আদালত অবমাননার দায়ে জনকণ্ঠের সম্পাদক-নির্বাহী সম্পাদকের জেল-জরিমানা

‘কুৎসা রটনামূলক’ নিবন্ধ প্রকাশ করে আদালত অবমাননার দায়ে দৈনিক জনকণ্ঠের সম্পাদক মোহাম্মদ আতিকউল্লাহ খান মাসুদ ও নির্বাহী সম্পাদক স্বদেশ রায়কে আদালতের কার্যক্রম চলাকালীন দাঁড়িয়ে থাকার সাজা দিয়েছে আপিল বিভাগ। একই সঙ্গে দুজনকে ১০ হাজার টাকা করে জরিমানা, অনাদায়ে সাত দিনের কারাদণ্ড দেয়া হয়েছে।

আজ (বৃহস্পতিবার) সকালে প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহার নেতৃত্বে ছয় সদস্যের বেঞ্চ এ রায় ঘোষণা করেন। বেঞ্চের অপর সদস্যরা হলেন- বিচারপতি আবদুল ওয়াহহাব মিঞা, বিচারপতি নাজমুন আরা সুলতানা, বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেন, বিচারপতি মোহাম্মদ ইমান আলী ও বিচারপতি হাসান ফয়েজ সিদ্দিকী।

এসময় আদালতে হাজির ছিলেন আতিকউল্লাহ খান মাসুদ ও স্বদেশ রায়।

গত ১৬ জুলাই ‘সাকার পরিবারের তৎপরতা।। পালাবার পথ কমে গেছে’ শিরোনামে একটি কলাম প্রকাশ করে দৈনিক জনকণ্ঠ। এর লেখক নির্বাহী সম্পাদক স্বদেশ রায়।

জনকণ্ঠের ওই কলামের একটি স্থানে বলা হয়েছে, ‘পিতা মুজিব! তোমার কন্যাকে এখানেও ক্রশে পিঠ ঠেকিয়ে দাঁড়িয়ে থাকতে হচ্ছে। তাই যদি না হয়, তাহলে কিভাবে যারা বিচার করছেন সেই বিচারকদের একজনের সঙ্গে গিয়ে দেখা করে সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরীর পরিবারের লোকেরা? তারা কোন পথে বিচারকের কাছে ঢোকে, আইএসআই ও উলফা পথে না অন্য পথে? ভিকটিমের পরিবারের লোকদেরকে কি কখনও কোন বিচারপতি সাক্ষাৎ দেয়। বিচারকের এথিকসে পড়ে! কেন শেখ হাসিনার সরকারকে কোন কোন বিচারপতির এ মুহূর্তের বিদেশ সফর ঠেকাতে ব্যস্ত হতে হয়। যে সফরের উদ্যোক্তা জামায়াত-বিএনপির অর্গানাইজেশান। কেন বিতর্কিত ব্যবসায়ী আগে গিয়ে সেখানে অবস্থান নেয়। কী ঘটতে যাচ্ছে সেখানে। ক্যামেরনই পরোক্ষভাবে বলছেন সকল সন্ত্রাসীর একটি অভয়ারণ্য হয়েছে লন্ডন’।

কলামের এসব বক্তব্যে আদালত অবমাননার অভিযোগ এনে ওই দু’জনের বিরুদ্ধে কেন শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে না তা জানতে চেয়ে গত ২৯ জুলাই সুয়োমোটো রুল জারি করেন আপিল বিভাগ। ৩ আগস্ট হাজির হয়ে এ রুলের জবাব দাখিলের জন্য তাদেরকে তলব করা হয়। ৩ আগস্ট তারা হাজির হয়ে জবাবের জন্য প্রথমে তিন মাস এবং পরে দুই সপ্তাহ সময় চাইলে তা নামঞ্জুর করে ৯ আগস্ট মধ্যে জবাব দেয়ার আদেশ দেয় আদালত।

রোববার এ রুলের শুনানি আপিল বিভাগের ছয় সদস্যের বৃহত্তর বেঞ্চে সোমবার অনুষ্ঠিত হবে বলে আদেশ দেন প্রধান বিচারপতি।

রোববারের শুনানিতে আদালতের আদেশে জনকণ্ঠের পক্ষের আইনজীবী সালাহ উদ্দিন দোলন ও অ্যাডভোকেট অন রেকর্ড শিরিন আফরোজ ওই কলামের বিষয়ে সব ধরনের তথ্য-উপাত্ত এবং মানবতাবিরোধী অপরাধে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত সালাউদ্দিন কাদের (সাকা চৌধুরী) সম্পর্কে জনকণ্ঠে প্রকাশিত সকল প্রতিবেদনের কপি দাখিল করেন।

অন্যদিকে রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম। তিনি আদালতের আদেশে জনকণ্ঠের বিরুদ্ধে রুল জারির পর থেকে গণমাধ্যমে প্রকাশিত এ সংক্রান্ত প্রতিবেদনের কপি দাখিল করেন।

জনকণ্ঠের আইনজীবী সালাহউদ্দিন দোলন বলেন, সত্যের ওপর ভিত্তি করে লেখা রিপোর্ট আদালত অবমাননা নয়। জনকণ্ঠ আদালত অবমাননা করেনি। তাই আদালত অবমাননার অভিযোগ থেকে অব্যাহতি চান তিনি।

প্রধানমন্ত্রীর দফতর থেকে প্রধান বিচারপতিকে বিদেশে যেতে বাধা দেয়া হয়েছিল কি না- তা অ্যাটর্নি জেনারেলের কাছে জানতে চেয়েছিলেন আপিল বিভাগ। তিনি শুনানিতে বলেন, আমি প্রধানমন্ত্রীর দফতর থেকে জেনেছি, প্রধান বিচারপতিকে বিদেশ যেতে কখনো বাধা দেয়া হয়নি।

শুনানিতে অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম আদালতকে বলেন, ‘সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরীর মামলার রায় ঘোষণার আগেই দৈনিক জনকণ্ঠ যে লেখা প্রকাশ করেছে, তা আদালত অবমাননার শামিল। এর মাধ্যমে রায়কে প্রভাবিত করা হয়েছে এবং জনমনে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করা হয়েছে।’

You Might Also Like