সোনাগাজীতে শিশু ধর্ষণের অভিযোগে যুবলীগ নেতা আটক

ফেনীর সোনাগাজীতে স্কুল কক্ষে ৭ বছরের শিশু ধর্ষণের ঘটনায় ধর্ষক যুবলীগ নেতা রুবেলকে (২৬) আটক করেছে পুলিশ। আজ বুধবার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে উপজেলার বগাদানা ইউনিয়নের আউরার খিল সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সামনে থেকে তাকে আটক করা হয়।

পুলিশ ও স্থানীয়রা জানায়, রোববার সকালে সোনাগাজী উপজেলার আউরার খিল সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের দফতরি রুবেলের কাছে প্রাইভেট পড়তে আসে স্থানীয় এক প্রবাসীর দ্বিতীয় শ্রেণী পড়–য়া ৭ বছর বয়সী ওই শিশু। স্কুল ফাঁকা পেয়ে দফতরি রুবেল ওই ছাত্রীর মুখ চেপে একটি কক্ষে নিয়ে নির্যাতন চালায়। শিশুটি বাড়িতে গিয়ে তার মাকে ঘটনাটি জানালে বাড়ির লোকজন ও এলাকাবাসী নিয়ে প্রধান শিক্ষক বিষ্ণুপদ শীলের কাছে নালিশ দেয়। প্রধান শিক্ষক ওই দিন দুপুরে বিদ্যালয়ের পরিচালনা কমিটির জরুরি সভা ডাকেন। সভায় সিদ্ধান্তের বিষয়টি স্থানীয় চেয়্যারম্যান শাখাওয়াতুল হক বিটুকে অবহিত করেন।

ওই দিন স্থানীয় চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক রাতে মোটা অংকের টাকার বিনিময়ে দু’পক্ষকে ডেকে ঘটনা মিমাংসা করে ধামা-চাপা দেয়ার চেষ্টা করে। পরবর্তীতে শিশুটির শারীরিক অবস্থার অবনতি দেখা দিলে গত সোমবার সকালে শহরের ফেনীর স্থানীয় একটি ক্লিনিকের ডা. শামিম আরা নাসরিনকে দেখাতে নিয়ে আসেন। অতিরিক্ত রক্তক্ষণ ও ব্যাথায় শিশুর চিৎকারে লোকজন বিষয়টি টের পেয়ে ঘটনাটি প্রকাশ হয়ে যায়। ওই ঘটনায় পর থেকে দফতরি রুবেলকে স্কুল থেকে মৌখিকভাবে বহিষ্কার করে স্কুল কর্তৃপক্ষ।

পরে আর বুধবার দুপুরে উপজেলার বগাদানা ইউনিয়নের ওই এলাকায় অভিযান চালিয়ে ধর্ষণের অভিযোগে আউরার খিল সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের দফতরি রুবেল কে আটক করে পুলিশ।

এদিকে বুধবার সকালে নির্যাতিত শিশুকে দেখতে যান জেলা পরিষদের প্রশাসক আজিজ আহাম্মদ চৌধুরী। তিনি ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের সার্বিক সহযোগিতা ও ন্যায় বিচারের আশ্বাস দেন। এদিকে গত কিছুদিন আগে ওয়ার্ড যুবলীগের সভাপতি মশিউর রহমান রুবেলকে স্থানীয় চেয়ারম্যান শাখাওয়াতুল হোসেন বিটু ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মোটা অংকের টাকার বিনিময়ে আউরারখীল সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ে দফতরি পদে নিয়োগ দেয়। নিয়োগ হওয়ার পর থেকে ওই স্কুলের বিভিন্ন অনৈতিক কাজের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগ ছিল রুবেলের বিরুদ্ধে। কারণ, সে বিভিন্ন অপকর্ম করলেও ক্ষমতাসীন দলের লোক হওয়ায় কেউ সাহস করে প্রতিবাদ করেনি।

এ বিষয়ে স্থানীয় চেয়ারম্যানের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমরা মীমাংসা করার চেষ্টা করছি। আমি এবং ওই স্কুলের প্রধান শিক্ষকসহ স্কুল কমিটির লোকজনকে নিয়ে আমার বাড়িতে বসেছিলাম।

সোনাগাজী উপজেলা শিক্ষক সমিতির সভাপতি মাস্টার শরীয়ত উল্যাহ জানায়, ঘটনাটি শুনে অবাক হয়েছি। এ ঘটনার বিচার দাবি করেন তিনি।

You Might Also Like