‘আওয়ামী লীগ জঙ্গিবাদের জুজুর ভয় দেখিয়ে ফায়দা হাসিল করতে চায়’

আওয়ামী লীগ জঙ্গিবাদের জুজুর ভয় দেখিয়ে রাজনৈতিক ফায়দা হাসিল করতে চায় বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া।

শুক্রবার লন্ডন স্থানীয় সময় রাত ১০টায় পশ্চিম লন্ডনের কিংসটনে তারেক রহমানের বাসায় যুক্তরাজ্য বিএনপির নেতাদের সঙ্গে বৈঠককালে তিনি এ মন্তব্য করেন। ব্রিটেনের গার্ডিয়ান পত্রিকাকে দেয়া প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সম্প্রতি বলেছেন, মৌলবাদীরা বাংলাদেশে তৎপরতা বাড়ানোর চেষ্টা করছে এবং কিছু কিছু লোক তাদের মদদ দেয়ার চেষ্টা করছে। শেখ হাসিনা তার দেশে জঙ্গিবাদ দমনে ব্রিটিশ সরকারকে আরো বেশি পদক্ষেপ নেয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।

গার্ডিয়ান পত্রিকাকে দেয়া প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সাম্প্রতিক বক্তব্যের প্রতিক্রিয়ায় বিএনপি চেয়ারপারসন বলেন, দেশে জঙ্গি তৎপরতার সাম্প্রতিক ঘটনাগুলো সরকারের পরিকল্পিত।

বর্তমান সরকারের কাছে দেশ আজ জিম্মি এমন অভিযোগ করে বিএনপি চেয়ারপারসন বলেন, গুম, হত্যা, রাহাজানি আজ দেশে নিত্যনৈমিত্তিক বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। সরকারি পৃষ্ঠপোষকতায় বিরোধীদলীয় নেতাকর্মীদের গুম করা হচ্ছে। মিথ্যে মামলায় বিরোধী রাজনৈতিক নেতাদের নিক্ষেপ করা হচ্ছে কারাগারে।

খালেদা জিয়া বলেন, বাংলাদেশে একটি নির্বাচন জরুরি হয়ে পড়েছে। বর্তমান সরকার গায়ের জোরে ক্ষমতায় টিকে আছে। শতকরা পাঁচ ভাগ জনপ্রিয়তা নিয়ে এই সরকারের ক্ষমতায় থাকার কোনো নৈতিক ভিত্তি নেই। তাই অবিলম্বে বাংলাদেশে একটি নির্বাচন জরুরি।

তিনি বলেন, দেশ একটি কঠিন সময় পার করছে। দেশে গণতন্ত্র, মানবাধিকার ও আইনের শাসন নেই। বিচার বিভাগ নিয়ন্ত্রণ করছে সরকার। দেশে কোনো সুবিচার আশা করা যায় না। প্রতিবাদ করলে জেল-জুলুম ও নির্যাতনের শিকার হতে হয়।

প্রবাসী নেতাদের উদ্দেশে বিএনপি চেয়ারপারসন আরও বলেন, আজকে দেশের এই ক্রান্তিলগ্নে দেশকে গণতান্ত্রিক ধারায় ফিরিয়ে আনতে নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে অবাধ, নিরপেক্ষ নির্বাচন আদায়ে বর্তমান ‘অবৈধ’ সরকারকে বাধ্য করতে প্রতিটি প্রবাসীকে যার যার অবস্থান থেকে কাজ করতে হবে।

বৈঠকে যুক্তরাজ্য বিএনপির প্রধান উপদেষ্টা শায়েস্তা চৌধুরী কুদ্দুস, যুক্তরাজ্য বিএনপির সভাপতি এম এ মালেক, সাধারণ সম্পাদক কয়ছর এম আহমদ, সহসভাপতি আব্দুল হামিদ চৌধুরী, ফরিদ উদ্দিন, লুৎফুর রহমান, মামুন চৌধুরী, শেখ শামসুদ্দিন শামীম, আবুল কালাম আজাদ ছাড়াও বিএনপির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমানের মানবাধিকারবিষয়ক উপদেষ্টা ব্যারিস্টার এম এ সালাম উপস্থিত ছিলেন।

এদিকে, বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া গত মঙ্গলবার রাত সাড়ে ৯টায় এমিরেটস এয়ারলাইনসের একটি ফ্লাইটে ঢাকা থেকে যুক্তরাজ্য সফরে যান। হিথ্রো বিমানবন্দরের ভিআইপি টার্মিনালে খালেদা জিয়াকে অভ্যর্থনা জানান তার বড় ছেলে বিএনপির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমান, যুক্তরাজ্য বিএনপির সভাপতি এমএ মালেক ও সাধারণ সম্পাদক কয়ছর এম আহমেদ।

লন্ডন সফরে খালেদা জিয়ার সঙ্গে সফরসঙ্গী হিসেবে গেছেন তার ছোট ভাই শামীম এস্কান্দার, স্ত্রী কানিজ ফাতিমা, একান্ত সচিব আবদুস সাত্তার ও গৃহকর্মী ফাতেমা বেগম।

১৬ দিনের ব্রিটেন সফরকালে দেশটির ক্ষমতাসীন দল ও বিরোধীদলের উচ্চ পর্যায়ের প্রতিনিধি ছাড়াও কয়েকটি আন্তর্জাতিক সংস্থার কূটনীতিকদের সঙ্গে বিএনপি চেয়ারপারসনের বৈঠকের কথা রয়েছে বলে দলের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।

সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া এবার ব্রিটেনেই ঈদ উদযাপন করবেন। তা হবে বিদেশের মাটিতে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে তার জীবনের প্রথম ঈদ উদযাপন। ইতোমধ্যেই তার ছোট ছেলে মরহুম আরাফাত রহমান কোকোর স্ত্রী শামিলা রহমান, দুই মেয়ে জাহিয়া ও জাফিয়া লন্ডনে তারেক রহমানের বাসায় অবস্থান করছেন।

You Might Also Like