবহ জলবায়ু চুক্তিতে উপনীত হওয়ার জন্য কঠোর পরিশ্রম করে যাচ্ছি। আমরা আশা করছি দারিদ্র্য নিরসন, জলবায়ু পরিবর্তন সীমিত রাখা এবং ধরিত্রীকে সুরক্ষার মাধ্যমে আমাদের উজ্জ্বল ভবিষ্যত নিশ্চিত হবে। শেখ হাসিনা বলেন, বিশ্বে মানব সভ্যতার অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখার ক্ষেত্রে আজ আমরা সবচেয়ে বড় দুটি চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছি। যার প্রথমটি হচ্ছে সন্ত্রাসবাদ ও সহিংস জঙ্গিবাদ। বিশ্বশান্তি ও উন্নয়নের পথে এটি প্রধান অন্তরায়। সন্ত্রাসীদের কোন ধর্ম নেই। সন্ত্রাসবাদ এবং জঙ্গিবাদ একটি বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জ। এই চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় সকল রাষ্ট্রকে একযোগে কাজ করতে হবে।

জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে সপরিবারে হত্যাকাণ্ডের কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমি নিজে সন্ত্রাস এবং সহিংস জঙ্গিবাদের শিকার। আমার পিতা বাংলাদেশের জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান, মা বেগম ফজিলাতুন্নেসা মুজিব, তিন ভাই এবং অন্যান্য নিকট আত্মীয়দের ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট নির্মমভাবে হত্যা করা হয়। আমি নিজেও কমপক্ষে ১৯ বার সন্ত্রাসী হামলার শিকার হয়েছি। আমার সরকার সব ধরনের সন্ত্রাসবাদ, সহিংস জঙ্গিবাদ এবং মৌলবাদের প্রতি ‘জিরো টলারেন্স’ নীতিতে বিশ্বাসী। বাঙালি জাতির গণতান্ত্রিক, প্রগতিশীল ও ধর্মনিরপেক্ষ চরিত্র ধ্বংসের ষড়যন্ত্রে যারা লিপ্ত রয়েছে, সেসব চরমপন্থী ও স্বাধীনতা-বিরোধী শক্তির মোকাবিলায় আমরা সদা তৎপর।

জলবায়ু পরিবর্তনকে একটি মারাত্মক উন্নয়ন হুমকি উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনজনিত চ্যালেঞ্জ কার্যকরভাবে মোকাবেলা করা সম্ভব না হলে, আমাদের উন্নয়ন প্রচেষ্টা এগিয়ে নেওয়া কোনভাবেই সম্ভব হবে না। নতুন উন্নয়ন এজেন্ডায় পরিস্কারভাবে বলা হয়েছে আমাদের এই ধরিত্রী, এর প্রাকৃতিক সম্পদ, জীববৈচিত্র্য এবং জলবায়ু সংরক্ষণের জন্য সকল কার্যক্রম বাস্তবায়নে সকলের দৃঢ় প্রত্যয় থাকতে হবে। আমাদের সামনে সামান্যই সুযোগ অবশিষ্ট আছে। এ বিশ্বকে নিরাপদ, আরও সবুজ এবং আরও সমৃদ্ধির পথে এগিয়ে নিতে আমাদের অবশ্যই সফলকাম হতে হবে।

আমরা মনে করি, টেকসই উন্নয়ন ত্বরান্বিত করা এবং শান্তিপূর্ণ ও স্থিতিশীল সমাজ প্রতিষ্ঠার জন্য আঞ্চলিক সহযোগিতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বাংলাদেশ আঞ্চলিক সহযোগিতা বৃদ্ধি করতে সার্ক, বিমসটেক জিইএস, বিসিআইএম-ইসি‘র মত আঞ্চলিক সংস্থা প্রতিষ্ঠায় নেতৃস্থানীয় ভূমিকা পালন করে চলেছে। এছাড়া, বাংলাদেশ, ভূটান, ভারত এবং নেপালের মধ্যে ব্যবসা-বাণিজ্য এবং জনগণের মংধ্যে যোগাযোগ বৃদ্ধির জন্য আমরা অবকাঠামো উন্নয়নের পদক্ষেপ নিয়েছি।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, অভিবাসন এবং মানব চলাচল আজ নতুনভাবে ইতিহাস এবং ভৌগলিক পরিসীমা নির্ধারণে নিয়ামক হয়ে দাঁড়িয়েছে। ২০৩০ উন্নয়ন এজেন্ডায় উন্নয়নের জন্য অভিবাসন একটি গুরুত্বপূর্ণ উপযোগ হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছে। অভিবাসনের পূর্ণ সম্ভাবনাকে কাজে লাগানোর জন্য রাষ্ট্রসমূহের মধ্যে সহযোগিতা প্রয়োজন। এই লক্ষ্যকে সামনে রেখে, উৎস এবং গন্তব্য দেশ হিসেবে আমরা ২০১৬ সালে গ্লোবাল ফোরাম অন মাইগ্রেশন এন্ড ডেভেলপমেন্ট-এর নেতৃত্ব দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছি।

তিনি বলেন, বিগত কয়েক বছরে শান্তিরক্ষা এবং শান্তি নির্মাণ জাতিসংঘের গুরুত্বপূর্ণ কার্যক্রম হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে। জাতিসংঘের শান্তিরক্ষা কার্যক্রমে অন্যতম প্রধান শান্তিরক্ষী প্রেরণকারী দেশ হিসেবে বাংলাদেশ গর্বিত। এ পর্যন্ত আমাদের সাহসী শান্তিরক্ষী বাহিনীর সদস্যগণ বিশ্বের ৪০টি দেশের ৫৪টি মিশনে নিয়োজিত হয়েছেন। আমরা জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে সর্বোচ্চসংখ্যক নারীপুলিশ সদস্য নিয়োজিত করার শ্রেষ্ঠত্ব অর্জন করেছি। জাতিসংঘ শান্তিমিশনে বাংলাদেশের অবদান জাতিসংঘের বিশ্বস্ত অংশীদার করেছে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিগত প্রায় ১৫ বছর আমাদের উন্নয়ন পরিকল্পনার এটি বৃহদাংশ এবং এর বাস্তবায়ন এমডিজিকে ঘিরেই আবর্তিত হয়েছে। এমডিজির সার্বিক অগ্রগতি আমাদের আরও বৃহদাকার, বলিষ্ঠ এবং উচ্চাভিলাষী টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণে অনুপ্রাণিত করেছে। এসডিজিতে যে উচ্চাশা প্রতিফলিত হয়েছে তা বাস্তবায়নে আমাদের সরকারি ও ব্যক্তিখাতসহ অভ্যন্তরীণ এবং আন্তর্জাতিক তহবিলের যোগান অবশ্যই বৃদ্ধি করতে হবে। এজন্য উন্নত দেশগুলোর পূর্ব প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী তাঁদের জিএনআই-এর শূন্য দশমিক ৭ শতাংশ ওডিএ হিসেবে উন্নয়নশীল দেশগুলোকে এবং শূন্য দশমিক ২ শতাংশহারে স্বল্পোন্নত দেশগুলোকে প্রদান জরুরি। পাশাপাশি উন্নয়নশীল দেশগুলোর পরিবেশবান্ধব প্রযুক্তিতে প্রবেশাধিকার ও বিস্তার এবং অভিযোজনের যে সকল চ্যালেঞ্জ রয়েছে তার দ্রুত সমাধান প্রয়োজন। এ ধরণের প্রযুক্তি এবং সক্ষমতা হস্তান্তর ব্যতীত অনেক উন্নয়ন লক্ষ্য বাস্তবায়ন অনার্জিত থেকে যাবে বলে আমার আশঙ্কা।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, চার দশকেরও বেশি আগে, বাঙালি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে তাঁর প্রথম বক্তৃতায় শান্তিপূর্ণ সহ-অবস্থান, সামাজিক ন্যায়বিচার, দারিদ্র্য, ক্ষুধা, বঞ্চনা ও আগ্রাসনমুক্ত একটি বিশ্ব ব্যবস্থা গড়ে তোলার স্বপ্নের কথা বলেছিলেন। তাঁর সেই উদাত্ত আহ্বান আজও আমাদের জাতীয় উন্নয়ন এবং আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে সম্পৃক্ততার পথ প্রদর্শক হিসেবে কাজ করে যাচ্ছে। আমরা বর্তমানে এমন এক বাংলাদেশ বিনির্মাণের পথে এগুচ্ছি যেখানে দারিদ্র্য, অসমতা এবং বিচারহীনতার সংস্কৃতির পরিবর্তে সামাজিক ন্যায়বিচার এবং আইনের শাসন প্রতিষ্ঠিত হবে।

জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে এর আগে আমি‘রূপকল্প-২০২১’ উপস্থাপন করেছিলাম। এর মাধ্যমে আমরা একটি মধ্যম-আয়ের, জ্ঞানভিত্তিক অর্থনীতি অর্থাৎ ‘ডিজিটাল বাংলাদেশ’ গড়ে তুলতে চাই। উন্নয়নের পথে যেভাবে আমরা দৃপ্ত পদক্ষেপে অগ্রসর হচ্ছি, তাতে আমি বিশ্বাস করি, অচিরেই আমরা জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের সমৃদ্ধশালী সোনার বাংলা গড়ে তুলতে পারব।

শেখ হাসিনা তাঁর ভাষণে বলেন, বাংলাদেশ আজ সারা বিশ্বের উন্নয়নশীল দেশগুলোর জন্য রোল মডেল হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছে। আমরা সীমিত সম্পদ দ্বারা বিশ্বের অন্যতম দ্রুততম দারিদ্র্য হ্রাসকারী দেশ হিসেবে নিজেদের পরিচিত করতে সক্ষম হয়েছি। দারিদ্র্যের হার ১৯৯১ সালে যেখানে ৫৬.৭ শতাংশ ছিল, বর্তমানে তা ২২.৪ শতাংশে নেমে এসেছে। বাংলাদেশ ইতোমধ্যেই এমডিজি-১, ২, ৩, ৪, ৫ এবং ৬ অর্জন করেছে অথবা অর্জনের ক্ষেত্রে সঠিক পথেই এগুচ্ছে। বিশ্বমন্দা সত্ব্বেও গত ৬ বছরে জিডিপি’র গড় প্রবৃদ্ধির হার ছিল ৬ দশমিক ২ শতাংশ। ২০০৫-০৬ থেকে ২০১৪-১৫ পর্যন্ত রপ্তানি আয় এবং প্রবাসীদের রেমিটেন্স প্রেরণের পরিমাণ ৩ গুণ বৃদ্ধি পেয়েছে। একই সময়ে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ প্রায় সাড়ে ৭ গুণ বৃদ্ধি পেয়ে চলতি অর্থবছরে ২৬ বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়ে গেছে। এই সময়ের মধ্যে বাংলাদেশ নিম্ন মানবসম্পদ উন্নয়নের দেশ থেকে মধ্যমসারিতে উন্নীত হয়েছে এবং বিশ্ব ব্যাংকের মান অনুযায়ী নিম্ন আয়ের দেশ থেকে নিম্ন মধ্যম আয়ের দেশে উন্নীত হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিপুলসংখ্যক যুব সম্প্রদায়কে মানবসম্পদে পরিণত করার জন্য বিনিয়োগ করা হলে তা ভবিষ্যতে সুফল বয়ে আনবে। এজন্য আমার সরকার শিক্ষা এবং সবার জন্য স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করার উপর সর্বাধিক গুরুত্বারোপ করেছে। আমরা ৬ষ্ঠ থেকে স্নাতক পর্যন্ত ১ কোটি ৩৪ লাখ শিক্ষার্থীকে বৃত্তি ও উপবৃত্তির আওতায় এনেছি। ঝরে পড়া রোধে মেয়েদের উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায় পর্যন্ত শিক্ষাকে সম্পূর্ণ অবৈতনিক করা হয়েছে। এ বছরের প্রথম দিনেই আমরা সারাদেশে প্রাথমিক থেকে মাধ্যমিক পর্যন্ত ৩২ কোটি ৬৩ লাখ ৫০ হাজার পাঠ্যবই বিনামূল্যে বিতরণ করেছি। ২০১০ সাল থেকে এ পর্যন্ত প্রায় ১৫৯ কোটি পাঠ্যপুস্তক বিতরণ করা হয়েছে। সমগ্র বিশ্বে এ ধরণের উদ্যোগ সম্ভবত এটাই প্রথম। আমরা দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলে ৫ হাজার ২৭৫টি ডিজিটাল কেন্দ্র স্থাপন করছি। এগুলো থেকে জনগণ প্রতিদিন দুইশর বেশি সেবা গ্রহণ করছেন। গ্রামাঞ্চলে স্থাপিত তথ্যপ্রযুক্তির সঙ্গে সংযুক্ত প্রায় সাড়ে ১৬ হাজার কমিউনিটি ক্লিনিক ও ইউনিয়ন স্বাস্থ্যকেন্দ্র থেকে উন্নত চিকিৎসা সেবা দেওয়া হচ্ছে।

উৎপাদনমুখী সম্পদে নারীর প্রবেশাধিকার এবং জাতীয় ও স্থানীয় পর্যায়ে তাঁদের প্রতিনিধিত্ব বৃদ্ধির মাধ্যমে নারীর ক্ষমতায়নের ফলাফল দৃশ্যমান হচ্ছে। একইভাবে আমরা আমাদের দরিদ্র জনগোষ্ঠীর প্রয়োজন এবং সমস্যাগুলোকে চিহ্নিত করে অগ্রাধিকারভিত্তিতে সেগুলো সমাধানের উদ্যোগ নিয়েছি। অটিজম ও অন্যান্য বুদ্ধি প্রতিবন্ধিতায় আক্রান্ত ব্যক্তিদের অধিকার আদায়ে জাতিসংঘে আমরা নেতৃস্থানীয় ভূমিকা পালন করছি। আমাদের একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক সমাজ প্রতিষ্ঠার প্রচেষ্টার ফলে এটা সম্ভব হচ্ছে।

শেখ হাসিনা বলেন, এমডিজিলক্ষ্যমাত্রা অর্র্জনের ক্ষেত্রে আমরা যেভাবে কাজ করেছি, তা দৃষ্টান্ত  হিসেবে গ্রহণ করে বাংলাদেশ এসডিজি বাস্তবায়নের ক্ষেত্রেও তার প্রয়োগ ঘটাতে চায়। এসডিজি ফ্রেম ওয়ার্ককে যথাযথ গুরুত্ব দিয়ে বর্তমানে আমরা ২০১৬-২০২০ মেয়াদী নতুন জাতীয় পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনা প্রণয়ন করছি। একটি টেকসই, শান্তিপূর্ণ এবং সমৃদ্ধশালী সমাজ প্রতিষ্ঠায় আমাদের যে আকাঙ্ক্ষা সেখানে কেউ যাতে পিছিয়ে না পড়ে তা নিশ্চিত করতে আমরা অঙ্গীকারাবদ্ধ। সমাজে স্থায়ী শান্তি ও নিরাপত্তার প্রতিষ্ঠিত না হলে আমরা টেকসই উন্নয়নও নিশ্চিত করতে পারবনা। এজন্য আমরা শান্তি সমুন্নত রাখতে সমাজে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা এবং বিচারহীনতার সংস্কৃতির অবসান ঘটাতে বদ্ধপরিকর। এই চেতনা থেকেই আমরা দেশে যুদ্ধাপরাধীদের বিচার করছি। যারা ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের স্বাধীনতাযুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধ করেছে, ধর্ষণ এবং গণহত্যার সঙ্গে জড়িত ছিল, তাদের বিচারের মুখোমুখি দাঁড় করানো হচ্ছে। আমার সরকার ধর্মীয় সম্প্রীতি এবং সহনশীলতা বজায় রাখার ব্যাপারে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেয়। যুগযুগ ধরে এই চর্চা আমাদের সামাজিক কাঠামোরই অংশ হয়ে উঠেছে।

শেখ হাসিনা তাঁর ভাষণে উল্লেখ করেন, সম্প্রতি আমরা আমাদের প্রতিবেশি রাষ্ট্র ভারত এবং মিয়ানমারের সঙ্গে স্থল এবং সমুদ্র সীমানা সমস্যা সংক্রান্ত সমস্যাগুলির শান্তিপূর্ণ সমাধান করেছি। গত ৩১ জুলাই মধ্যরাতে আমরা ভারতের সাথে ১৬২টি ছিটমহল বিনিময় করেছি। যার মাধ্যমে প্রায় ৫০ হাজার রাষ্ট্রবিহীন ছিটমহলবাসী তাঁদের পছন্দের রাষ্ট্রের নাগরিকত্ব গ্রহণ করতে পেরেছেন। তাঁদের দীর্ঘদিনের মানবেতর জীবনের অবসান হয়েছে। এ কাজটি সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করার মাধ্যমে আমরা সমগ্র বিশ্বের কাছে কূটনৈতিক সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করতে সমর্থ হয়েছি। একই চেতনায় আমি আহ্বান জানাচ্ছি, আসুন আমরা সবাই মিলে আমাদের সামষ্টিক অঙ্গীকার অনুযায়ী এমন একটি শান্তিপূর্ণ, নিরাপদ উন্নত বিশ্ব গড়ে তুলি যেখানে দারিদ্র্য এবং অসমতা, সন্ত্রাস ও সহিংস জঙ্গিবাদ, জলবায়ু পরিবর্তন ও সংঘাত, এবং বিদ্বেষ ও বৈষম্য থাকবে না। আসুন, আমরা আমাদের নৈতিক সাহস এবং রাজনৈতিক প্রজ্ঞাকে কাজে লাগিয়ে আমাদের সন্তান এবং পরবর্তী প্রজন্মের জন্য একটি সুন্দর ও নিরাপদ জীবন ও উজ্জ্বল ভবিষ্যত রেখে যাওয়ার সর্বাত্মক উদ্যোগ গ্রহণ করি।

প্রধানমন্ত্রীর ভাষণের সময় অধিবেশন কক্ষে অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আব্দুল মুহিত, পররাষ্ট্রমন্ত্রী এএইচ মাহমুদ আলী, স্থায়ী প্রতিনিধি ড. এ কে আব্দুল মোমেন উপস্থিত ছিলেন।“

 

You Might Also Like