আবদুল কালামের অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া বৃহস্পতিবার

ভারতের সাবেক রাষ্ট্রপতি সদ্যপ্রয়াত এপিজে আবদুল কালামের অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া অনুষ্ঠিত হবে বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই)। জন্মস্থান তামিলনাড়ুর রামেশ্বরামে স্থানীয় সময় সকাল ১১টায় তাকে শেষ বিদায় জানানো হবে।
ভারতের ‘মিসাইল ম্যান’খ্যাত এই বিজ্ঞানীর অন্ত্যেষ্টিক্রিয়ার খবরটি সরকারি সূত্রের বরাত দিয়ে মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) জানিয়েছে স্থানীয় সংবাদমাধ্যম।
এর আগে আবদুল কালামের দীর্ঘদিনের ব্যক্তিগত সহকারি হ্যারি শেরিডনও সংবাদ মাধ্যমকে জানিয়েছিলেন, তামিলনাড়ুর রামেশ্বরামে মসজিদ রোডে অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া অনুষ্ঠিত হবে। এসময় সেখানে উপস্থিত থাকবেন আবদুল কালামের বড়ভাই মোস্তফা মারাকায়ার (৯৯)।
সোমবার (২৭ জুলাই) স্থানীয় সময় সন্ধ্যায় শিলংয়ে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন এপিজে আবদুল কালাম। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৮৪ বছর। ১৯৩১ সালের ১৫ অক্টোবর রামেশ্বরামে এক দরিদ্র পরিবারে জন্ম নেন তিনি। তার পিতার নাম জয়নুল আবেদিন ও মাতার নাম আসিআম্মা।
মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) স্থানীয় সময় দুপুরে আবদুল কালামকে বহনকারী ভারতীয় বিমান বাহিনীর বিশেষ এয়ারক্রাফট সি-১৩০জে সুপার হারকিউলিস পালাম বিমানবন্দরে অবতরণ করে। এসময় এই বিজ্ঞানীর প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেন রাষ্ট্রপতি প্রণব মুখার্জি, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও প্রতিরক্ষামন্ত্রী মনোহর পাড়িকর।
তিন শীর্ষ ব্যক্তির শ্রদ্ধা নিবেদন ও তিন বাহিনীর প্রধানের ‘গার্ড অব অনার’ দেওয়ার পর আবদুল কালামকে একটি সশস্ত্র গাড়িবহরে করে নিয়ে যাওয়া হয় তার বাসভবন ১০, রাজাজি মার্গে।
সেখানে প্রয়াত এই রাষ্ট্রপতির প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করতে সর্বসাধারাণের সময় নির্ধারণ করে দেওয়া হয় স্থানীয় সময় বিকাল ৪টায়। এর আগে জানানো হয়েছিল, বিকাল ৩টায় সর্বসাধারণ তার প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে পারবেন।
এপিজে আবদুল কালাম ইউনিভার্সিটি অব মাদ্রাজ থেকে ১৯৫৪ সালে পদার্থবিদ্যায় স্নাতক ও ১৯৬০ সালে মাদ্রাজ ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজি (এমআইটি) থেকে এরোস্পেস ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে উচ্চতর শিক্ষা লাভ করেন। কর্মজীবনে তিনি ভারতের প্রতিরক্ষা গবেষণা ও উন্নয়ন সংস্থায় (ডিআরডিও) বিজ্ঞানী ও ভারতীয় মহাকাশ গবেষণা সংস্থায় (আইএসআরও) বৈজ্ঞানিক প্রশাসক পদে দীর্ঘদিন কাজ করেন।
১৯৯৮ সালে ভারতের প্রথম সফল পারমাণবিক পরীক্ষা পোখরান-২ এ তিনি ছিলেন মুখ্য অবদানকারী।
কাজের স্বীকৃতি স্বরূপ ভারত সরকার এপিজে আবদুল কালামকে ১৯৮১ সালে পদ্ম ভূষণ, ১৯৯০ সালে পদ্ম বিভূষণ ও ১৯৯৭ সালে ভারত রতœ উপাধি দেয়। এই তিন জাতীয় উপাধি ছাড়াও জাতীয় স্বার্থে ও মানব কল্যাণে গুরুত্বপূর্ণ অবদানের জন্য তিনি আরও অনেক দেশীয় ও আন্তর্জাতিক পদক-সম্মানে ভূষিত হন।

You Might Also Like