নোবেল শান্তি পুরস্কারের মনোনয়ন পেলেন নরঘাতক মিশরের সিসি!

সামরিক ক্যু’র মাধ্যমে গণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচিত প্রেসিডেন্টকে সরিয়ে অবৈধভাবে ক্ষমতায় আসা মিশরের স্বৈরশাসক আবদেল ফাত্তাহ আল সিসিকে ২০১৫ সালের নোবেল শান্তি পুরস্কারের জন্য মনোনয়ন দেয়া হয়েছে!
২০১৩ সালে অবৈধভাবে ক্ষমতা দখলের পর তাকে মেনে নিতে অস্বীকৃতি জানানোর কারণে নিজ দেশের সহস্রাধিক বিক্ষোভরত নাগরিককে হত্যা করা সিসিকে নোবেল পুরস্কারের মনোনয়ন দেয়ার যুক্তি হিসেবে “শান্তি ছড়িয়ে দিতে এবং মিশরকে অনিবার্য বিপদ থেকে রক্ষা করার তার পদক্ষেপ”-এর কথা বলা হয়েছে। জাতিসংঘের শিল্প বিষয়ক সংস্থা ইউএনআর্টস-এর মধ্যপ্রাচ্য অফিস এ মনোনয়ন দিয়েছে।
গত রোববার সংস্থাটির এক বিবৃতিতে বলা হয়, “প্রেসিডেন্ট সিসি যেহেতু সন্ত্রাসবাদ এবং এই অঞ্চলের সহিংসতার জন্য দায়ী হুমকিগুলো মোকাবিলায় সংগ্রাম করে যাচ্ছেন এবং উগ্রপন্থীদের আদর্শচিন্তা পরিবর্তন করে দেয়া পাশাপাশি উপদলগত কোন্দলের মূলোৎপাঠন করছেন ফলে তাকে এই পুরস্কারের জন্য মনোনয়ন দেয়া হয়েছে।”
ইতোমধ্যে মনোনয়ন নরোজিয়ান নোবেল পিস প্রাইজ কমিটি, ইউএনআর্টস’র নিউইয়র্কের সদরদপ্তর এবং বিশ্বজুড়ে আঞ্চিলক কার্যালয়গুলোতে পাঠানো হয়েছে বলে সংস্থাটির আফ্রিকা ও মধ্যপ্রাচ্য পরিচালক নাবিল রিজক গত বুধবার জানিয়েছেন।
বিবৃতিতে আরো বলা হয়, বিশ্বব্যাপী সন্ত্রাস দমনে নিজের প্রাজ্ঞ চিন্তাভাবনা, মানবিক বিপর্যয় সংক্রান্ত বিভিন্ন ইস্যুতে উদ্বেগ এবং দুর্নীতির বিরুদ্ধে লড়াইরত মানুষকে সহযোগিতা করা মানসিকতার কারণে সিসি নোবেল শান্তি পুরস্কারের জন্য একজন যোগ্য প্রার্থী। এখন পর্যন্ত চলতি বছর ২৭৬ টি মনোনয়ন পেয়েছে নোবেল কমিটি। এর মধ্যে ৪৯টি সংস্থা এবং ২২৭ জন ব্যক্তি রয়েছেন।
সিসির বিরুদ্ধে বিক্ষোভ দমনে সশস্ত্র বাহিনীকে ব্যবহার করে শত শত মানুষকে হত্যার অভিযোগে যুদ্ধাপরাধের অভিযোগ করে আসছে মানবাধিকার সংস্থাগুলো। তবে সৌদি আরব এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রত্যক্ষ সমর্থনে তিনি এসবকে মোটেই পাত্তা দেন না। যদিও গত মাসে আফ্রিকান ইউনিয়নের শীর্ষ সম্মেলনে যোগ দিলে যুদ্ধাপরাধের অভিযোগে গ্রেফতার হতে পারেন, এমন আশংকায় দক্ষিণ আফ্রিকা সফর বাতিল করেছিলেন স্বৈরশাসক সিসি।

You Might Also Like