আইএস-তালেবান মুখোমুখি!

ইসলামিক স্টেটের (আইএস) পোস্ট করা একটি গণহত্যার ভিডিও নিয়ে কড়া সমালোচনা করল আফগান তালেবান। রীতিমতো বিজ্ঞপ্তি জারি করে তারা জানিয়েছে, ‘‘এ ভাবে মানুষ খুন পুরোপুরি ইসলাম-বিরোধী।’

ঘটনার সূত্রপাত দিন কয়েক আগে। রবিবার সোশ্যাল মিডিয়ায় আরবি এবং পাখতুন ভাষায় ৪ মিনিটের একটি ভিডিও পোস্ট করে আইএস। মনে করা হচ্ছে, পূর্ব আফগানিস্তানের কোনও প্রত্যন্ত এলাকায় ভিডিওটি তোলা হয়েছে। ভিডিওটিতে দেখা গিয়েছে, কয়েক জন আফগানকে কালো কাপড়ে চোখ ঢেকে, দুহাত বেঁধে রেখে ভয়াবহ বিস্ফোরণে উড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে।

আইএসের দাবি, এরা প্রত্যেকেই রাষ্ট্র ও ধর্ম-বিরোধী। মঙ্গলবার এই ভিডিও প্রসঙ্গেই আইএসকে আক্রমণ করে তালেবান। তাদের বক্তব্য, ‘শিক্ষা’ দেওয়ার নাম করে কয়েকজন নিরীহকে মেরেছে। বাদ দেয়া হয়নি শিশু, বৃদ্ধকেও। ধর্মের নামে আইএস আদতে ইসলামকেই লুণ্ঠিত করছে বলে অভিযোগ তালেবানদের।

কিন্তু হঠাৎ কেন এই উলটপুরাণ? ১৪ বছর ধরে মার্কিন সমর্থিত আফগান সরকারের বিরুদ্ধে জেহাদ ঘোষণা করে একের পর এক ‘নরমেধ হামলা’ চালিয়েছে তালেবান।

বিষয়টিতে অন্য সমীকরণ দেখছেন বিশ্বের কূটনীতিকরা। তাঁদের ব্যাখ্যা আইএসের হাত থেকে প্রাণপণে নিজেদের ঘর বাঁচাতে চাইছে তালেবান। কারণ, দলের প্রধান মোল্লা ওমরের মৃত্যুতে তালেবানের মাটি যখন নড়বড়ে, ঠিক তখনই কাবুলকে কেন্দ্র করে জমি দখলে এগোচ্ছে আইএস। আফগান তালেবান সংগঠনের মাথায় এখন মোল্লা আখতার। যাঁকে নিয়ে আবার আপত্তি রয়েছে খোদ ওমরের ছেলে ও ভাই-সহ শীর্ষ নেতৃত্বের একটা বড় অংশের। তাই এই ডামাডোলেই আফগানিস্তানের মাটিতে কোপ মারতে চাইছে আইএস।

কাবুলের সামরিক বিশ্লেষক আতিকুল্লাহ আমরখিলের কথায়, ‘‘দুদলের সম্পর্কটা এখানে সাপে-নেউলে। আইএস এখন আফগান তালেবানের প্রথম শত্রু।’

এ দিকে, মোল্লা ওমরের মৃত্যুতেও যে তাদের সংগঠন দুর্বল হয়ে যায়নি, তা প্রমাণে মরিয়া তালেবানরা। গত সপ্তাহ জুড়ে তাদের ধারাবাহিক হামলায় প্রাণ গিয়েছে অন্তত ৬০ জনের, আহত ২০০। হামলার লক্ষ্য কখনও সেনা-ঘাঁটি লাগোয়া জনবহুল এলাকা, তো কখনও পুলিশ প্রশিক্ষণ কেন্দ্র।

এদিকে গণহত্যা জারি রেখেছে আইএস। মিশরের বছর তিরিশের এক ক্রোয়েশীয় পণবন্দিকে শিরোচ্ছেদের ছবি পোস্ট করেছে তারা।

You Might Also Like