রাজীব আহসানের মুক্তি দাবি ছাত্রলীগের প্রাক্তন ৩ সভাপতির

সম্প্রতি গ্রেফতার হওয়া ছাত্রদল সভাপতি রাজীব আহসানের মুক্তি দাবি করেছেন ছাত্রলীগের প্রাক্তন তিনজন সভাপতি, যারা বিভিন্ন সময়ে সংগঠনটিকে সামনে থেকে নেতৃত্ব দিয়েছেন।

একই সঙ্গে বিএনপির সকল নেতা-কর্মীর মুক্তি দাবি এবং রাজনৈতিক নেতাদের ‘চরিত্র হননের পথ’ থেকে সরে আসতে সরকার ও সংশ্লিষ্ট পুলিশ সদস্যদের প্রতি আহ্বান জানান তারা।

ছাত্রলীগের প্রাক্তন সভাপতি হাবিবুর রহমান হাবিব (বর্তমানে বিএনপির সহ তথ্য ও গবেষণা বিষয়ক সম্পাদক) স্বাক্ষরিত বিবৃতিটি মঙ্গলবার দুপুরে গণমাধ্যমে পাঠানো হয়। বিবৃতিদাতা আরো দুজন হচ্ছেন- সংগঠনটির আরেকজন প্রাক্তন সভাপতি মনিরুল হক চৌধুরী এবং জাতীয় ছাত্রলীগের প্রাক্তন সভাপতি মো. ফজলুর রহমান।

ছাত্রদল সভাপতি রাজীব আহসানকে ‘ন্যক্কারজনকভাবে’ গ্রেফতার করা হয়েছে উল্লেখ করে ছাত্রলীগের প্রাক্তন এই নেতারা বলেন, ‘দলীয় পুলিশ একজন মেধাবী, পরিচ্ছন্ন ও তরুণ নেতৃত্বকে বিতর্কিত করার জন্য গ্রেফতারের দুই ঘণ্টার পর মাদক ও ইয়াবাসহ গ্রেফতার করেছে বলে মিডিয়াকে জানায়। আমরা মনে করি, এটি সম্পূর্ণ ষড়যন্ত্র ও রাজনৈতিক পক্ষপাতদুষ্ট সিদ্ধান্ত।’

এ ঘটনা জাতিকে দক্ষ নেতৃত্ব ও মেধাশূন্য করার নীলনকশা- মন্তব্য করে তিনি বলেন, ‘রাজীব আহসানকে গ্রেফতার শুধু বিরোধী রাজনৈতিক শক্তিকে দমন নয়, বরং মাদক ও ইয়াবা দিয়ে গ্রেফতার দেখিয়ে ছাত্ররাজনীতি এবং ছাত্রনেতৃত্ব সম্পর্কে নেতিবাচক ধারণা সৃষ্টির অপকৌশল, যাতে গণধিক্কৃত ও ভোটারবিহীন নির্বাচনের মাধ্যমে ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত সরকারের বিরুদ্ধে কার্যকর ছাত্র আন্দোলন গড়ে উঠতে না পারে।’

নেতারা এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত পুলিশের ভূমিকার নিন্দা এবং শাস্তির দাবি জানান। একই সঙ্গে ছাত্ররাজনীতির ঐতিহ্য ও গৌরবকে সমুন্নত রাখার জন্য গণতন্ত্রমনা সকল ছাত্র ও রাজনৈতিক সংগঠনকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান।

তারা বলেন, ‘ছাত্রদল সাধারণ সম্পাদক আকরামুল হাসানকে গ্রেফতারের জন্য তার বাড়িতে তল্লাশির নামে পরিবারের সদস্যদের লাঞ্ছিত করা হয়েছে। এই অমানবিক ও ন্যক্কারজনক ঘটনার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি।’

বিবৃতিতে ছাত্রলীগের প্রাক্তন এই তিন নেতা বলেন, কোনো স্বৈরাচারী, অগণতান্ত্রিক শাসক বেশি দিন জোর করে ক্ষমতায় টিকে থাকতে পারেনি, এটাই ইতিহাসের চরম শিক্ষা। বর্তমান ভোটারবিহীন, জুলুমবাজ ও অত্যাচারী আওয়ামী লীগ সরকারও টিকতে পারবে না।

তারা বলেন, ‘শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো হওয়ার কথা ছিল ছাত্রছাত্রীদের জ্ঞান অর্জন, গবেষণা ও বিভিন্ন মতাদর্শে বিশ্বাসী ছাত্রসংগঠনগুলোর গণতান্ত্রিক সাংগঠনিক কর্মকাণ্ড চর্চার কেন্দ্রবিন্দু। অথচ আজ চর দখলের মতো দখল করে রাখা হয়েছে ক্যাম্পাস ও আবাসিক হলগুলো। বিরোধী আদর্শে বিশ্বাসী সংগঠনগুলো বিতাড়িত ক্যাম্পাস থেকে। আবাসিক হলে অছাত্র, বহিরাগত, অস্ত্রধারী মাস্তানদের অভয়ারণ্য।’

You Might Also Like