পবিপ্রবিতে ছাত্রলীগের দু’গ্রুপের সংঘর্ষ: প্রক্টরসহ আহত ১০

বাসে সিটে বসাকে কেন্দ্র করে পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (পবিপ্রবি) ছাত্রলীগের দু’গ্রুপের দফায় দফায় সংঘর্ষে বিশ্ববিদ্যালয় প্রক্টর ও ছাত্রলীগ সভাপতিসহ কমপক্ষে ১০ জন আহত হয়েছে।

এ সংঘর্ষের সময় বিশ্ববিদ্যালয়ের শের-ই-বাংলা ও এম কেরামত আলী হলের বেশ কয়েকটি কক্ষে ব্যাপক ভাঙচুর চালানো হয়। এছাড়া আবাসিক হলে সামনে আগুন লাগিয়ে দেয় ছাত্রলীগ নেতাকর্মীরা।

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ক্যাম্পাসে অতিরিক্ত পুলিশ ও র‌্যাব মোতায়েন করা হয়েছে।

রোববার রাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের বাসে (বরিশাল-ক্যাম্পাস) সিটে বসাকে কেন্দ্র করে খাদ্য ও পুষ্টি বিজ্ঞানের ৮ম সেমিস্টারের কামরুল ইসলামের সাথে বিবিএ এর ৮ম সেমিস্টারের মেহেদী হাসান উজ্জলের সাথে কথা কাটাকাটার এক পর্যায় হাতাহাতি হয়। এর জেরে ছাত্রলীগ নেতা কামরুল ইসলামের অনুসারীরা বিশ্ববিদ্যালয়ের জয়বাংলার চত্ত্বরে মেহেদী হাসান উজ্জল ও তার বন্ধু রাতুল খানকে মারধর করে । এ খবর ছড়িয়ে পড়লে উজ্জল ও রাতুলের অনুসারীরা একত্রিত হয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের এম কেরামত আলী হল থেকে লঠিসোটা নিয়ে শেরে-ই-বাংলা হলের বিভিন্ন কক্ষে ভাঙচুর চালায়। এসময় তারা কামরুল অনুসারীদের কয়েকজনকে মারধর করলে সংঘর্ষ বেধে যায়। রাত ১১টার পর দফায় দফায় সংঘর্ষ চলতে থাকে। রাতে দুমকি থানা পুলিশ সদস্যরা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে ব্যর্থ হলে সহকারী পুলিশ কমিশনারের সাহেব আলী পাঠানের নেতৃত্বে পটুয়াখালী থেকে দাঙ্গা পুলিশ রাত ২টায় বিশ্ববিদ্যালয় প্রবেশ করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

রাতে পরিস্থিতি কিছুটা থমথমে থাকার পর আজ সোমবার সকালে পুলিশের উপস্থিতিতে ফের সংঘর্ষে জড়ায় ছাত্রলীগের দু’গ্রুপ। এসময় এম কেরামত আলী হলের বিভিন্ন কক্ষে ব্যাপক ভাংচুর চালায় ছাত্রলীগ। পরে ১১টার দিকে ক্যাম্পাসে র‌্যাব প্রবেশ করলে পরিস্থিতি শান্ত হয়।

দফায় দফায় সংঘর্ষে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর সন্তোষ কুমার বোস, ছাত্রলীগ সভাপতি আনিসুজ্জামান আনিস, ছাত্রলীগের দপ্তর সম্পাদক মার্শাল অভি, এম কেরামত আলী হল শাখার সাংগঠনিক সম্পাদক মোহাইমিনুল ইসলামসহ কমপক্ষে ১০জন আহত হয়েছে। সংঘর্ষে গুরুত্বর আহত মোহাইমিনুল, তানিম, অভি, তাজিন ও মুন্নাকে বিশ্ববিদ্যালয় হেলথ কেয়ার সেন্টারে ভর্তি করা হয়েছে। অন্যদের প্রাথমিক চিকিৎসা দেয়া হয়েছে। শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত ক্যাম্পাসে থমথমে পরিবেশ বিরাজ করছে। পরবর্তীতে সংঘর্ষ এড়াতে পুলিশ ও র‌্যাব মোতায়েন রয়েছে।

দুমকি থানার ওসি আযম ফারুকী বলেন, বর্তমানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আছে। পরবর্তীতে সংঘর্ষ এড়াতে পুলিশ সতর্ক রয়েছে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর সন্তোষ কুমার বোস দুই পক্ষের কয়েকজন কর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনার কথা স্বীকার করেছেন।

You Might Also Like