আদমশুমারি নিয়ে উত্তপ্ত রাজনীতি, মুসলিম জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণের দাবি আদিত্যনাথের

ভারতে ধর্মভিত্তিক আদমশুমারি রিপোর্ট প্রকাশ হওয়ার পর থেকে রাজনৈতিক ময়দান উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে। বিহারে আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনের মুখে কেন্দ্রীয় সরকার এই রিপোর্ট প্রকাশ করায় কংগ্রেসের পক্ষ থেকে সমালোচনা করা হয়েছে।

কংগ্রেস নেতা শাকিল আহমেদ জানান, ‘দেশে পরিবার পরিকল্পনা নিয়ে সচেতনতা বাড়ায় হিন্দু, মুসলিম, শিখ এবং খ্রিস্টানসহ অন্যদের ক্ষেত্রে জনসংখ্যার বৃদ্ধির হার আগের দশকের তুলনায় কমেছে। কিন্তু সরকারি প্রেস বিবৃতিতে হিন্দু জনসংখ্যা কমেছে এবং মুসলিম জনসংখ্যা বেড়েছে বলে বার্তা দেয়ার চেষ্টা হয়েছে। সরকারই যদি এ ভাবে এক সম্প্রদায়ের সঙ্গে অন্য সম্প্রদায়কে লড়িয়ে দেয়ার চেষ্টা করে, তাহলে দেশকে কে বাঁচাবে?

২০০১ সালে মুসলিম জনসংখ্যার বৃদ্ধির হার ছিল ২৯.৫২ শতাংশ। ২০১১ সালে এই বৃদ্ধির হার কমে ২৪.৬০-এ দাঁড়িয়েছে। অন্যদিকে, ২০০১ সালে হিন্দু জনসংখ্যা বৃদ্ধির হার ছিল ১৯.৯২ শতাংশ। ২০১১ সালে এই বৃদ্ধির হার ১৬.৭৬ শতাংশে দাঁড়িয়েছে।

অর্থাৎ দেখা যাচ্ছে, মুসলিম জনসংখ্যা বৃদ্ধির হার ৫ শতাংশ কমেছে। অন্যদিকে, হিন্দু জনসংখ্যা বৃদ্ধির হার কমেছে মাত্র ৩ শতাংশ।

এভাবে হিন্দুদের তুলনায় মুসলিম জনসংখ্যা বৃদ্ধির হার অনেকটাই কমে আসলেও মুসলিম জনসংখ্যা বৃদ্ধি নিয়ে নেতিবাচক প্রচারণা সৃষ্টি হচ্ছে বলে কংগ্রেসের অভিযোগ।

২০০১ থেকে ২০১১ সাল পর্যন্ত আদমশুমারি রিপোর্টে প্রকাশ, সারা দেশে মোট জনসংখ্যা ১২১.০৯ কোটি। এরমধ্যে হিন্দু জনসংখ্যা ৯৬.৬৩ কোটি। অন্যদিকে, মুসলিম জনসংখ্যা মাত্র ১৭ কোটি ২২ লাখ।

২০০১ সালে দেশে মুসলিম জনসংখ্যার হার ছিল ১৩.৪৩ শতাংশ। ২০১১ সালে দেশে জনসংখ্যার ১৪.২৩ শতাংশ হয়েছে মুসলিম। অর্থাৎ দশ বছরে মুসলিম জনসংখ্যা বৃদ্ধি পেয়েছে মাত্র ০.৮ শতাংশ।

বিজেপি মুখপাত্র সম্বিত পাত্র অবশ্য কংগ্রেসের দাবি খারিজ করে দিয়ে বলেছেন, ‘কংগ্রেস মিথ্যা প্রচার করছে। প্রশাসনিক সুবিধার জন্যই এই রিপোর্ট প্রকাশ করা হয়েছে।’

সম্বিত পাত্র এভাবে কংগ্রেসের সমালোচনা মোকাবিলা করার চেষ্টা করলেও উত্তর প্রদেশের বিজেপি নেতা এবং এমপি যোগী আদিত্যনাথ বলেছেন, ‘মুসলিমদের সংখ্যা যেভাবে বাড়ছে, তা অত্যন্ত উদ্বেগজনক। ওদের জনসংখ্যার ওপর নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখতে কেন্দ্রীয় সরকারকে অবিলম্বে ব্যবস্থা নিতে হবে।’

তিনি বলেছেন, ‘আদমশুমারির পরিসংখ্যানের মধ্যে গুরুতর সতর্কতা সঙ্কেত আছে। এখন সময় এসে গেছে দেশের একতা এবং অখণ্ডতা রক্ষার জন্য কার্যকর জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণ আইন নিশ্চিত করতে ‘অভিন্ন দেওয়ানি বিধি’ সারা দেশে চালু করা।’

যোগী আদিত্যনাথের মন্তব্য প্রসঙ্গে কংগ্রেস নেতা খুরশিদ আহমদ সৈয়দ বলেছেন, ‘এটা শুধু যোগী আদিত্যনাথের কথা নয়, নরেন্দ্র মোদিরও কথা। বিভাজনের রাজনীতির বিষ ছড়াতে চাচ্ছে বিজেপি। বিহারে আসন্ন নির্বাচনের দিকে লক্ষ্য রেখেই এসব করা হচ্ছে।’

এভাবে আদমশুমারি রিপোর্ট প্রকাশ হওয়ার পর থেকে এ নিয়ে রাজনৈতিক ময়দান উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে।

You Might Also Like