‘অবৈধ প্রধানমন্ত্রী’ হাসিনাকে না বলুন : সাংবাদিক সম্মেলনে জিল্লু

ইউএনএ : প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নিউইয়র্ক সফরকালে ভোটবিহীন নির্বাচনের মাধ্যমে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ সরকারকে ‘অবৈধ সরকার’ আখ্যায়িত করে এই সরকারের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ সমাবেশ করার কর্মসূচী ঘোষণা করেছে যুক্তরাষ্ট্র বিএনপি। ২০ সেপ্টেম্বর রোববার সন্ধ্যায় জ্যাকসন হাইটস্থ বাংলাদেশ প্লাজার কনফারেন্স কক্ষে আয়োজিত এক সাংবাদিক সম্মেলনে এই কর্মসূচী ঘোষণা এবং ‘শেখ হাসিনাকে না বলতে, যেখানেই স্বৈরাচার, সেখানেই গর্জন’-এর প্রত্যয় ব্যক্ত করা হয়।

সাংবাদিক সম্মেলনের শুরুতে স্বাগত বক্তব্য রাখেন যুক্তরাষ্ট্র বিএনপি’র সাবেক সহ সভাপতি মনজুর আহমেদ চৌধুরী এবং সাবেক সাধারণ সম্পাদক জিল্লুর রহমান জিল্লুর পক্ষে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন বিএনপি নেতা বাসেত রহমান। এরপর সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেন জিল্লুর রহমান জিল্লু।

সাংবাদিক সম্মেলনে জিল্লুর রহমান জিল্লু নিউইয়র্কে সদ্য অনুষ্ঠিত এনএবিসি কনভেনশনের এক সেমিনারে দেশের খ্যাতিমান সাংবাদিক ও কলামিস্ট শফিক রেহমানের একটি বক্তব্যকে বিকৃত করে যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের একাংশ কর্তৃক শফিক রেহমানকে যুক্তরাষ্ট্রে অবাঞ্ছিত করার ঘোষণার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানান। এছাড়া সাংবাদিক সম্মেলনে উপস্থিত কেন্দ্রীয় বিএনপি’র নির্বাহী কমিটির সদস্য ও ড্যাব-এর সাবেক মহাসচিব ডা. রফিক চৌধুরী এবং ইঞ্জিনিয়ারিং এসোসিয়েশনের কেন্দ্রীয় মহাসচিব হারুনুর রশীদকে পরিচয় করিয়ে দেয়া হয়।

উল্লেখ্য, জাতিসংঘের ৭০তম সাধারণ অধিবেশনে যোগদান উপলক্ষ্যে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নিউইয়র্ক সফরকালীন সময়ে যুক্তরাষ্ট্র বিএনপি’র বিবদমানগ্রুপগুলো ‘যেখানে হাসিনা, সেখানেই প্রতিবাদ-প্রতিরোধ’ কর্মসূচী নিয়ে পৃথক পৃথক সভা-সমাবেশ করে তাদের অভিন্ন কর্মসূচী সফর করার উদ্যোগ নিয়েছে। এই কর্মসূচীর আলোকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নিউইয়র্কে আসার দিন ২৩ সেপ্টেম্বর জেএফকে আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে বিক্ষোভ সমাবেশ করবে, ২৭ সেপ্টেম্বর প্রধানমন্ত্রীর সম্মানে যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগ আয়োজিত ‘সর্বজনীন সম্বর্ধনা’ সভাস্থল নিউইয়র্ক হিলটন হোটেলের সামনে বিক্ষোভ সমাবেশ এবং ৩০ সেপ্টেম্বর জাতিসংঘের সাধারণ অধিবেশনে ভাষণদানকালীন সময়ে জাতিসংঘ ভবনের সামনে বিক্ষোভ সমাবেশ করবে।

যুক্তরাষ্ট্র বিএনপি’র বিক্ষোভ-সমাবেশ সফল করতে বিএনপি ছাড়াও যুক্তরাষ্ট্র যুবদল, ছাত্রদল, মহিলা দল, স্বেচ্ছাসেবক দল, শ্রমিক দল, জাতীয়তাবাদী ফোরাম, জিয়া মঞ্চ, জিয়া পরিষদ, তারেক রহমান আন্তর্জাতিক পরিষদ প্রভৃতি অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনগুলোর নেতা-কর্মীরা মূলদলকে সার্বিক সহযোগিতা দিচ্ছে। চলছে দলগুলোর লাগাতার বৈঠক আর পর্যালোচনা সভা। কর্মসূচী সফল করতে চলছে ব্যাপক জনসংযোগ।

যুক্তরাষ্ট্র বিএনপি’র সাংবাদিক সম্মেলনে পঠিত লিখিত বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ‘অবৈধ প্রধানমন্ত্রী আখ্যায়িত করে বলা হয়: বাংলাদেশে খুন, গুম, জেল-জুলুম সহ সকল রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাসের শীর্ষ নির্দেশদাতা শেখ হাসিনা জাতিসংঘের সাধারণ অধিবেশনে যোগ দিতে যুক্তরাষ্ট্রে আসছেন। আমরা দেশ প্রেমিক ও গণতন্ত্রকামী সকল প্রবাসী তার (প্রধানমন্ত্রী) উল্লেখযোগ্য সকল যোগদানস্থলে চলমান রাষ্ট্রিয় সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে জোর প্রতিবাদ জানাতে বদ্ধপরিকর। এব্যাপারে ইতিমধ্যেই ২৭ সেপ্টেম্বর জাতিসংঘের সামনে এবং ঐদিন সন্ধ্যায় ম্যানহাটনের হিলটন হোটেলে সম্বর্ধনা স্থলে এবং ৩০ সেপ্টেম্বর সকাল ৯টা থেকে দুপুর ২টা পর্যন্ত জাতিসংঘের সামনে কালো পতাকা প্রদর্শন ও বিক্ষোভ করবে। এব্যাপারে যথাযথ অনুমতিও নেয়া হয়েছে। এছাড়াও শেখ হাসিনার যুক্তরাষ্ট্র আগমন ও যাবার বেলাও তাকে বিমানবন্দরে কালো পাতাকা প্রদর্শন করবো।

লিখিত বক্তব্যে ২৩ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যে ৮টা থেকে রাত ১১টার মধ্যে জেএফকে বিমানবন্দরে অবস্থান নেয়ার পাশাপাশি ১ অক্টোবর ভোর ৫টায় প্রধানমন্ত্রীকে বিদায়ী কালো পতাকা দেখানোর কর্মসূচী জানিয়ে বলা হয়: আমাদের এই সকল কর্মসূচীর একটাই দাবী অবিলম্বে সকল গ্রেফতারকৃত নেতা-কর্মীদের মুক্তি দিয়ে একটি সুষ্ঠু, অবাধ, নিরপেক্ষ ও সারা পৃথিবীর এবং বাংলাদেশের আপামর জনগনের কাছে গ্রহনযোগ্য নির্বাচন দিয়ে দেশকে মুক্তিযুদ্ধের মুল চেতনা গণতন্ত্রের পথে ফিরিয়ে আনা।

সাংবাদিক সম্মেলনে আওয়ামী লীগ সরকারকে ‘ফ্যাসিবাদী সন্ত্রাসী শাসক’ আখ্যায়িত করে এই সরকারের বিরুদ্ধে আয়োজিত সকল বিক্ষোভে দেশপ্রেমিক সকল প্রবাসীদেরকে অংশ নেয়ার বিশেষ অনুরোধ জানানো হয়।

সাংবাদিক সম্মেলনে এক প্রশ্নের উত্তরে জিল্লুর রহমান জিল্লু বলেন, আমরা চাই ভবিষ্যতে দেশের কোন প্রধানমন্ত্রীকে যেনো বিদেশের মাটিতে কালো পতাকা দেখাতে না হয়। আর এটা সম্ভব নির্বাচত সরকারের বৈধ প্রধানমন্ত্রী হলেই। তিনি বলেন, শেখ হাসিনা ভোটারবিহীন নির্বাচনের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী হয়েছেন তাই তাকে অবৈধ প্রধানমন্ত্রী হিসেবে আমরা প্রতিবাদ স্বরূপ কালো পতাকা প্রদর্শণ করবো, বিক্ষোভ-সমবাবেশ করবো। আর এসব সমাবেশ বিগত দিনগুলোর চেয়ে আরো বেশী নেতা-কর্মীর সমাবেশ ঘটবে। তিনি বলেন, ইতিহাস বলেন, সবসময় যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের সমাবেশের চেয়ে বিএনপি’র সমাবেশে লোক সমাগম বেশী হয়েছে, এবারও হবে।

অপর এক প্রশ্নের উত্তরে জিল্লু বলেন, যুক্তরাষ্ট্র বিএনপি’র কমিটি না থাকায় একেক নেতৃত্বে বিক্ষোভ-সমাবেশ কর্মসূচী আহ্বান করা হলেও আমাদের লক্ষ্য, উদ্দেশ্য ও মিশন এক। আমরা মূল জায়গায় ঐক্যবদ্ধ হয়েই কাজ করবো। তিনি বলেন, কেন্দ্রের নির্দেশ বা পরামর্শে নয়, বাংলাদেশে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যেই যুক্তরাষ্ট্র বিএনপির নেতা-কর্মীরা স্বতস্ফুর্তভাবেই ‘অবৈধ সরকার’ বিরোধী বিক্ষোভ-সমাবেশ করবে।

আরেক প্রশ্নের উত্তরে জিল্লুর রহমান জিল্লু বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের মূলধারার নেতৃবৃন্দের সাথে আমাদের যোগাযোগ রয়েছে। কিন্তু সরকারের অবৈধ অর্থের দাপট আর লুটপাটের অর্থে পরিচালিত বিদেশী লবিং-এর সাথে আমাদের কর্ষ্টাজিত অর্থ পেরে উঠছে না।

প্রধানমন্ত্রীর সম্মানে যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগ আয়োজিত সর্বজনীন সম্বর্ধণা অনুষ্ঠান সম্পর্কিত এক প্রশ্নের উত্তরে জিল্লু বলেন এটি সর্বজনীন নয়, যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী সম্বর্ধনা। তিনি বলেন, বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়া প্রধানমন্ত্রী থাকাকালীন সময়ে তাকে সর্বজনীনভাবে সম্বর্ধিত করা হয়েছে। সেই সভায় বাংলাদেশ সোসাইটির সভাপতি সভাপতিত্ব করেছেন, বিএনপি’র সভাপতি নয়। বিএনপি নেতা সভাটি পরিচালনা করলেও অন্যান্য সংগঠনের নেতৃবৃন্দ নিয়ে সম্বর্ধনা সভার আয়োজন করা হয়। কিন্তু আওয়ামী লীগ সর্বজনীনতার নামে দলীয় অনুষ্ঠান করছে।

অপর এক প্রশ্নের উত্তরে জিল্লুর রহমান জিল্লু বলেন, একমাত্র নির্বাচিত গণতান্ত্রিক সরকারের পক্ষেই দেশে সৃষ্ট সকল সমস্যার সমাধান করতে পারে।

সাংবাদিক সম্মেলনে যুক্তরাষ্ট্র বিএনপি, যুবদল ও ছাত্রদল নেতৃবৃন্দের মধ্যে হেলাল উদ্দিন, মো: আনোয়ার হোসেন, ফিরোজ আহমেদ, আব্দুল কুদ্দুস, এবাদ চৌধুরী,বাছেত রহমান,আবু সাইদ আহমদ, মার্শাল মুরাদ, এডভোকেট আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী,ড. নুরুল আমীন পলাশ, আহবাব হোসেন চৌধুরী, আজিমুর রহমান বোরহান, আতিকুল হক আহাদ, শরীফ আহমদ লস্কর, ফিরোজ আহমদ, ড. মো: তারেক রহমান, কাজী মুজিবুর রহমান, কাওছার আহমদ, মোহাম্মদ আলী রাজা, শামীম মাহমুদ মিজান, কাজী আমিনুল ইসলাম স্বপন, মো: রেজাউল আজাদ ভুঁইয়া, শেখ হায়দার আলী, জাহাঙ্গীর,সৈয়দ এনাম, ইকবাল হায়দার, দিলদার হোসেন, জাহিদ আহমদ খান, আশফাক চৌধুরী জামী, নাজিম উদ্দীন চৌধুরী রিংকু, তারিক উল্লাহ চৌধুরী দিপু, কামাল উদ্দীন, আরশাদ খান, রোজী আফরোজ, মৌলানা আবুল কালাম, শাহাদাত হোসেন রাজু, তানিম চৌধুরী, শফিউল আলম সেপু প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

You Might Also Like