‘হিন্দুদের কোতল করতে আমার ভাল লাগে’

ভারতে জঙ্গি হামলায় আজমল কাসভের পর গ্রেফতার হয়েছে দ্বিতীয় জীবিত জঙ্গি। দুই সেনা সদস্যকে হত্যা করেও আফশোসের লেশমাত্র নেই চোখেমুখে। বরং স্ববিরোধী কথা বলে তদন্তকারীদের প্রতি মুহূর্তে সমস্যায় ফেলার চেষ্টা করেছে সে। তাকে জীবন্ত ধরার পর পাকিস্তানের ওই জঙ্গির দাবি ছিল তার নাম কাসেম। পরে সে জানায়, উসমান নামেই পরিচিত সে। তদন্তকারীদের চাপাচাপিতে পরে কাসেম ওরফে ওসমান হয়ে যায় মুহাম্মদ নাভেদ। বয়স নিয়েও একইভাবে ভিন্ন ভিন্ন তথ্য দিয়েছে সে।
বুধবার ভারেত জম্বু-কাশ্মীর উধমপুরের জঙ্গল থেকে নাটকীয়ভাবে গ্রেপ্তার করা হয় পাক জঙ্গি নাভেদকে। ওই জঙ্গিকে গ্রেপ্তারের পর একটি টিলার উপর নিয়ে গিয়ে প্রাথমিক জেরা করা হয়। তখন সে জানায়, পাকিস্তানের ফয়সলাবাদ থেকে ১২ দিন আগে জম্মুতে ঢোকে সে। সঙ্গে ছিল আরেক সঙ্গী। হামলার কারণ জানতে চাওয়া হলে নাভেদের উত্তর, কাশ্মীরিদের উপর অত্যাচার করা হচ্ছে, তাঁদের মেরে ফেলা হচ্ছে। এর প্রতিশোধ নিতেই এই হামলা।
দুই জঙ্গির হামলায় প্রাণ গেছে দুই সেনা সদস্যের। সেনাদের গুলিতে প্রাণ হারিয়েছে নাভেদের সঙ্গীরও। এ বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে দোহারা চেহারার লস্কর ই তৈয়েবার এই জঙ্গি জানান,‘যদি আমি মারা যেতাম তা আল্লাহর ইচ্ছেতেই হত। হামলা করে বেশ মজা পেয়েছি। হিন্দুদের কোতল করতে আমার খুব ভাল লাগে।’
এদিকে নাভেদের প্রাথমিক জেরা পর্ব শেষে বেশ চিন্তায় তদন্তকারীরা। কারণ, লস্করের পুরনো কৌশল। গোয়েন্দা রিপোর্ট অনুযায়ী, সীমান্ত পেরিয়ে ভারতে ঢুকে হামলা চালানোর জন্য লস্কর যুবকদের দলে নেয়। ট্রেনিংয়ের সময় তাদের শেখানো হয়, ভারতীয় ভূখ-ে গ্রেপ্তার হলে বয়স ১৮-র কম বলে দাবি করতে হবে। দেশের আইন অনুযায়ী, ধৃতরা নাবালক হলে তাদের বিচার জুভেনাইল জাস্টিস বোর্ডে হবে। এর ফলে আইনের ফাঁক গলে যাবজ্জীবন বা মৃত্যুদ-ের মতো সাজা এড়ানো যাবে। এক্ষেত্রেও তেমনটাই হয়েছে বলে মত গোয়েন্দাদের। গ্রেপ্তারির সময় নাভেদ দাবি করে সে ২০ বছরে পা দিয়েছে। পরে নিজের বক্তব্য খারিজ করে ওই জঙ্গির দাবি, বয়স তার মাত্র ১৬।

You Might Also Like