সিরিয়াকে স্ট্যালিনগ্র্যাডে পরিণত করব : পুতিনের হুঁশিয়ারি

রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন মস্কোতে নিযুক্ত তুর্কি রাষ্ট্রদূতকে তলব করে হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, এরদোগান সরকার সিরিয়ায় আইএসআইএল সন্ত্রাসীদের সমর্থন দেয়া বন্ধ না করলে রাশিয়া শিগগিরই তুরস্কের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক ছিন্ন করবে।

মস্কো টাইমসের বরাত দিয়ে ‘এডাবলিওডি’ সংবাদ মাধ্যম এই খবর দিয়েছে। পুতিন তুরস্কের বিরুদ্ধে এ যাবৎকালের সবচেয়ে কড়া ভাষা ব্যবহার করেছেন বলে সংবাদ মাধ্যমটি জানিয়েছে।

পুতিন সিরিয়ার সঙ্গে তুরস্কের শত্রুতামূলক আচরণের জন্য তুর্কি সরকারকে কঠোর ভাষায় তিরস্কার করেন এবং পাশাপাশি ইরাক ও ইয়েমেনে সৌদি-সমর্থিত আল-কায়দার সন্ত্রাসীদের প্রতি তুরস্কের সমর্থনেরও তীব্র নিন্দা জানান। আর এইসব বিষয় নিয়ে তুর্কি রাষ্ট্রদূত উমিত ইয়ারদিমের সঙ্গে পুতিনের সংলাপ তীব্র বাক-যুদ্ধে রূপ নেয়। রুদ্ধদ্বার কক্ষে অনুষ্ঠিত ২ ঘণ্টার এ সংলাপে উভয়ই ক্রুদ্ধ হন বলে মস্কো টাইমস জানিয়েছে। ইয়ারদিম রাশিয়ার সব অভিযোগ অস্বীকার করেন এবং তার ভাষায় সিরিয়ায় তিক্ত ও দীর্ঘ গৃহযুদ্ধের জন্য রাশিয়াই দায়ী বলে দাবি করেন। তার এই আক্রমণাত্মক বক্তব্যের জবাবে পুতিন বলেন, “ ….তাহলে আপনার একনায়ক বা স্বৈরাচারী প্রেসিডেন্টকে বলুন যে তিনি আইএসআইএল-এর সন্ত্রাসীদের সঙ্গে নরকেও যেতে পারেন এবং আমি সিরিয়াকে ‘এক বৃহৎ স্ট্যালিনগ্র্যাড’-এ পরিণত করব, কারণ এরদোগান ও তার সৌদি মিত্ররা অ্যাডলফ হিটলারের চেয়ে কম বর্বর নন।” (দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় রুশদের কিংবদন্তীতুল্য প্রতিরোধের মুখে স্ট্যালিনগ্র্যাডে ভয়াবহ বিপর্যয়ের শিকার হয়েছিল হানাদার জার্মান নাৎসি সেনারা)

পুতিন আরও বলেন, ‘আপনার প্রেসিডেন্ট কতটা কপট বা ভণ্ড যে তিনি গণতন্ত্রের সমর্থনে কথা বলেন এবং মিশরে সামরিক অভ্যুত্থানের তীব্র নিন্দা জানান! আর সেই তিনিই একই সময়ে সিরিয়ার প্রেসিডেন্টকে ক্ষমতাচ্যুত করার লক্ষ্যে সক্রিয় সব সন্ত্রাসী তৎপরতাকে অনুমোদন দিচ্ছেন!’

রুশ প্রেসিডেন্ট আরও বলেছেন, মস্কো সিরিয়ার বৈধ সরকারকে পরিত্যাগ করবে না এবং ইরান ও চীনসহ এই সরকারের মিত্রদের সঙ্গে সহযোগিতা করে যাবে যাতে সিরিয়ার অশেষ গৃহযুদ্ধের একটি রাজনৈতিক সমাধান বের করা যায়।

সিরিয়ায় রয়েছে ভূমধ্যসাগরে অবস্থিত রাশিয়ার একমাত্র নৌ-ঘাঁটি। ইসরাইল-বিরোধী সিরিয়ার আসাদ সরকারকে ক্ষমতাচ্যুত করার জন্য কয়েক বছর ধরে প্রচেষ্টা চালিয়ে আসছে মার্কিন নেতৃত্বাধীন পাশ্চাত্য ও ইহুদিবাদী ইসরাইল। আর এক্ষেত্রে তাকফিরি-ওয়াহাবি সন্ত্রাসী গোষ্ঠী আইএসআইএল-কে সর্বাত্মক সহায়তা দিয়ে আসছে তুর্কি সরকার। সৌদি, জর্দান ও কাতার সরকারসহ এ অঞ্চলে পাশ্চাত্যের সেবাদাস কয়েকটি রাজতান্ত্রিক সরকারও একই কাজ করে আসছে।

You Might Also Like