বিএনপির লংমার্চ কর্মসূচিতে ১৯ দলের সমর্থন

তিস্তা নদীর পানির ন্যায্য হিস্যার দাবিতে আগামী ২২ এপ্রিল বিএনপির লংমার্চ কর্মসূচিকে সমর্থন দিয়েছে ১৯ দলীয় জোট। বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার সঙ্গে ১৯ দলীয় জোটের শীর্ষ নেতারা বৈঠক করে এ সমর্থনের কথা জানান।  বৃহস্পতিবার রাত পৌনে ১০টা থেকে প্রায় সোয়া দুই ঘন্টা চেয়ারপারসনের গুলশানের রাজনৈতিক কার্যালয়ে এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। জোট নেত্রী বেগম খালেদা জিয়া সর্বাত্মক আন্দোলনের প্রস্তুতি নিতে শরীকদের প্রতি আহবান জানিয়ে বলেন, চূড়ান্ত আন্দোলনে যাবার পূর্বে আপাতত  ইস্যু ভিত্তিক আন্দোলন কর্মসূচি পালন করা হবে।

বৈঠকে সর্বশক্তি নিয়ে জোটের প্রত্যেকটি দলকে পৃথক পৃথক ভাবে আগামী দিনে আন্দোলন সংগ্রামের জন্য সাংগঠনিক প্রস্তুতি নেয়ার বিষয়ে সিদ্ধান্ত হয়েছে। উপজেলা নির্বাচন প্রসঙ্গে বলা হয় নির্দলীয় সরকার ব্যবস্থা ছাড়া আওয়ামী লীগের অধীনে যে কোনো নির্বাচন সুষ্ঠু হতে পারে না তা উপজেলা নির্বাচনে প্রমাণিত হয়েছে। বৈঠকে উপজেলা নির্বাচনকে কেন্দ্র করে সারাদেশে বিরোধী দলের নেতা-কর্মীদের গ্রেফতার, খুন-গুমের বিষয়ে আলোচনা করে তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানানো হয়েছে। এছাড়া বেলার নির্বাহী পরিচালকের স্বামী আবু বকর সিদ্দিকের গুমের বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়।

এদিকে, তিস্তা নদীর পানির ন্যায্য হিস্যার দাবিতে আগামী ২০ এপ্রিল রাজধানীর হোটেল পূর্বানীতে বিএনপির পক্ষ থেকে একটি সেমিনার আয়োজনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। বৈঠক শেষে খেলাফত মজলিশের সভাপতি অধ্যক্ষ মুহাম্মদ ইসহাক শীর্ষ নিউজকে বলেন, বিএনপি তাদের লংমার্চে অংশ নিতে আমাদের আমন্ত্রণ জানান। আমরাও তাদের লংমার্চে শরীক হবো বলে সিদ্ধান্ত জানিয়েছি।

ইসলামিক পার্টির সভাপতি এডভোকেট আব্দুল মবিন শীর্ষ নিউজকে বলেন, এই মুহূর্তে আন্দোলনের চেয়ে দল গুছানোর প্রতি গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

বৈঠকে খালেদা জিয়ার সভাপতিত্বে ১৯ দলীয় জোট নেতাদের মধ্যে উপস্তিত ছিলেন লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টি-এলডিপির চেয়ারম্যান কর্ণেল (অব.) অলি আহমদ, জাতীয় পার্টির একাংশের চেয়ারম্যান কাজী জাফর আহমদ, বাংলাদেশ জাতীয় পার্টি-বিজেপির চেয়ারম্যান আন্দালিব রহমান পার্থ, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নির্বাহী সদস্য আব্দুল হালিম, ইসলামী ঐক্যজোটের সভাপতি আব্দুল লতিফ নেজামী, খেলাফত মজলিশের সভাপতি অধ্যক্ষ মো. ইসহাক, বাংলাদেশ লেবার পার্টির চেয়ারম্যান ডা. মোস্তাফিজুর রহমান ইরান, ইসলামিক পার্টির সভাপতি এডভোকেট আব্দুল মবিন, বাংলাদেশ ন্যাপের সভাপতি জেবেল রহমান গণি, জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টি (জাগপা) সভাপতি শফিউল আলম প্রধান ও সাধারণ সম্পাদক খন্দকার লুৎফুর রহমান, ন্যাশনাল ডেমোক্রেটিক পার্টির চেয়ারম্যান খন্দকার গোলাম মর্তুজা, মুসলিম লীগের সভাপতি এ এইচ এম কামরুজ্জামান প্রমুখ।

উল্লেখ্য, ন্যাপ ভাসানীর সাবেক চেয়ারম্যান শেখ আনোয়ারুল হক ১৯ দলীয় জোট থেকে বের হয়ে যাওয়ার ঘোষণা দেওয়ায় তাকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। বর্তমানে ন্যাপ-ভাসানীর চেয়ারম্যান হিসেবে রয়েছেন এডভোকেট আজহারুল ইসলাম। তার নেতৃত্বে দলটি বিএনপি নেতৃত্বাধীন জোটেই থাকছে।

You Might Also Like