শরণার্থী বণ্টনে কোটার ঘোষণা করবে ইউরোপ

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর সবচেয়ে কঠিন শরণার্থী সংকট পরিস্থিতি মোকাবিলা করছে ইউরোপ। এ পর্যন্ত প্রায় সাড়ে ৩ লাখ শরণার্থী ভূমধ্যসাগর দিয়ে ইউরোপে প্রবেশ করেছে। জাতিসংঘের হিসাবে আগামী বছরের মধ্যে ইউরোপে সাড়ে ৮ লাখ শরণার্থী প্রবেশ করবে। সংকট মোকাবিলায় এবার ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) কোটা পরিকল্পনা ঘোষণা করতে যাচ্ছে। বুধবার ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট জিন ক্লড জাঙ্কার এ বিষয়ে নতুন পরিকল্পনা ঘোষণা করবেন।

নতুন পরিকল্পনা অনুযায়ী, ১ লাখ ২০ হাজার শরণার্থীকে ইইউভুক্ত দেশগুলোর মধ্যে ভাগ করে দেওয়া হবে। এ ছাড়া কোন দেশ কতজন শরণার্থী নেবে, সে বিষয়ে বাধ্যতামূলক কোটার প্রস্তাবও রাখা হয়েছে।

সংঘাতপূর্ণ পরিস্থিতির কারণে সিরিয়া, ইরাক, আফগানিস্তান ও আফ্রিকার কয়েকটি দেশের নাগরিকরা ভূমধ্যসাগর পাড়ি দিয়ে ইউরোপে প্রবেশ করছে। গত সপ্তাহে ইউরোপমুখী শরণার্থীদের রীতিমতো ঢল নামে। মেসিডোনিয়া প্রথমে সীমান্তে কয়েক হাজার শরণার্থীকে আটকে রাখলেও পরে তাদের প্রবেশ করতে দেয়। শরণার্থীরা যাতে অস্ট্রিয়া কিংবা জার্মানিতে প্রবেশ করতে না পারে সে জন্য আন্তর্জাতিক ট্রেন বন্ধ করে দিয়েছিল হাঙ্গেরি। তুরস্কের সৈকতে সিরীয় শরণার্থী শিশু আইলানের মৃতদেহের ছবি গণমাধ্যমে প্রকাশের পর শরণার্থী সংকট ইস্যুতে ইউরোপীয় নেতাদের ভূমিকা নিয়ে সমালোচনা শুরু হয়। সোমবার সকাল পর্যন্ত জার্মানিতেই প্রবেশ করেছে ২৬ হাজারের বেশি শরণার্থী। ওই দিন মেসিডোনিয়ায় প্রবেশ করেছে ৭ হাজার সিরীয় শরণার্থী। এ ছাড়া গ্রিসের বিভিন্ন দ্বীপে এখন অবস্থান করছে প্রায় ৩০ হাজার শরণার্থী।

এর আগেও সদস্যভুক্ত দেশগুলোর মধ্যে ইইউ শরণার্থীদের ভাগ করে নেওয়ার প্রস্তাব দিয়েছিল। তখন অনেক দেশই এর বিরোধিতা করেছিল। নতুন প্রস্তাবে যে বাধ্যতামূলক কোটার বিধান রাখা হয়েছে চেক প্রজাতন্ত্র, স্লোভাকিয়া, পোল্যান্ড ও রোমানিয়া তার বিরোধিতা করেছে। তবে মঙ্গলবার পোল্যান্ড তার আগের অবস্থান থেকে একটু সরে এসেছে। দেশটির প্রধানমন্ত্রী ইওয়া কোপাজ বলেছেন, এর আগে পোল্যান্ড যে ২ হাজার শরণার্থীকে আশ্রয়ের ঘোষণা দিয়েছিল, সেই সংখ্যা আরো বাড়াতে চাইছেন তিনি। তবে হাঙ্গেরি তার আগের অবস্থান থেকে সরে আসেনি। সার্বিয়া সীমান্ত দিয়ে যাতে কোনো শরণার্থী প্রবেশ করতে না পারে, সে জন্য ওই এলাকায় কাঁটাতারের বেড়া নির্মাণকাজ জোরেশোরে শুরু করেছে দেশটি। জার্মানি জানিয়েছে, তারা সিরীয় শরণার্থীদের স্বাগত জানাবে। চলতি বছর ৮ লাখ শরণার্থীকে জার্মানি আশ্রয় দেবে। দেশটির ভাইস চ্যান্সেলর সিগমার গ্যাব্রিয়েল জানিয়েছেন, সামনের দিনগুলোতে প্রতিবছর তার দেশ ৫ লাখ শরণার্থীকে আশ্রয় দেবে।

ইইউর নতুন প্রস্তাব অনুযায়ী, যেসব শরণার্থী এখন ইতালি, গ্রিস ও হাঙ্গেরিতে রয়েছে, তাদের ৬০ শতাংশ জার্মানি, ফ্রান্স ও স্পেনের মধ্যে ভাগ করে দেওয়া হবে। শরণার্থী বণ্টনের ক্ষেত্রে ওই দেশটির জাতীয় আয়, জনসংখ্যা, বেকারত্বের হার ও ইতিমধ্যে সেখানে আবেদিত শরণার্থীর সংখ্যা বিবেচনা করা হবে। এ ছাড়া কোনো দেশ যদি শরণার্থী গ্রহণে অস্বীকৃতি জানায়, তাহলে আর্থিক দণ্ডেরও বিধান রাখা হয়েছে। মধ্যপ্রাচ্য ও আফ্রিকার দেশগুলো থেকে যেন আর শরণার্থী হয়ে কাউকে না আসতে হয়ে সে জন্য ওই সব দেশের অর্থনৈতিক অবস্থার উন্নয়নে সহযোগিতা ও মানব পাচার প্রতিরোধের পরিকল্পনার কথাও উল্লেখ করা হয়েছে প্রস্তাবে।

কোটার সমর্থনে জার্মান চ্যান্সেলর অাঙ্গেলা ম্যার্কেল বলেছেন, ‘এটি গুরুত্বপূর্ণ প্রথম পদক্ষেপ।’

মঙ্গলবার সুইডিশ প্রধানমন্ত্রী স্টিফেন লোফভোনের সঙ্গে সাক্ষাৎকালে তিনি এ কথা বলেন।

You Might Also Like