খালেদাকে ভোটের বাইরে রাখার উদ্দেশ্যে ট্রাইব্যুনাল গঠনের পরিকল্পনা: নজরুল

খালেদা জিয়াসহ বিএনপি নেতাদের নির্বাচন থেকে বাদ দেওয়ার উদ্দেশ্যে নাশকতার বিচারে ট্রাইব্যুনাল গঠনের পরিকল্পনা হচ্ছে বলে সন্দেহ করছেন নজরুল ইসলাম খান।
রোববার এক অনুষ্ঠানে বিএনপির স্থায়ী কমিটির এই সদস্য বলেছেন, “সরকার নির্বাচনকে ভয় পায়। সেই কারণে মিথ্যা মামলা দিয়ে তারা আগামী নির্বাচনে বিজয়ী হওয়ার সম্ভাবনা আছে এমন সব জনপ্রিয় নেতাদের অযোগ্য করার চেষ্টা করছে। প্রধান চেষ্টা বেগম খালেদা জিয়াকে অযোগ্য করার।”
বিএনপি-জোটের অবরোধ-হরতালে নাশকতার বিচার সন্ত্রাসবিরোধী ট্রাইব্যুনালে করার পরিকল্পনা সম্প্রতি সংসদে জানান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এরপর তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু বলেন, ঈদের পরই ওই ট্রাইব্যুনাল গঠন করা হবে।
চলতি বছরের প্রথম তিন মাসে নাশকতার ওই ঘটনাগুলোর মামলায় খালেদা জিয়াসহ বিএনপির শীর্ষ নেতাদের প্রায় সবাইকে আসামি করা হয়েছে। এসব ফৌজদারি মামলায় দণ্ডিত হলে তারা নির্বাচনে অংশ নিতে পারবেন না।
নজরুল বলেন, “প্রচলিত আইনে বিচার করে হয়ত তাকে (খালেদা) অযোগ্য করা যাবে না। এমনকি দ্রুত বিচারে আইনে বিচার করলেও যদি না করা যায়, সেজন্য নতুন কৌশল তারা খুঁজছে।”
জাতীয় প্রেস ক্লাবে জাসাসের ইফতার অনুষ্ঠানে বক্তৃতায় নজরুল ইসলাম জাসদ সভাপতি ইনুর সমালোচনাও করেন।
তিনি বলেন, “আমি ইনু সাহেবকে প্রশ্ন করতে চাই, ১৯৭২-৭৫ পর্যন্ত আপনারা দাবি করেছেন যে, তৎকালীন সরকার ৩০ হাজার মুক্তিযোদ্ধাকে হত্যা করেছে। তখনকার সরকারের অনেক মন্ত্রী এখনও বেঁচে আছেন। সেই দলের সঙ্গে আজ এক হয়েছেন।”
“সরকারকে প্রশ্ন করতে চাই, গণবাহিনী করে যারা ঈদের জামাতে এমপিসহ অসংখ্য মানুষকে হত্যা করেছে বলে আপনারা রক্ষীবাহিনী দিয়ে তাদের নির্বিচারে হত্যা করেছেন। এই যুক্তিতে করেছেন যে, তারা গণবাহিনী করে সাধারণ মানুষকে হত্যা করেছে। সেই গণবাহিনীর ডেপুটি প্রধানকে আজ তথ্যমন্ত্রী বানিয়ে আপনারা খালেদা জিয়ার বিচার করতে চান?”
বিএনপি জোটের আন্দোলনে নাশকতার জন্য সরকারকে দায়ী করে নজরুল বলেন, আগামীতে অবশ্যই সব অপরাধ-খুনের বিচার হবে।
জাসাসের সভাপতি এমএ মালেকের সভাপতিত্বে ইফতার-পূর্ব আলোচনা সভায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপ-উপাচার্য় অধ্যাপক আ ফ ম ইউসুফ হায়দার, অধ্যাপক সদরুল আমিন, বিএনপি নেতা সানাউল্লাহ মিয়া, জাসাস সাধারণ সম্পাদক মনির খান, সাবেক সভাপতি রেজাবুদ্দৌলা চৌধুরীও বক্তব্য রাখেন।

You Might Also Like