মুম্বাইয়ে হোটেলে ঢুকে ৪০ যুগলকে পুলিশি হেনস্থা!

একদিকে ভারতের সুপ্রিম কোর্ট যখন রায় দিয়েছে যে, লিভ ইন বা বিয়ে বহির্ভূত দাম্পত্য সম্পর্ক বিয়ের সমান মর্যাদা পাবে, তখন দেশটির বাণিজ্যিক নগরী মুম্বাইতে পুলিশ ৪০টি প্রেমিক-প্রেমিকা যুগলকে বিভিন্ন হোটেল এবং লজ থেকে আটক করে চূড়ান্ত হেনস্থা করেছে।

ঘটনাটি ঘটে বৃহস্পতিবার। এদিন দুপুর ৩টে নাগাদ মাড আইল্যান্ড এবং আকসা অঞ্চলের বিভিন্ন টু স্টার হোটেল এবং লজে গিয়ে মোট ৮০ জনকে আটক করে। এঁদের বিরুদ্ধে পুলিশের অভিযোগ, এঁরা ‘জনসমক্ষে অভব্যতা’ করছিলেন। হোটেলের ঘরে দুইজন প্রাপ্ত বয়স্ক মানুষ কী করছেন তা জনসমক্ষে অভব্যতা ধারায় পড়ে কীভাবে তা নিয়ে যদিও পরিষ্কার করে কিছু জানায়নি পুলিশ। এমনকি আটকেই সন্তুষ্ট হয়নি পুলিশ। আটকের পর প্রত্যেক যুগলের কাছ থেকে ১২০০ টাকা করে জরিমানা ধার্য করা হয় এবং যাঁরা কলেজ বা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রছাত্রী তাঁদের বাড়িতে ফোনও করে পুলিশ।

কিছু দিন আগেই এই পুলিশ অফিসার এবং কনস্টেবলদের মধ্যে অনেকেই স্থানীয় এলাকায় জাল মদের ব্যবসা অবাধে চলতে দেওয়া এবং রীতিমতো তাতে মদদ দেওয়ার অভিযোগে সাসপেন্ডও হয়েছিলেন। ওই অফিসাররাই এই ‘অপারেশনের’ দ্বায়িত্বে ছিলেন। ধৃতদের মধ্যে কয়েকজন আবার শিগগিরই বিয়ে করতে চলেছেন।

এমনই এক নারী বলেন, ‘পুলিশ আমার সঙ্গে এমন আচরণ করছিল যেন আমি একজন যৌনকর্মী। আমি একজন প্রাপ্তবয়স্ক। আমি আমার হবু স্বামীর সঙ্গে হোটেলে গিয়েছিলাম একটু নিভৃতে সময় কাটাবো বলে। হোটেলে চেক ইন করার সময় আমি আমার পরিচয় পত্রের ফটোকপি জমাও দিই। এসব জানিয়ে আমি বোঝানোর চেষ্টা করতেই পুলিশের এক মহিলা কনস্টেবল আমায় ঠাস করে এক চড় কষিয়ে দেন।’

ঘটনা প্রকাশ্যে আসতেই সোশ্যাল মিডিয়াতে এ নিয়ে সমালোচনা শুরু হয়ে যায়। ‘নীতি’ পুলিশের এমন কাজকে কেউই ভালো চোখে দেখেননি। সমালোচোকদের মধ্যে সঙ্গীত পরিচালক বিশাল দাদলানি থেকে রোহন জোশিও রয়েছেন। অনেকে তো এও বলতে ছাড়েননি, পুলিশের নাকের ডগায় বসে নাশকতা এবং অবৈধ ব্যবসা চলতে থাকে দিনের পর দিন, তাতে পুলিশের ঘুম ভাঙে না। জনসাধারণকে হয়রানি করে তাঁদের কাছ থেকে টাকা নেওয়ার সময় এঁরা খুবই সজাগ!

You Might Also Like