৪১৮ যাত্রী নিয়ে প্রথম হজ ফ্লাইট ঢাকা ছেড়েছে

বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের প্রথম হজ ফ্লাইট ৪১৮ জন যাত্রী নিয়ে সৌদি আরবের জেদ্দার উদ্দেশে ঢাকা ছেড়ে গেছে । আজ রবিবার সকাল ৮টা ৩৫ মিনিটে বিজি-১০১১ ফ্লাইটটি ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে জেদ্দার উদ্দেশে উড্ডয়ন করে।

বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী রাশেদ খান মেনন এবং ধর্মমন্ত্রী অধ্যক্ষ মতিউর রহমান বিমানবন্দরে উপস্থিত থেকে উদ্বোধনী হজ ফ্লাইটের যাত্রীদের বিদায় জানান।

আজ রবিবারই হজ ফ্লাইট বিজি-৩০১১ দুপুর আড়াইটায় ৪১৯ জন, বিজি-৫০১১ রাত ৮টা ৩৫ মিনিটে ৪১৯ জন এবং শিডিউল ফ্লাইট বিজি-০০৩৫ রাত ১১টা ৫৯ মিনিটে জেদ্দার উদ্দেশে ঢাকা ছাড়বে। নির্ধারিত সময়ে নির্বিঘ্নে হজ ফ্লাইট পরিচালনার সকল প্রস্তুতি ইতোমধ্যেই সম্পন্ন করেছে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স। চট্টগ্রাম ও সিলেট থেকেও এ বছর যথারীতি প্রয়োজনীয় সংখ্যক হজ-ফ্লাইট পরিচালনা করা হবে।

বাংলাদেশ থেকে প্রায় এক লাখ এক হাজার ৭৫৮ জন হজ-যাত্রী পবিত্র হজব্রত পালনে সৌদি আরব যাবেন। এর মধ্যে সরকারি ব্যবস্থাপনায় যাবেন মোট ২৬০০ জন। অবশিষ্ট ৯৯ হাজার ১৫৮ জন যাবেন বেসরকারি ব্যবস্থাপনায়। সরকারি ব্যবস্থাপনায় এ বছর বিমানে যাবেন মোট ২ হাজার ৫৭৫ জন হজ-যাত্রী, অবশিষ্ট ৪৮ হাজার ৪২৫ জন যাবেন বেসরকারি ব্যবস্থাপনায়।

ঢাকা-জেদ্দা-ঢাকা রুটে হজ-যাত্রীদের ইকোনমি ক্লাসে বিমান ভাড়া এক হাজার ৫১৫ মার্কিন ডলার এবং বিজনেস ক্লাসে বিমান ভাড়া দুই হাজার ৫০০ মার্কিন ডলার নির্ধারণ করা হয়েছে। এর সঙ্গে যোগ হবে অন্যান্য কর। ঢাকা থেকে জেদ্দা রুটের প্রতি ফ্লাইটের উড্ডয়নকাল হবে আনুমানিক ৭ ঘণ্টা।

দুই মাসব্যাপী হজ-ফ্লাইট পরিচালনায় শিডিউল ফ্লাইটসহ মোট ২৮৫টি ফ্লাইট পরিচালনা করা হবে, যার মধ্যে ২২৪ ‘ডেডিকেটেড’ এবং ৬১টি শিডিউল ফ্লাইট। ১৬ আগস্ট থেকে ১৭ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ‘প্রি-হজ’-এ মোট ১৪৫টি ফ্লাইট পরিচালনা করা হবে (ডেডিকেটেড-১১৫ এবং শেডিউল-৩০)।

হজের পর ১৪০টি ফ্লাইট চলবে ২৭ সেপ্টেম্বর থেকে ২৮ অক্টোবর পর্যন্ত (ডেডিকেটেড-১০৯ এবং শেডিউল-৩১)। সরকারি ব্যবস্থাপনার দুই হাজার ৫৭৫ যাত্রীসহ মোট ৫১০০০ জন হজ-যাত্রী হজ পালনের জন্য ক্যারিয়ার হিসেবে বিমানকে ব্যবহার করবেন। হজ-ফ্লাইট পরিচালনার জন্য বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স ঢাকা-জেদ্দা উভয় স্থানেই বিশেষ ব্যবস্থার আয়োজন করেছে।

প্রত্যেক হজ-যাত্রী বিনামূল্যে সর্বাধিক দুই পিস ৩২ কেজি মালামাল বিমানে ও বিজনেস ক্লাসের জন্য সর্বাধিক দুই পিস ৪২ কেজি এবং কেবিন ব্যাগেজে সাত কেজি মালামাল সঙ্গে নিতে পারবেন।

কোনো অবস্থাতেই প্রতি প্রিস ব্যাগেজের ওজন ২৫ কেজির বেশি হতে পারবে না। প্রত্যেক হজ-যাত্রীর জন্য ৫ লিটার জমজমের পানি ঢাকায় নিয়ে আসা হবে এবং হাজীরা ঢাকা ফেরৎ আসার পর তাদের তা প্রদান করা হবে। হাজীরা সঙ্গে করে বিমানে পানি বহন করতে পারবেন না।

বিমান কর্তৃক পরিচালিত ডেডিকেটেড হজ-ফ্লাইট সমূহের চেক-ইন, ইমিগ্রেশন ও কাস্টমস আনুষ্ঠানিকতা প্রতিবারের মতো এবারও হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর সংলগ্ন হজ ক্যাম্পেই সম্পন্ন করা হবে। তবে শিডিউল ফ্লাইটের হজ-যাত্রীদের যাত্রাপূর্ব আনুষ্ঠানিকতা যথানিয়মে বিমানবন্দরে সম্পন্ন করা হবে।

You Might Also Like