ভারতের হিন্দু যুবতী আইএসে যোগ দিতে গিয়ে পিতার কাছে ধরা খেলেন

ভারতের দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয়ের বড় একটি কলেজে পড়া উচ্চশিক্ষিত এক হিন্দু যুবতী আইএসে যোগ দিতে গিয়ে তার বাবার কাছে ধরা পড়েছে। এ ঘটনায় ভারতে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। ওই ছাত্রীর বাবা ভারতীয় সেনাবাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত লেফটেন্যান্ট কর্নেল বলে জানা গেছে।

গোয়েন্দা সংস্থার পক্ষ থেকে ওই যুবতীকে বোঝানোর চেষ্টা করা হচ্ছে সন্ত্রাসী সংগঠন আইএসের সঙ্গে যোগ দেয়ার ভাবনা কত মারাত্মক ভুল। কর্মকর্তারা এ ঘটনাকে সম্পূর্ণ ব্যতিক্রমী বলে মনে করছেন। ২০ বছর বয়সী ওই ছাত্রী পোস্ট গ্র্যাজুয়েট কোর্স করতে ৩বছরের জন্য অস্ট্রেলিয়ায় গিয়েছিলেন। সেখান থেকে ফেরার পরেই তিনি সম্পূর্ণ পরিবর্তিত হয়ে যান। এরপরেই ওই ছাত্রীর বাবা মেয়ের গতিবিধি লক্ষ্য করে জাতীয় তদন্তকারী সংস্থা এনআইএকে বিষয়টি বিস্তারিত জানান।

অবসরপ্রাপ্ত সেনা কর্মকর্তা মেয়ের কাউন্সেলিংয়ের জন্য জাতীয় তদন্ত সংস্থা এনআইএ কর্মকর্তাদের সাহায্য চেয়েছেন। তারা এ ব্যাপারে ইন্টেলিজেন্স ব্যুরোর সঙ্গে যোগাযোগ করেছে। গোয়েন্দা সংস্থা আইবি’র পক্ষ থেকেই এখন বিষয়টি দেখভাল করা হচ্ছে বলে সংবাদ মাধ্যম প্রকাশ করেছে। আইবি’র কর্মকর্তারা এরইমধ্যে বেশ কয়েকবার ওই ছাত্রীকে বোঝানোর চেষ্টা করেছেন।

সংবাদে প্রকাশ, কয়েকমাস আগে ওই ছাত্রীর বাবা মেয়ের কম্পিউটারে আইএসের সঙ্গে সম্পর্কিত ইন্টারনেট যোগাযোগের বিষয়ে জানতে পারেন। এরপর তিনি এ ব্যাপারে খতিয়ে দেখে জানতে পারেন যে, তার মেয়ে আইএসের নিয়োগকারীদের সঙ্গে যোগাযোগ করে এই সংগঠনে যোগ দিয়ে সিরিয়ায় যেতে চাচ্ছে। ওই ছাত্রীর পরিকল্পনা ছিল, আগে তিনি ধর্ম পরিবর্তন করবেন এবং পরে অস্ট্রেলিয়া হয়ে সিরিয়ায় যাবেন।

সম্প্রতি দুই হিন্দুসহ ১০যুবককে সংযুক্ত আরব আমিরাত থেকে ফেরত পাঠানো হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে আইএসের হয়ে প্রচারণার অভিযোগ উঠেছে।

গত মার্চে ভারতের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রাজনাথ সিং জয়পুরে বলেছিলেন, দেশে আইএসের কোনো প্রভাব নেই। ভারতীয় মুসলিম যুবকদের আকৃষ্ট করতে তারা ব্যর্থ হয়েছে। জম্মু-কাশ্মিরে অবশ্য এরইমধ্যে বেশ কয়েকবার আইএসের পতাকা উড়িয়েছে কতিপয় যুবক। এ ব্যাপারে ১১জন যুবককে গোয়েন্দারা নজরে রেখেছেন। এবার অবশ্য সম্পূর্ণ ভিন্ন একটি ঘটনায় তদন্ত শুরু করেছে গোয়েন্দা এজেন্সিগুলো।

You Might Also Like