২০১৩ সালে বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের শিকার ৩২৯জন

দেশের শীর্ষস্থানীয় মানবাধিকার সংগঠন অধিকার জানিয়েছে, ২০১৩ সালে নিরাপত্তা বাহিনীর দ্বারা ৩২৯জন বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের শিকার হয়েছেন। এ সময় ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিএসএফের হাতে ২৯জন বাংলাদেশি নিহত হয়েছেন।

২০১৩ সালের বার্ষিক প্রতিবেদনে এই তথ্য তুলে ধরা হয়। বুধবার প্রতিবেদনটি প্রকাশ করা হয়।

প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০১২ সালে নিরাপত্তা বাহিনীর দ্বারা ৭০টি হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হলেও ২০১৩ সালে তা বেড়ে দাড়ায় ৩২৯জনে। এ সময় শুধু পুলিশের হাতেই ৭৫ জনের প্রাণ যায়।

বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ বিজিবি সাধারণত নাগরিকদে হত্যা থেকে দূরে থাকলেও ২০১৩ সালে তারা পুলিশের সাথে মিলে ৩২টি এবং এককভাবে ১১টি বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড ঘটায়।

প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০১২ সালে যৌথ বাহিনীর দ্বারা কোনো হত্যাকাণ্ড সংঘটিত না হলেও ২০১৩ সালে এই বাহিনীর দ্বারা ৬৪টি হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়।

প্রতিবেদনে বলা হয়, সরকার বিচারবিভাগকে ব্যবহার করে ভিন্নমত দমন করছে। জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটরা বন্দিদের রিমান্ডের মঞ্জুর করে। রিমান্ডে নিয়ে নির্মম নির্যাতনের মাধ্যমে আসামীদের কাছ থেকে স্বীকারোক্তি আদায় করা হয়- তা তারা অপরাধে জড়িত থাকুক না নাই থাকুক।

প্রতিবেদনে বলা হয়, বিচার বিভাগকে স্বার্থসিদ্ধির জন্য ব্যবহার করার লক্ষ্যে রাজনৈতিক বিবেচনায় বিচারক নিয়োগ দেয়া হয়। এছাড়া মিডিয়াকে এ কাজে ব্যবহার করা হয়।

২০১৩ সালে ১৪৬ জন সাংবাদিক আহত হয়।  এ সময় বন্ধ করে দেয়া আমার দেশ-এর প্রকাশনা এবং দিগন্ত ও ইসলামিক টিভির সম্প্রচার। গ্রেপ্তার করা হয় আমার দেশ সম্পাদক মাহমুদুর রহমানকে। তার ওপর নির্মম নির্যাতন চালানো হয় বলে অভিযোগ করেছে তার পরিবার ও সহকর্মীরা। মাহমুদুর রহমান এখনো বিনা বিচারে বন্দি রয়েছেন।

প্রতিবেদনে বলা হয়, সরকার প্রথম দিকে হেফাজতে ইসলামির ৫ মে সমাবেশ ঘিরে কোনো হত্যাকাণ্ডের কথা অস্বীকার করলেও অধিকারের তদেন্ত অন্তত ৬১জনের নিহতের কথা জানা যায়।

এ ব্যাপারে অধিকতর তদন্ত বন্ধ করার জন্যই অধিকারের বিরুদ্ধে নিবর্তনমূলক ব্যবস্থা নেয় সরকার।

প্রতিবেদনে বলা হয়, আইন শৃঙ্খলাবাহিনীর মধ্যে ধর্ষণে শীর্ষে রয়েছে যথারীতি পুলিশ। নিরাপত্তা বাহিনীর দ্বারা যত ধর্ষণের ঘটনা ঘটে তার ৪৪% ঘটে পুলিশের দ্বারা।

You Might Also Like