জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী হলেন সৈয়দ আশরাফ

বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আশরাফুল ইসলামকে এক সপ্তাহের মাথায় আবার মন্ত্রী পরিষদে ফিরিয়ে আনা হয়েছে। এবার তাকে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।

আজ বৃহস্পতিবার বিকেলে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ এ সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করেছে।

গত সপ্তাহে প্রধানমন্ত্রীর সভাপতিত্বে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় অনুপস্থিত থাকায় স্থানীয় সরকারমন্ত্রী সৈয়দ আশরাফুল ইসলামকে দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেওয়ার গুঞ্জন উঠে।

৯ জুলাই (বৃহস্পতিবার) দুপুরের পর মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে জানানো হয়, সৈয়দ আশরাফুল ইসলামকে স্থানীয় সরকার, পল্লি উন্নয়ন ও সমবায় (এলজিআরডি) মন্ত্রণালয় থেকে অব্যাহতি দিয়ে দপ্তরবিহীন মন্ত্রী করা হয়েছে।

তারপরই নতুন এলজিআরডি মন্ত্রী হিনেবে নিয়োগ পান প্রধানমন্ত্রীর নিকট আত্মীয় খন্দকার মোশাররফ হোসেন।

এরপর থেকে সৈয়দ আশরাফের মন্ত্রিসভা ও দলের দায়িত্বে থাকা-না থাকা নিয়ে নানা ধরনের গুঞ্জন শোনা যায়। অবশ্য এর মধ্যে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে আশরাফের একান্তে বৈঠক হয় একাধিকবার। গত ১৪ জুলাই লন্ডনে যাওয়ার কথা থাকলেও প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকের পর সেই সফর বাতিল করেন তিনি।

গত ৭ জুলাই একনেক সভায় উত্থাপনের জন্য আটটি প্রকল্প তালিকায় প্রথমেই ছিল স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের ‘অগ্রাধিকার ভিত্তিতে গুরুত্বপূর্ণ পল্লি অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্প’। পরিকল্পনা কমিশনের এনইসি সম্মেলনকক্ষে এ সভার কার্যক্রম শুরু হওয়ার পর প্রথমেই পাসের জন্য প্রকল্পটি ওঠানো হয়। পরিকল্পনা কমিশনের সদস্য এ এন সামসুদ্দিন আজাদ চৌধুরী প্রকল্পটির বিস্তারিত তুলে ধরেন। এ সময় স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী বা প্রতিমন্ত্রী কেউই উপস্থিত ছিলেন না।

অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত তখন বলেন, ছয় হাজার কোটি টাকার এত বড় প্রকল্প খুবই গুরুত্বপূর্ণ। স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের দুজন মন্ত্রী রয়েছেন, একজনও আসেননি। তাই এ প্রকল্প একনেক সভা থেকে প্রত্যাহার করা হোক। তাদের মতামত নিয়ে প্রকল্পটি পাস করা দরকার। এ সময় প্রধানমন্ত্রী ও একনেক চেয়ারপারসন শেখ হাসিনা বলেন, ‘ঠিক আছে, মনে করেন আমিই মন্ত্রী। প্রকল্পটা প্রত্যাহার করবেন না।’ প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, ‘ঠিক আছে, উনি যখন মিটিংয়ে আসেন না, আমি উনাকে সরিয়ে (চেঞ্জ করে) দিচ্ছি। এখানে মন্ত্রিপরিষদ সচিব আছেন, আজকেই চেঞ্জ করতে বলব।’ এরপর একনেক সভার নিয়মিত কার্যক্রম চলতে থাকে। সভা শেষে প্রধানমন্ত্রী মন্ত্রিপরিষদ সচিবের সঙ্গে প্রায় আধা ঘণ্টা কথা বলেন। এরই ধারাবাহিকতায় ৯ জুলাই তাকে দপ্তরবিহীন মন্ত্রী করা হয়।

You Might Also Like