মুক্তিপণ না পেয়ে দুই ছাত্রকে নদীতে ফেলে হত্যা

সাভারে দুই ছাত্রকে অপহরণের পর ধলেশ্বরী নদীতে ফেলে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা। নিহতরা হলেন সাভার বিশ্ববিদ্যালয় কলেজের ছাত্র মুনসের আলী ও মানিকগঞ্জের খাঁন বাহাদুর আওলাদ হোসেন কলেজের ছাত্র মনির হোসেন।

তাদের অপহরণের পর মুক্তিপণ দাবি করে না পাওয়ায় হাত পা বেঁধে সাভারের ধলেশ্বরী নদীতে ফেলে হত্যা করা হয় বলে পুলিশের কাছে স্বীকার করেছে অপহরণকারী চক্রটির নেতা বাদশা মিয়া।

তার দেওয়া তথ্য মতে নদী থেকে ওই দুই ছাত্রের মরদেহ উদ্ধারে রোববার সকাল থেকে অভিযান চালাচ্ছে পুলিশ। কেন্দ্রীয় ফায়ার সার্ভিসের একটি ডুবরি দল ধলেশ্বরী নদীর হেমায়েতপুর পয়েন্টের শহীদ রফিক সেতু এলাকায় অভিযান চালাচ্ছে।

এরআগে গত শনিবার সাভারের বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে অপহরণকারী চক্রের নেতাসহ ছয় সদস্যকে আটক করে সাভার মডেল থানা পুলিশ।

সাভার মডেল থানা পুলিশ জানায়, গত ২৫ আগস্ট সাভার বিশ্ববিদ্যালয় কলেজে পড়–য়া মুনসের আলী নামের এক ছাত্রকে তার বাসা থেকে ডেকে নিয়ে যায় অপহরণকারী চক্রটির নেতা বাদশা মিয়া। মুনসের আলী পড়ালেখার পাশাপাশি রংয়ের কাজ করতেন। রংয়ের কাজ করানোর কথা বলেই তাকে বাসা থেকে ডেকে নেয় বাদশা। পরে তার বড় ভাইয়ের কাছে মুক্তিপণ দাবি করে বাদশা ও তার সহযোগীরা। মুক্তিপণ না পাওয়ায় কিছু সময়ের মধ্যে ধলেশ্বরী নদীর হেমায়েতপুর এলাকার শহীদ রফিক সেতুর নিচে মুনসেরকে ডুবিয়ে হত্যা করে বাদশা ও তার সহযোগীরা। লাশ যেন ভেসে না ওঠে সেজন্য ইট ও কংক্রিট বেঁধে মুনসেরকে নদীতে ফেলে দেয়ার কথা স্বীকার করে বাদশা।

এর পর ১০ সেপ্টেম্বর আরো এক শিক্ষার্থীকে অপহরণ করে বাদশা ও তার সহযোগীরা। সাভারে চাকরি দেয়ার কথা বলে মানিকগঞ্জের খাঁন বাহাদুর আওলাদ হোসেন কলেজের শিক্ষার্থী মনির হোসেনকে সাভারে নিয়ে আসে বাদশা। পরে তার পরিবারের কাছে মুক্তিপণ দাবি করে। মুক্তিপণ না পাওয়ায় সেদিনই মনিরকে হাত-পা বেঁধে ধলেশ্বরী নদীতে ফেলে হত্যা করে অপহরণকারীরা। অপহরণকারী বাদশা ও শিক্ষার্থী মনিরের বাড়ি মানিকগঞ্জের একই স্থানে। মনিরের বাবা কুয়েতপ্রবাসী।

এই দুই ঘটনায় সাভার মডেল থানা ও মানিকগঞ্জ সদর থানায় পৃথক দুটি জিডি করে নিহত শিক্ষার্থীদের পরিবার।

ঢাকা জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আশরাফুল আজীম রাইজিংবিডিকে জানান, প্রথম অপহরণের ঘটনাটি তদন্তে সাভার মডেল থানা পুলিশ তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তা নেয়। এরই মধ্যে দ্বিতীয় অপহরণের ঘটনাটি ঘটে। দুটি অপহরণের ঘটনায় একই নম্বর থেকে মুক্তিপণ দাবি করা হলে পুলিশ নিশ্চিত হয় একই চক্র দুটি ঘটনার সঙ্গে জড়িত। কল রেকর্ড পর্যালোচনা করে অপহরণকারীদের চিহ্নিত করা হয়। এরপর ট্র্যাকিংয়ের মাধ্যমে তাদের অবস্থান নিশ্চিত হয়ে বাদশা ও তার পাঁচ সহযোগীকে আটক করা হয়। বাদশার সহযোগীরা হল আক্তারুজ্জামান, শুক্কুর আলী, মনোয়ার হোসেন, আজগর আলী ও লাল মিয়া।

You Might Also Like