জিয়া নাশতার টেবিলে বসেও মৃত্যুদণ্ডে সই দিত: প্রধানমন্ত্রী

বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, জিয়াউর রহমান ব্রিগেডিয়ার খালেদ মোশাররফ, কর্ণেল হুদা, কর্ণেল তাহেরসহ মুক্তিযুদ্ধে অংশ নেয়া অসংখ্য সেনা অফিসারকে হত্যা করেছে। তার সময়ে মোট ১৯টি ক্যু হয়েছে।”

দশম জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনের সমাপনী ভাষণে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এসব কথা বলেন। তিনি অভিযোগ করেন, “জিয়ার শাসনামলে এমন কোনো রাত ছিল না যে সৈনিক-অফিসারদের হত্যা করেনি। লোকে বলে জিয়া নাশতার টেবিলে বসেও মৃত্যুদণ্ডে সই দিত। তার কোনো অসুবিধা হতো না।”

শেখ হাসিনা বলেন, “জিয়াউর রহমানই এদেশে মুক্তিযুদ্ধবিরোধী, রাজাকার ও আলবদরদের প্রতিষ্ঠিত করেছে। জিয়া নিজেকে মুক্তিযোদ্ধা বলে দাবি করেছিল। তাহলে সে কীভাবে মুক্তিযুদ্ধে বিরোধীতাকারীদের পক্ষ নিয়েছিল?”

মোশতাক আহমেদকে মোনাফেক ও খুনি আখ্যায়িত করে শেখ হাসিনা বলেন, “শেখ মুজিবুর রহমানকে হত্যার পর মোশতাক আহমেদ জিয়াউর রহমানকে সেনাপ্রধান করেছিল। জাতির পিতাকে হত্যা করার পর কেন জিয়াকে সেনাপ্রধান করা হলো? নিশ্চয়ই হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে কোনো সংশ্লিষ্টতা ছিল। যখনই স্বাধীনতাবিরোধীরা ক্ষমতায় এসেছে, তখনই তারা দেশের ক্ষতি করেছে।”

প্রধানমন্ত্রী বলেন, “জিয়াউর রহমানকে স্বাধীনতার ঘোষক দাবি করা হয়। অথচ উনি নিজে অবৈধভাবে ক্ষমতায় এসে স্বাধীনতাবিরোধীদের হাতে বাংলার পতাকা তুলে দিয়েছিলেন। বিদেশে বাংলাদেশের দূতাবাসে চাকরি দিয়েছেন।”

যুদ্ধাপরাধের অভিযোগ যাদের বিরুদ্ধে ছিল, তাদের সবাইকে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ক্ষমা করেন নাই বলেও শেখ হাসিনা দাবি করেন।

বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার সমালোচনা করে তিনি বলেন, “নবম সংসদের বিরোধী দলীয় নেত্রী মাত্র ১০ দিন সংসদে এসেছেন। আর এ ১০ দিনে তিনি সাড়ে সাত ঘন্টা বক্তিতা দিয়েছেন। অর্থাৎ যিনি যখনই সংসদে এসেছেন তখনই কথা বলেছেন। ৯০ কার্যদিবস সংসদে অনুপস্থিত থাকলে সংসদের সদস্যপদ থাকে না। যখনই তাদের সে পদ যাওয়ার অবস্থা হয় তখনই তারা সংসদে এসেছেন। যে বিরোধী দল সংসদে আসেনা তারা কিসের বিরোধী দল।”

জাতীয় পার্টির প্রশংসা করে শেখ হাসিনা বলেন, সরকারের সাথে সহযোগিতা করাও বিরোধী দলের দায়িত্ব। সে দায়িত্ব (জাতীয় পার্টি) যথাযথভাবে পালন করে যাচ্ছে। ভোটে নির্বাচিত হয়ে যারা পার্লামেন্টে এসেছে তারাইতো আইনসম্মত বিরোধী দল।

You Might Also Like