বিদ্রোহী কবির ৩৯তম মৃত্যুবার্ষিকী আজ

চিরবিদ্রোহী, বিপ্লবী, সাম্য ও মানবতার কবি কাজী নজরুল ইসলামের ৩৯তম মৃত্যুবার্ষিকী আজ। এই দিনে তিনি পৃথিবী ত্যাগ করে চলে যান অজানা গন্তব্যে। ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলনের অন্যতম পুরোধা কাজী নজরুল ইসলাম আমাদের জাতীয় কবি। অন্যায়, অত্যাচার আর জুলুমের বিরুদ্ধে তিনি তাঁর ক্ষুরধার লেখনির মাধ্যমে পালন করেছেন সো”চার ও আপসহীন ভূমিকা।
কৃষ্টির ক্ষেত্রে তিনি ছিলেন আজীবন গভীর নিমগ্ন এক স্রোষ্টা। অস্থিরতা তাঁর বৈচিত্রময় ভাবনার সহচর। আর চাঞ্চল্য তাঁর অদমিত প্রাণ শক্তির প্রকাশ। তিনি ভালোবেসেছিলেন মানুষ আর তাঁর মুক্তির আকাক্সক্ষা। তাই সঙ্গত কারণেই তাকে বেছে নিতে হয়েছে বিদ্রোহের পথ। তবে তাঁ বিদ্রোহ আর সমস্ত সৃষ্টি উৎসাহিত হয়েছে প্রেমিক সত্ত্বা থেকেই। তিনি প্রেমিক, বিদ্রোহী, কবি কাজী নজরুল ইসলাম।
এক হাতে তাঁর বাঁশের বাসুরী আরেক হাতে রণদুর্গ। তিনি বিদ্রোহী আবার প্রেমিকও বটে। নজরুল কাব্য, সঙ্গীত আর কর্মজীবনে প্রতিষ্ঠিত সুন্দর সাম্যকে প্রতিষ্ঠিত করতে চেয়েছিলেন। কেবল বিদ্রোহী আর প্রেয়সী মন যেন একাকার হয়ে তাঁর সৃষ্টি থেকে উপচে পড়ে একাকার হয়ে পড়েছে। যে অর্থে তিনি বিদ্রোহী সেই সম অর্থে তিনি প্রেমিকও বটে। কবিতার মানুষ, সুরের মানুষ প্রেম-বিরোহের সাথে রসের সম্মেলন ঘটিয়ে যে সঙ্গিত সৃষ্টি করলেন তা নিছক সঙ্গীত নয় । এর মধ্যে রয়েছে সামাজিক রাজনৈতিক উম্মিলন। হিন্দু-মুসলিমের সঙ্ঘাতের কালে কখনো কারোর কাছে যবন আবার কারো কাছে তিনি কাফের । তবে তিনি চেয়েছেন বৈচিত্রের মাঝে সুন্দরকে আবিস্কার করতে।
আজ নানা আয়োজনের মধ্য দিয়ে পালিত হচ্ছে বিদ্রোহী কবির ৩৯তম মৃত্যুবার্ষিকী। কবির স্মৃতিতে ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানাতে এসে বিএনপির স্থায়ী কমিটিরি সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায় বলেন, তাঁর লেখা কবিতা সাহিত্য। তিনি মানুষের জন্য যা লিখেছিলেন সেই আবেদন শেষ হয়ে যাবে না। তাঁর আবেদন অনন্তকাল পর্যন্ত চলবে।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক সৌমিত্র শেখর বলেন, কাজী নজরুল মূলত চেয়েছিলেন হিন্দু-মুসলিমের ঐক্য। নজরুলের চাইতে বড় হিন্দু আর কেউ নাই। পাশাপাশি তিনি কারবালা নিয়ে, ধর্ম নিয়ে লিখেছেন। তখন মনে হয়েছে তাঁর চাইতে আর বড় মুসলিম আর কেউ নয়।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. আনিসুজ্জামান বলেন, নজরুল রবীন্দ্রনাথ তাঁদের কবিতার মধ্যে চিরকালীনতা আছে। পরবর্তী সময় যে কোন কালে তাদের রচনা মানুষকে অনান্দ দিয়েছে।
প্রসঙ্গত, বঙ্গাব্দের ১২ ভাদ্র (১৯৭৬ সালের ২৯ আগস্ট) ঢাকার বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে (তৎকালীন পিজি হাসপাতাল) চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। বলে গিয়েছিলেন ‘মসজিদেরই পাশে আমায় করর দিও ভাই, যেন গোরের থেকে মুয়াজ্জিনের আজান শুনতে পাই’। তার সে ইচ্ছানুযায়ী কবিকে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মসজিদের পাশে সমাহিত করা হয়।

You Might Also Like