উপজেলা নির্বাচন থেকে যে শিক্ষা পাওয়া গেল

উপজেলা পরিষদের নির্বাচন নিয়ে আলোচনার আগে পাঠকদের অনুরোধের পরিপ্রেক্ষিতে ২৬ মার্চ স্বাধীনতা দিবসে জাতীয় প্যারেন্ড গ্রাউন্ডে লাখো কণ্ঠে জাতীয় সঙ্গীত অনুষ্ঠানের ব্যবস্থাপনা সম্পর্কে দু-একটি কথা বলতে চাই। ১৯৭১ সালের ২৬ মার্চ শুরু হওয়া মুক্তিযুদ্ধের রণাঙ্গনের কর্মকাণ্ড শেষ হয়েছিল ২৬৬তম দিনে, ১৬ ডিসেম্বর ১৯৭১ তারিখে। ১৬ ডিসেম্বর তারিখটি হচ্ছে আমাদের বিজয় দিবস। ২০১৩ সালের বিজয় দিবসে কোনো কুচকাওয়াজ, শিশু-কিশোর র‌্যালি, সমরাস্ত্র প্রদর্শনী ইত্যাদি অনুষ্ঠিত হয়নি। বিকল্প অনুষ্ঠান ছিল গিনেস বুক অব রেকর্ডসে নাম উঠানোর জন্য মানব-পতাকা তৈরির অনুষ্ঠান। তেজগাঁও বিমানবন্দরে অবস্থিত জাতীয় প্যারেড স্কয়ারে সম্মিলিতভাবে এমন একটি মানব-পতাকা বানানো হয়েছিল, যার ফলে গিনেস বুক অব রেকর্ডসে বাংলাদেশের নাম স্থান পায়। গত ২৬ মার্চ তথা এবারের স্বাধীনতা দিবসেও কোনো কুচকাওয়াজ বা এ ধরনের কোনো অনুষ্ঠান হয়নি। এবার লাখো কণ্ঠে জাতীয় সঙ্গীত গাওয়ার অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। তিন লাখ লোকের কণ্ঠে সমবেতভাবে জাতীয় সঙ্গীত গাওয়া হবে- এ লক্ষ্যে কার্যক্রম হাতে নেয়া হয়েছিল। বাস্তবে ২ লাখ ৫৪ হাজার ৬৮১ জন ব্যক্তির অংশগ্রহণের মাধ্যমে কাজটি সম্পন্ন হয়। আশা করা যায়, এ ঘটনাও গিনেস বুক অব রেকর্ডসে স্থান পাবে।

২৬ মার্চের অনুষ্ঠানটি জনগণের একটি অংশের কাছে ছিল উদ্দীপনামূলক, উৎসাহব্যঞ্জক, দেশপ্রেম জাগানিয়া ও সময়োপযোগী। জনগণের অন্য একটি অংশের কাছে এটি ছিল অপ্রয়োজনীয় ও পরিহার্য অনুষ্ঠান। জনগণের কোন পক্ষ সঠিক, সেই বিতর্কে যাওয়া নিষ্প্রয়োজন। কারণ ঘটনা ঘটে গেছে এবং বিশ্ব দেখেছে। তবে দু-চারটি প্রাসঙ্গিক কথা বলা প্রয়োজন। ২ লাখ ৫৪ হাজার মানুষের মধ্যে প্রায় ২ লাখ ছিলেন গার্মেন্ট শিল্পে কর্মরত শ্রমিক ভাইবোনেরা। সরকারি বা বিজিএমইএর ব্যবস্থাপনায় শত শত পরিবহন ভাড়া করে ঢাকা, নারায়ণগঞ্জ, মিরপুর ও টঙ্গীর বিভিন্ন গার্মেন্ট ফ্যাক্টরি থেকে শ্রমিক ভাইবোনদের আনা হয়েছিল। অবশিষ্ট ৫৪ বা ৫৫ বা ৬০ হাজারের মতো ব্যক্তির মধ্যে বৃহৎ অংশ ছিল স্কুল-কলেজের ছাত্রছাত্রী ও বিএনসিসির ক্যাডেট। ব্যবস্থাপনায় সর্বাত্মক সহযোগিতা করেছেন বাংলাদেশ সেনাবাহিনী, বিমান বাহিনী ও নৌবাহিনীর সদস্যরা। পুলিশ বাহিনী ও ট্রাফিক বিভাগের সদস্যরাও অনেক পরিশ্রম করে দায়িত্ব পালন করেছেন। তবে আয়োজকদের সুনামের পাশাপাশি কিছু বিষয় সমালোচিতও হয়েছে। আমি বা আমার আবাসিক এলাকার প্রতিবেশীদের অনেকেই ঘটনাস্থল তথা প্যারেড স্কয়ারে যেতে পারিনি, কিন্তু মহাখালী ডিওএইচএসের দক্ষিণ-পূর্ব কোণে অবস্থিত রাওয়া ক্লাবের হলরুমে মিলিত হয়ে আমরা একই সময়ে তথা যুগপৎ জাতীয় সঙ্গীত গেয়েছি। ব্যবস্থাপকদের বা ব্যবস্থাপনায় বড় ভুলত্র“টি যা হয়েছে, সেগুলো নিয়ে দু-একটি কথা লিখছি।

প্রথম সমালোচনা এই যে, ঘটনাস্থলে আসার পথে এবং ঘটনাস্থলে মহিলাদের অনেকে যথা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কুয়েত মৈত্রী হলের ছাত্রী এবং গার্মেন্টের শ্রমিক বোনরা কিছু অপ্রীতিকর ঘটনার শিকার হয়েছেন। কুয়েত মৈত্রী হলের ছাত্রীরা এ নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ে বিক্ষোভ করেছেন। এর জন্য ব্যবস্থাপকরা সরাসরি দায়ী নন, কিন্তু বাংলাদেশের সমাজে যে এ ধরনের ঘটনা ঘটতে পারে- এ বিষয়টি অনুমান করতে তারা ব্যর্থ হয়েছিলেন। বাসের ভিড়ে, ট্রেনের ভিড়ে, বাজারের ভিড়ে, লিফটে ওঠার সময় কিছুসংখ্যক বয়স্ক পুরুষও মহিলাদের সঙ্গে অশোভন আচরণ করে। ২৬ মার্চ সকালে ঘটনাস্থলে আসার সময়, প্রবেশের সময়, ঘটনাস্থলে সারিবদ্ধভাবে দাঁড়ানোর সময় এবং ঘটনাস্থল থেকে প্রস্থানের সময় এরূপ ইচ্ছাকৃত বা অনিচ্ছাকৃত ধাক্কাধাক্কি ও অশোভন ঘটনা ঘটে। দ্বিতীয় সমালোচনাটি আরেকটু কঠোর। যারা গান গেয়েছেন, তাদের হাতে জাতীয় পতাকা ছিল। কাজের শেষে অনেকেই পতাকাগুলোকে মাটিতে ফেলে দেয়। হাজার হাজার মানুষ পতাকাগুলোর ওপর দিয়ে হেঁটে যায়। জাতীয় পতাকাকে পদদলিত করা শুধু দৃষ্টিকটু নয়, অপরাধও বটে। অনেকেই পতাকা মাটিতে বিছিয়ে তার ওপর বসেছিলেন। এটাও ছোটখাটো অপরাধ। পদদলিত করা বা পতাকার ওপর বসা- এ কাজটি যারাই করেছেন, তারা জেনে করেছেন বা না জেনে করেছেন বা সচেতনতার অভাবে করেছেন অথবা অনুষ্ঠানে এসে কষ্ট পাওয়ার কারণে ক্ষুব্ধ হয়ে করেছেন- যে কারণেই হোক না কেন, দোষ ব্যবস্থাপকদের। সবচেয়ে বড় সমালোচনা যেটা তা হচ্ছে অনুষ্ঠানের পেছনে কত টাকা খরচ হল, কার মালিকানাধীন কোন ফার্ম বা ব্যবসা প্রতিষ্ঠান কোন কোন কাজ সম্পাদনের জন্য কন্ট্রাক্ট পেয়েছিল এবং কত টাকা অপচয় হল- ইত্যাদি সংক্রান্ত। আমি আশা করছি, ভবিষ্যতে কেউ না কেউ জাতিকে কোনো না কোনোভাবে বিষয়টি অবহিত করবেন।

উপজেলা নির্বাচন

এ পর্যন্ত কয়টি উপজেলা নির্বাচন হয়েছে, কয়টি উপজেলার ফল প্রকাশিত হয়েছে, কয়টি ভোট কেন্দ্রে ভোটগ্রহণ স্থগিত হয়েছে, সহিংসতায় কতজন মারা গেছে বা জখম হয়েছে ইত্যাদি পরিসংখ্যান দিয়ে আমি এ কলামের পরিসর বাড়াতে চাই না। তবে বিভিন্ন পত্র-পত্রিকা ও টেলিভিশনের ভাষ্য মোতাবেক, সরকারি দল কর্তৃক সৃষ্ট বা সরকারি দলের আগ্রহে পরিচালিত সহিংসতা ও আক্রমণাত্মক কর্মকাণ্ড ক্রমান্বয়ে বৃদ্ধি পেয়েছে। প্রথম ধাপ থেকে দ্বিতীয় ধাপে বেশি হয়েছে, তৃতীয় ধাপে আরেকটু বেশি হয়েছে, চতুর্থ ধাপে লক্ষণীয়ভাবে হয়েছে এবং পঞ্চম ধাপে নির্লজ্জভাবেই এটা বাড়িয়ে দেয়া হয়েছে। পাঁচটি ধাপের পর আমি এই কলাম লিখছি ১ এপ্রিল ২০১৪ তারিখে। এদিনের পত্রিকাগুলো ছাপা হয়েছে ভোররাত ১টা বা ২টার দিকে। ১ এপ্রিলের পত্রিকাগুলোয় সর্বশেষ ফলাফল দেয়া থাকলেও পাঠক যখন এই কলাম পড়বেন, তখন সেটা আপটুডেট মনে হবে না বিধায় আমরা সেই সংখ্যাটি এখানে উল্লেখ করছি না। তবে পাঁচটি ধাপের যোগফল তথা সর্বশেষ ফলাফল উল্লেখ করলে যে সারমর্ম পেতাম, সেই সারমর্ম হচ্ছে, আওয়ামী লীগ বিএনপি থেকে প্রায় ৩০ শতাংশ চেয়ারম্যান পদে বেশি জয় পেয়েছে। উপজেলা নির্বাচন সম্পন্ন হয়েছে আনুষ্ঠানিক নির্দলীয় প্রার্থিতার ভিত্তিতে। কিন্তু অনানুষ্ঠানিকভাবে বা সরেজমিনে এটা অবশ্যই দলীয় ভিত্তিতে হয়েছে। তাই প্রধান চারটি রাজনৈতিক দল তাদের সমর্থিত প্রার্থীদের জেতানোর জন্য জানপ্রাণ দিয়ে চেষ্টা করেছে। বিএনপি চেষ্টা করেছে আইনানুগ পদ্ধতিতে, মানুষের মতামতের ওপর আস্থা রেখে এবং নির্বাচনী প্রক্রিয়া শান্তিপূর্ণভাবে হবে- এই বিশ্বাসে। আওয়ামী লীগ চেষ্টা করেছে জোর যার মুল্লুক তার পদ্ধতিতে, সরকারি প্রশাসন বা নির্বাচন কমিশন প্রশাসনকে ব্যবহার করতে হবে- এই নীতিতে।

উপজেলা নির্বাচন সম্পন্ন হওয়ার মাধ্যমে দেশবাসীর কাছে কয়েকটি জিনিস উদ্ভাসিত হয়েছে। প্রথমটি নির্বাচন কমিশন প্রসঙ্গে। উপজেলা নির্বাচনে নির্বাচন কমিশনের দক্ষতা, দায়িত্বের প্রতি সততা, রাজনৈতিকভাবে নির্দলীয় থাকা ইত্যাদি ব্যাপকভাবে প্রশ্নের সম্মুখীন হয়েছে। প্রধান নির্বাচন কমিশনার রকিবউদ্দীন নির্বাচন চলাকালীন ছুটি নিয়ে বিদেশ চলে যাওয়ায় কয়েকটি প্রশ্নের জন্ম হয়েছে, যেগুলো আলোচনাযোগ্য হলেও স্থানাভাবে এখন করলাম না।

প্রধান নির্বাচন কমিশনারের অনুপস্থিতিতে অন্য নির্বাচন কমিশনাররা যে নিয়মে কার্য সম্পাদন করেছেন, তার ওপর একমাত্র সরকারি দল ছাড়া দেশে বা দেশের বাইরে অন্য কেউই আস্থা বা সন্তুষ্টি প্রকাশ করেননি বা করতে পারেননি। আমি ব্যক্তিগতভাবে যেহেতু একটি নিবন্ধিত রাজনৈতিক দলের প্রধান এবং সেই রাজনৈতিক দল (বাংলাদেশ কল্যাণ পার্টি) ১৯-দলীয় জোটের অংশ, সেহেতু আমি আমাদের মনোভাব আমার নিজ দায়িত্বে তুলে ধরছি। নির্বাচন কমিশন নিজেদের দায়িত্ব পালনে হয় সরকারের প্রতি মোহাবিষ্ট হয়ে অথবা সরকারের চাপে অবনত হয়ে অথবা নিজেদের রাজনৈতিক পছন্দের কারণে অথবা নিজেদের ব্যবস্থাপনার দুর্বলতার কারণে অথবা পেশাগত সাহসের অভাবে তাদের দায়িত্ব একচোখা বা একপেশেভাবে পালন করেছে। নির্বাচন কমিশন অন্যায় ও অযাচিতভাবে সরকারি দল সমর্থিত প্রার্থীদের প্রতি এবং তাদের আচরণবিধি লংঘনমূলক কর্মকাণ্ডের প্রতি দুর্বলতা দেখিয়েছে অথবা প্রার্থী ও তাদের সমর্থকদের কর্মকাণ্ডকে নীরবে পৃষ্ঠপোষকতা করেছে। ফলে বহু উপজেলায় নির্বাচনকালীন আশাব্যঞ্জক উৎসবমুখর পরিবেশ ও সহাবস্থানের পরিবেশ বিঘ্নিত হয়ে আতংক ও প্রতিহিংসার পরিবেশে পরিণত হয়। দেশের প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়া নিঃসংকোচে বিভিন্ন উপজেলার পরিবেশ ও পরিস্থিতি তুলে ধরেছে, যার জন্য তারা ধন্যবাদ পাওয়ার যোগ্য। কিন্তু কোনো অবস্থাতেই নির্বাচন কমিশনকে কোনো প্রকারের অভিনন্দন জানানোর সুযোগ নেই। বরং বিভিন্ন রাজনৈতিক ও অরাজনৈতিক মহল নির্বাচন কমিশনের এহেন অপেশাদারি মনোভাব ও দৃষ্টিভঙ্গির জন্য কঠোর ভাষায় তাদের নিন্দা করছে। ১৯-দলীয় জোটের প্রধান শরিক দল বিএনপিসহ অনেক রাজনৈতিক দলই নির্বাচন কমিশনের পদত্যাগ দাবি করেছে। একটি মন্তব্য উঠে এসেছে এই মর্মে যে, ৫ জানুয়ারির তথাকথিত সংসদ নির্বাচনে লেজেগোবরে অবস্থার পর উপজেলা নির্বাচন একটি সুবর্ণ সুযোগ এনে দিয়েছিল বর্তমান সরকার ও বর্তমান নির্বাচন কমিশনকে তাদের সততা, দক্ষতা ও নিরপেক্ষতা প্রমাণের জন্য। কিন্তু দুর্ভাগ্যজনক হলেও সত্য যে, বর্তমান রাজনৈতিক সরকার এবং বর্তমান নির্বাচন কমিশন এ সুযোগটি শুধু হারায়নি, উল্টো বদনাম কুড়িয়েছে। উপজেলা নির্বাচনের পঞ্চম ধাপ ৩১ মার্চ শেষ হয়েছে। এখন আর কোনো মহলের কাছে কোনো রকম সন্দেহ নেই যে, রাজনৈতিক সরকারের অধীনে আজ্ঞাবহ নির্বাচন কমিশনের ব্যবস্থাপনায় দেশের জনগণ স্বাধীন ও শান্তিপূর্ণভাবে তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারে না।

প্রথম ধাপের নির্বাচনের পর ঢাকা মহানগর থেকে প্রকাশিত বড় কোনো পত্রিকায় মারাত্মক কোনো নেতিবাচক খবর শিরোনাম হয়নি। দ্বিতীয় ধাপের নির্বাচনের পর ২৮ ফেব্র“য়ারি প্রথম আলো পত্রিকার প্রথম পৃষ্ঠায় সংবাদ শিরোনাম ছিল কেন্দ্র দখল, ব্যালট ছিনতাই, নিহত-১। তৃতীয় ধাপের নির্বাচনের পর আমাদের সময় পত্রিকার অন্যতম শিরোনাম ছিল সহিংসতার মধ্যে ৮১ উপজেলায় নির্বাচন, নিহত ৩, ভোট কেন্দ্র স্থগিত ৩২ : এ যেন চর দখলের লড়াই। একই তারিখে দৈনিক ইত্তেফাকের অন্যতম শিরোনাম ছিল- ব্যালট ছিনতাই, জাল ভোট, সহিংসতায় নিহত ৩। চতুর্থ ধাপের নির্বাচনের পর ২৪ মার্চ যুগান্তর পত্রিকায় লাল কালির অন্যতম শিরোনাম ছিল- ব্যাপক সহিংসতায় নিহত ৪ : আহত ২৫০, স্থগিত কেন্দ্র ৩২, হরতাল ৯ উপজেলায়, বর্জন ৩৭ প্রার্থীর। একই তারিখের প্রথম আলো পত্রিকায় চারটি ভিন্ন ভিন্ন শিরোনাম ছিল নিুরূপ- কেন্দ্র দখলের নির্বিঘ্ন উৎসব, তিন ঘণ্টায় ভোট শেষ, ব্যালট বাক্স ভরেছে দুপুরের মধ্যে, জিয়ানগর উপজেলা : সকালে ভরা পরে ভোটার শূন্য। পঞ্চম ও শেষ ধাপের নির্বাচনের পরদিন ১ এপ্রিল কয়েকটি পত্রিকার শিরোনাম ছিল এরকম- যুগান্তর : ব্যাপক সহিংসতা ও জবরদখল। ইনকিলাব : সিল মারার মহোৎসব : কেন্দ্র দখল, ভোট বর্জন, প্রকাশ্যে সিল, সংঘর্ষ সহিংসতা পুলিশের গুলি।

উপজেলা নির্বাচন পাঁচটি ধাপে হয়েছে। ইতিপূর্বে আমাদের দেশে একাধিক ধাপে সংসদ বা উপজেলা নির্বাচন হয়নি। ভারতে কেন্দ্রীয় পার্লামেন্ট নির্বাচন হয় একাধিক ধাপে। কিন্তু সেখানে সব ফলাফল ঘোষিত হয় সর্বশেষ ধাপের পর একইদিনে। আমাদের দেশে ভারত কর্তৃক অনুসৃত ফলপ্রসূ পন্থাটির অর্ধেক অনুসরণ করা হয়েছে। ফলে যা হওয়ার তাই হয়েছে। এটা কি ইচ্ছাকৃত ছিল? এসব নিয়ে পরে আলোচনা করার আশা রাখছি।

সব উপজেলাতেই সহিংসতা হয়েছে এমন বলা যাবে না। অনেক উপজেলায় সুন্দর, শান্তিপূর্ণ নির্বাচন হয়েছে। যেসব উপজেলায় শান্তিপূর্ণ নির্বাচন হয়েছে, সেখানে শান্তিপূর্ণ নির্বাচনের ফলে ফলাফল যেদিকেই যাক না কেন, সার্বিকভাবে মানুষ নির্বাচন কমিশন ও সরকারি প্রশাসনযন্ত্রকে ধন্যবাদ জানিয়েছে। শান্তিপূর্ণ নির্বাচন হয়েছে এমন একটি উপজেলার নাম চট্টগ্রাম জেলার হাটহাজারী থানা, যেখানে প্রথম ধাপেই নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছিল। সেখানে ১৯-দলীয় জোট সমর্থিত প্রার্থীরাই চেয়ারম্যান, ভাইস চেয়ারম্যান এবং মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান পদে বিপুল ভোটে জয়লাভ করেছেন। সমগ্র বাংলাদেশের যেসব উপজেলায় শান্তিপূর্ণভাবে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে, সেখানে নির্বাচিত চেয়ারম্যান, ভাইস চেয়ারম্যান ও মহিলা ভাইস চেয়ারম্যানদের অভিনন্দন জানাচ্ছি। আর যেসব উপজেলায় কেন্দ্র দখল, ভোট ডাকাতি, ভোট জালিয়াতি ইত্যাদির মাধ্যমে বেশি ভোট পেয়ে বিভিন্ন প্রার্থী জয়ী হয়েছেন, তাদের কোনোভাবেই অভিনন্দন জানাতে পারছি না। উপজেলা নির্বাহী অফিসার, থানার পুলিশ কর্মকর্তারা এবং বিভিন্ন ভোট কেন্দ্রের দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তিরা কে কী রকম আচরণ করেন- তা পর্যবেক্ষণের এক অমূল্য সুযোগ সব দলের সমর্থক, সব মানুষের কাছেই এনে দিয়েছিল এই উপজেলা নির্বাচন। এর ওপর ভিত্তি করে আগামী সংসদ নির্বাচনকালে বিরোধী শিবির অবশ্যই উপযুক্ত ব্যবস্থা নিতে পারবে বলে আমি বিশ্বাস করি।

মেজর জেনারেল (অব.) সৈয়দ মুহাম্মদ ইবরাহিম, বীর প্রতীক : চেয়ারম্যান, বাংলাদেশ কল্যাণ পার্টি

(যুগান্তর, ০৩/০৪/২০১৪)

You Might Also Like