স্পিকারের চিঠিতে সংসদের সার্বভৌমত্ব ক্ষুণœ ও সংবিধানের অপব্যখ্যা হয়েছে: লতিফ সিদ্দিকী

সাবেক মন্ত্রী ও আওয়ামীলীগ থেকে বহিষ্কৃত আব্দুল লতিফ সিদ্দিকী বলেছেন, সংসদ সদস্যের আসন বিষয়ে স্পিকারের চিঠিতে সংসদের সার্বভৌমত্ব ক্ষুণœ ও সংবিধানের অপব্যাখ্যা হয়েছে। মঙ্গলবার জাতীয় সংসদে এক লিখিত বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। লতিফ বলেন, বিনা শুনানিতে এভাবে সংসদ সদস্যের আসন বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেয়ার ব্যাপারে নির্বাচন কমিশনকে চিঠি দেয়া যথাযথ কী-না সে ব্যাপারে প্রশ্ন থেকেই যায়।
সংবিধানের ৬৬ অনুচ্ছেদের ৪ দফা উল্লেখ করে লতিফ বলেন, বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশনে স্পিকার প্রেরিত চিঠি সম্পর্কে যথেষ্ট আপত্তি রযেছে। এক্ষেত্রে ৬৬ অনুচ্ছেদের ২ দফা এবং সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদের নির্দেশনার ব্যাপারটি স্পষ্ট। এই স্পষ্ট বিষয়টি মাননীয় স্পিকারের বরাতে অস্পষ্ট ও ধূসর হযেছে।
গত বছরের ১৯ সেপ্টেম্বর যুক্তরাষ্ট্রে হজ ও তাবলীগ জামায়াত নিয়ে আপত্তিকর বক্তব্য দেয়ায় তিনি মন্ত্রিসভা, দলের সকল পদ থেকে বহিষ্কৃত হন। এবিষয়ে লতিফ সিদ্দিকী সংসদে বলেন, ধর্মান্ধ মৌলবাদী গোষ্ঠী ধর্মের অপব্যাখ্যা দিয়ে আমাকে হেয় করেছে। একই সাথে আমাকে সরকারের প্রতিপক্ষ বানাতে ধর্মকে ব্যবহার করা হয়েছে। তিনি তার বক্তব্যের শুরুতেই নিজেকে বাঙ্গালী, মুসলিম ও একজন আওয়ামী লীগার বলে দাবি করেন।
তিনি বলেন, এই পরিচয় মুছে দেয়ার মতো শক্তি পৃথিবীর কারো নেই। কিন্তু জীবনের শেষ প্রান্তে এসে আমার ধর্ম কুঠরিতে আলোড়ন আন্দোলন দেখা দিয়েছে। আমি বলতে চাই আমি ধর্মবিরোধী নই। আমি সা”চা মুসলমান। ধর্ম অনুরাগী। যে ফরজ একবার করার কথা বলা হয়েছে সে হজ্জ আমি নিজেও করেছি। যারা ফরজ তরক করে সুন্নত মুস্তাহাব নিয়ে ছুটে তাদের সাথে আমার ভিন্নতা রয়েছে। তবে রাজনৈতিক জীবনে এখনো যেমন বঙ্গবন্ধুর আদর্শকে লালন করছেন ভবিষ্যতেই এর ব্যতিক্রম হবে না বলে জানান লতিফ সিদ্দিকী।
সংসদে দেয়া তার বক্তব্যে তিনি বলেন, সবার আগে ঠিক করতে হবে রাজনৈতিক সংস্কৃতি কি হবে। বাঙালি আত্মপরিচয়ের সড়ক ঘোষণায় স্কুল ও কলেজ জীবনে চারবার বহিস্কার হতে হয়েছে। এমপি পদ থেকে তাকে অপসারণে নির্বাচন কমিশনের এখতিয়ার নিয়ে প্রশ্ন তোলেন তিনি। এসময় তিনি বলেন, আমি অনুমিত হয়েছি আমার নেতার অভিপ্রায় আমি সংসদ থেকে পদত্যাগ করি। কর্মী হিসেবে আমি সব সময় অনুগত ছিলাম। কারও বিরুদ্ধে আমার কোনো অভিযোগ নেই। জাতীয় সংসদের ১৩৩ নম্বর টাঙ্গাইল-৪ আসন থেকে পদত্যাগ করলাম।
পরে লতিফ সিদ্দিকী স্পিকারের কাছে পদত্যাগপত্র জমা দেবেন বলে জানান। সন্ধ্যার কিছু সময় পর লতিফ সিদ্দিকী সংসদ অধিবেশনে অংশ নিয়ে প্রথম সারির নির্ধারিত আসনে বসেন। নিউ ইয়র্কে পবিত্র হজ ও তাবলীগ জামায়াত নিয়ে বিতর্কিত মন্তব্য করার জেরে দল ও মন্ত্রিসভা থেকে বহিষ্কৃত হন তিনি। দল থেকে বহিষ্কার হওয়ার পর তার সংসদ সদস্য পদ থাকা না থাকার বিষয়ে নির্বাচন কমিশনের শুনানিতে অংশ নিয়ে লতিফ সিদ্দিকী ঘোষণা দিয়েছিলেন সংসদ থেকে তিনি পদত্যাগ করবেন। অধিবেশনে বক্তব্য শেষ করেই তিনি তার পদত্যাগের চূড়ান্ত ঘোষণা দেন।

You Might Also Like