বিএনপি-জামায়াত কর্মীরা আওয়ামী লীগার হয়ে যাচ্ছে!

বিক্ষিপ্ত কিছু খবর প্রচারিত হচ্ছে, বিএনপি-জামায়াতের প্রান্তিক স্তরের কিছু লোক সরকারি দলে যোগদান করছে। এই নিয়ে ক্ষমতাসীন দলের প্রতিক্রিয়া জানা যায় না। বিএনপি-জামায়াতও দলীয়ভাবে কোনো বক্তব্য দেয় না। নেতৃত্বপর্যায়ের না হলে রাজনৈতিক বিবেচনায় এ ধরনের দলবদল তাৎপর্যহীন। তবে পরিস্থিতি বুঝতে ও বোঝাতে এর একটা নিগূঢ় তাৎপর্য রয়েছে। আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় রয়েছে, বিভিন্ন কারণে মানুষ ক্ষমতার সান্নিধ্যে থাকতে চায়। কখনো সুবিধা পাওয়ার জন্য, কখনো ক্ষমতার আশ্রয়ে থেকে অসুবিধাগুলো থেকে রেহাই পাওয়ার জন্য।

বিরোধী দল দমনে সরকার একটা ফাঁদ পেতেছে। সেটা মামলার ফাঁদ। একই ব্যক্তিকে অনেক মামলার জালে জড়ানো ছাড়াও অজ্ঞাতসংখ্যক আসামি দিয়ে হয়রানিমূলক মামলা করা হয়। তারপর পুলিশ ও স্থানীয় সরকারদলীয় ক্যাডারদের চাঁদাবাজির রাস্তা খুলে যায়। স্থানীয় ক্যাডাররা ভীতি ছড়িয়ে দেয়Ñ আমাদের দলে যোগ দাও, আসামি করা হবে না; নয়তো বলে বেড়ায়- চাঁদা দাও, নয়তো আসামি করা হবে। এ ক্ষেত্রে পুলিশের আচরণও অভিন্ন। কেউ পোশাকি চাঁদাবাজ, কেউ বা দলীয় চাঁদাবাজ।

ক্ষমতার বরফ গলে গলে যেখানে এসেছে, এ ধরনের তলানিতে পড়া ক্ষমতার ছায়া মাড়াতে কেউ রাজি হয় না বা হওয়ার কথা নয়। যেমন ডুবন্ত নৌকায় উঠতে কেউ রাজি হয় না। তারপরও রাজনৈতিক, সামাজিক, পারিবারিক ও চাকরির নিরাপত্তা পেতে কেউ কেউ যে দল বদল করতে বাধ্য হচ্ছে, তাতে কোনো সন্দেহ নেই।

এই দেশে যারা ক্ষমতার রাজনীতি করেন, সেসব ক্ষমতাহীন দলের সদস্যদের ক্ষমতার রাজনীতির সাথে সম্পৃক্ত হওয়া বা দলবদল পেশাদার খেলোয়াড়দের মওসুমি জার্সি বদলের চেয়ে বেশি কিছু নয়। এক সময় বাম ও ইসলামপন্থীরা ক্ষমতার ছায়া মাড়ানো পছন্দ করতেন না। এখন হাওয়া পাল্টেছে। বাংলাদেশেও বাম ও ইসলামপন্থীরা এ ক্ষেত্রে একসময় পিউরিটান বৈশিষ্ট্য দাবি করত, এখন সেই দাবি অসার। আগে দলবদলে তারা আগ্রহী হতেন না। কারণ তাদের কাছে দল নয়, আদর্শ বড়। আদর্শের জন্য তারা দল ভেঙে নতুন দল গড়েন। একে অপরকে বিচ্যুত ও সংশোধনবাদী চিহ্নিত করে বিভক্তির রেখা টেনে বসেন।

ক্ষমতার জন্য যারা রাজনীতি করেন তারা ক্ষমতার স্বার্থে দল বদলান। এর নজির অসংখ্য। জাতীয় নেতা থেকে পাতিনেতা এই দৌড়ে কেউ পেছনে নেই। এ দেশে বিভাগোত্তর সময় থেকে দলবদল ও ভাঙাগড়ার খেলা চলে আসছে। পাকিস্তানের ২৩ বছরের মুসলিম লীগ কমপক্ষে চার খণ্ডে বিভক্ত হয়েছে। মুসলিম লীগের ভেতর থেকে বেরিয়ে এসে আওয়ামী মুসলিম লীগ হয়েছে। আওয়ামী মুসলিম লীগ থেকে ‘মুসলিম’ শব্দ বাদ পড়ে ধর্মনিরপেক্ষতাবাদের দাবিদার আওয়ামী লীগ জন্ম নিয়েছে। পঁচাত্তরে বাকশাল হওয়ার আগ পর্যন্ত আওয়ামী লীগ মোটা দাগে বিভক্ত হয়নি। তবে বাকশাল বিতর্কে পদত্যাগ করে আতাউল গনি ওসমানী ভিন্ন দলের গোড়াপত্তন করেন। আগে-পরে মাওলানা তর্কবাগীশও নতুন দলের জন্ম দেন। এ সময় মিজান লীগ, মালেক লীগের উদ্ভব হয়েছিল। তবে ব্যারিস্টার মইনুল হোসেন বাকশালে যোগ না দিয়ে দলীয় ব্যানারে যাননি। নিজের পূর্বাপর অবস্থান ধরে রেখে জাতীয় কর্তব্য পালনের চেষ্টা করে যাচ্ছেন।

ইসলামপন্থীদের মধ্যে জমিয়তে ওলামায়ে হিন্দ পাকিস্তান হওয়ার পর নাম পরিবর্তন করে এক অংশ জমিয়তে ওলামায়ে ইসলাম ও নেজামে ইসলাম পার্টি হয়ে যায়। এ দলটি নেজামে ইসলাম ব্যানারে মন্ত্রিপরিষদ পর্যন্ত যেতে সক্ষম হয়। অপর অংশ জমিয়ত নামেই থেকে যায়। অন্য দিকে জামায়াত দেশ বিভাগের পর প্রথমে ভারত থেকে এসে পাকিস্তান সংস্করণ, পরবর্তী সময়ে বাংলাদেশ সংস্করণে রূপ নেয়। দলটি বাংলাদেশের রাজনৈতিক বাস্তবতা মাথায় নিয়ে আইডিএল নামের বহুদলীয় মোর্চায় গিয়ে রাজনীতিতে প্রত্যক্ষভাবে অংশ নেয়, একসময় স্বনামে আত্মপ্রকাশ করে। শেষ পর্যন্ত বিএনপির সাথে রাজনৈতিক ঐক্য গড়ে ক্ষমতায় অংশ নেয়। জামায়াত বাদ দিয়ে বাংলাদেশের মূল ধারার সব ইসলামপন্থী দলের আদি পর্ব ছিল জমিয়ত অথবা নেজামে ইসলাম দলের সাথে সম্পৃক্ত। হালে শাসনতন্ত্র আন্দোলনসহ আরো কয়েকটি ছোট দল আলাদা একটা অবয়বে দাঁড়ানোর চেষ্টা করছে।

পাকিস্তান পর্বে বামপন্থী দলগুলোর রাজনীতি খোলামেলা ছিল না। কমিউনিস্ট পার্টি যা-না দেশজ, তারচেয়ে বেশি আন্তর্জাতিকতাবাদের অনুসারী। ন্যাপ ছিল তাদের রাজনৈতিক ফোরাম। পরে মওলানা ভাসানীর আশ্রয়ে চৈনিক ধারা বিকশিত হওয়ার চেষ্টা করেছে। প্রফেসর মোজাফফর আহমদের ব্যানারে মস্কোপন্থীরা প্রকাশ্যে রাজনীতি চর্চার চেষ্টা করেছে। তখন বামপন্থী ও কমরেড হওয়া ছিল একধরনের রোমাঞ্চকর ব্যাপার। তাদের ছাত্রসংগঠন ছাত্র ইউনিয়ন মেনন-মতিয়ার নামে পৃথক নেতৃত্বে ভাগ হয়ে যায়। তারা চলতে থাকেন পিকিং ও মস্কোর রাজনীতির বিভাজনের পথ ধরে। বলা হতো এদের এক দল মস্কোতে বৃষ্টি হলে ঢাকায় ছাতা তুলত, অন্য দল পিকিংয়ে বরফ পড়লে ঢাকায় বসে গায়ে চাদর জড়াত। হক, তোয়াহা, দস্তিদার, মণি সিং, সিরাজ শিকদার- সবাই ছিলেন হুলিয়া মাথায় আন্ডারগ্রাউন্ডে, যার ধারাবাহিকতায় কমরেড নুরুল হক মেহেদীও সক্রিয় ছিলেন, গোপনে থেকে তারা কাগুজে বাঘ হয়ে উঠেছিলেন। আমাদের মুক্তিযুদ্ধের আগে-পরে ভারতের চারু মজুমদার মাওবাদী ধারায় নকশালবাড়ি আন্দোলন শুরু করেন। বাংলাদেশে সিরাজ শিকদার কতকটা সেই ধারার কাজ করছিলেন। এখন ছত্তিশগড়সহ ভারতের বিভিন্ন রাজ্যে মাওবাদী বলতে যাদের ‘শত্রু’ বিবেচনা করে ‘খতম’ করা হচ্ছে, আসলে এরা বিপ্লবী চৈতন্যে বিশ্বাসী একটি সমাজতান্ত্রিক আন্দোলন। জ্যোতি বসু ও বুদ্ধদেব বসু এদেরই মডারেট অংশ।

জাসদ মূলত স্বাধীনতা-উত্তর স্বপ্নভঙ্গের প্রেক্ষাপটে তারুণ্যের দ্রোহের ফসল। আওয়ামী লীগের ছাত্রসংগঠন ছাত্রলীগের সংগঠকদের একটা অংশ এর গোড়াপত্তন করে। এটা প্রথমে ভারতীয় আগ্রাসনবিরোধী ও আওয়ামী লীগের ব্যর্থতার কথা তুলে ধরত। রব-জলিল-সিরাজুল আলম খান ছিলেন শীর্ষ নেতা। এরাই বৈজ্ঞানিক সমাজতন্ত্রের স্লোগান সামনে নিয়ে আসেন। এখন এর অনেকগুলো অপভ্রংশ। শীর্ষ নেতারা কেউ কেউ অতীতে ক্ষমতা শেয়ার করেছেন। এখনো কেউ কেউ ক্ষমতার চৌহদ্দিতে রয়েছেন। এদের অনেকের পোশাক পাল্টেছে, আওয়ামী চরিত্র পাল্টে যায়নি। সমাজতন্ত্রকেও তারা নিকুচি করে ছেড়েছেন।

বাংলাদেশে চৈনিক ধারার বড় একটি অংশ মওলানা ভাসানী- যাদু মিয়ার প্রভাবে এবং আগ্রাসনবিরোধী অবস্থানের কারণে জাতীয়তাবাদের ব্যানারে রাজনীতি করতে অভ্যস্ত হয়ে গেছেন। বাস্তবে মস্কো ধারা দৌড়ঝাঁপ দিয়ে নৌকায় উঠে গেছেন। চৈনিক ধারার রাশেদ খান মেনন ও মস্কো ধারার মতিয়া চৌধুরী আওয়ামী লীগেই বেশি স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করছেন। বেশির ভাগ সময় তারাই সাথে জনাতিনেক জাসদ নেতা সরকার ও সরকারি দলকে প্রতিনিধিত্ব করছেন প্রতিষ্ঠিত আওয়ামী লীগ নেতাদের চেয়েও বেশি মাত্রায়। এরাই কার্যত বিরোধী দলের বিরুদ্ধে বিষোদগার করতে কার্পণ্য করছেন না; বরং বলা চলে সরকারি মঞ্চটি তারা নিজেদের ভবিষ্যৎ রাজনীতির ইমেজের জন্য ব্যবহার না করে সরকারি দলের হয়ে নিজের ইমেজ নষ্টের জন্য অপব্যবহার করছেন। বামবিচ্যুত নষ্ট রাজনীতি তাদের ষোলোআনা গ্রাস করেছে।

সাধারণত ভিন্ন দল থেকে এসে যারা ক্ষমতা শেয়ার করেন তারা একটা পরিমিতিবোধ লালন করেন। এবার দেখলাম ঠিক উল্টো। যে ক’জন বামপন্থী আছেন, তারা এতটাই আস্ফালন প্রদর্শন করেন, পুরো সরকার যেন তাদের। হ্যাঁ, এটা ঠিক, বামপন্থীদের একটি গোপন কৌশল হচ্ছে- অনুপ্রবেশ। পরগাছার মতো মূল গাছে ঠাঁই করে নিয়ে নিজেদের অভীষ্ট লক্ষ্য অর্জন করা। গণভিত্তিসম্পন্ন দলে বামপন্থীদের অনুপ্রবেশ করে প্রভাবক হয়ে ওঠা পুরনো কৌশল। তবে এই কৌশল বাস্তবায়নে বামপন্থীরা চেষ্টা করে স্বকীয়তা বিসর্জন না দিয়ে নিভৃতে তাদের কাজ সাধন করতে। তা ছাড়া আওয়ামী লীগে বামপন্থীদের উপস্থিতি সূচনালগ্ন থেকেই। তবে এবারের মতো এতটা খোলামেলা অতীতে ছিল না। ছিল না বলেই দেশের বাম বুদ্ধিজীবীরাও নীতিনৈতিকতা ভুলে যান, পরজীবী বুদ্ধিজীবী সেজে বুর্জুয়া চরিত্রের আওয়ামী রাজনীতির সাথে গা ভাসিয়ে দেন। এ কারণেই তাদের কাছে গণতন্ত্র, আইনের শাসন, নির্বাচন, মৌলিক অধিকার, মানবাধিকার, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা সব কিছু নস্যি। বিবেকহারা আপাতত বৈধতার সঙ্কটে পড়া সরকারকে সমর্থনটিই বড়।

মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম, খালেকুজ্জামানদের মতো কিছু লোক স্বকীয়তা রক্ষা করে চলার চেষ্টা করেও পারছেন না; শুধু ধর্মনিরপেক্ষতাবাদের স্লোগান ও ইসলামপন্থীদের ব্যাপারে আওয়ামী লীগের ভোটের সংখ্যাতত্ত্বের ধ্বংসাত্মক রাজনীতির কাছে হার মানছেন বলে। এ ক্ষেত্রে বদরুদ্দিন ওমরের মতো অল্প ক’জন ভারতীয় সম্প্রসারণবাদ ও আধিপত্যবাদের বিরুদ্ধে ঋজু অবস্থান নেয়ার গরজে এখনো সর্বজনীন বক্তব্য দিতে পারছেন।

এক সময় বামপন্থী হয়েও যারা বাঙালি মুসলমানদের স্বকীয় বৈশিষ্ট্যে আঘাত করার ব্যাপারে সতর্ক ছিলেন, এখন তারা সে ব্যাপারেও অনেকের চেয়ে অগ্রসর। পূর্ব পাকিস্তান হয়ে পূর্ব বাংলা থেকে বাংলাদেশ হওয়ার ব্যাপারে চৈনিক ধারার বামপন্থীদের নিজস্ব কিছু বক্তব্য আছে। ভারতের সমর্থনে আমাদের মুক্তিযুদ্ধ করার বিষয়টিও তাদের মূল্যায়নে আলাদা দৃষ্টিভঙ্গির বিষয়। এখন তারাও ধরেই নিয়েছেন, বাঙালি মুসলমানের স্বকীয় বৈশিষ্ট্য বাম রাজনীতির জন্য সুখকর নয়। তাদের ধারণা, এটা ভাঙিয়ে ইসলামপন্থীরা সুবিধা নেয় এবং শিকড় বিস্তার করে। এতে নাকি তাদের কথিত ধর্মনিপেক্ষতার নাড়িতেও টান পড়ে।

বাঙালি মুসলমানদের স্বকীয় বৈশিষ্ট্য ও জাতিসত্তার স্বাতন্ত্র্য রক্ষার তাগিদ আছে বলেই বিএনপির গণভিত্তি এখনো মজবুত। বাম ও ধর্মনিরপেক্ষতাবাদীরা এবার এই ক্ষেত্রটিতেও আঘাত হেনেছে। অন্য দিকে বামপন্থীদের অনুপ্রবেশের রাজনৈতিক কৌশলের কাছে আওয়ামী লীগ হার মেনেছে। আওয়ামী লীগের বর্তমান রাজনীতি বঙ্গবন্ধুর অনুসৃত বাঙালি মুসলিম ভাবধারা রক্ষা ও অসাম্প্রদায়িক চৈতন্য একসাথে লালন ও ধারণের কৌশলের মধ্যে নেই। বঙ্গবন্ধু বাকশাল করেছেন মস্কোপন্থী রাজনীতির প্রভাব বলয়ে ঢোকার জন্য নয়, পরিস্থিতি মোকাবেলার জন্য। কিন্তু পরিস্থিতি তাকে গিলে খেয়েছে। আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক চরিত্রের ভেতর বামপন্থীদের আত্মস্থ করার একটা চিন্তা রয়েছে। তবে তারা ভাবেন, বামপন্থীদের ব্যবহার করবেন ভোটব্যাংক ও শত্রুর শত্রু বন্ধু হিসেবে। বাস্তবে ঘটেছে উল্টো, আওয়ামী লীগ বাম বন্ধুদের মঞ্চ হিসেবে ব্যবহৃত হতে গিয়ে দলটি এখন বামপন্থী আওয়ামী লীগ হয়ে গেছে। লতিফ সিদ্দিকী ও গাফফার চৌধুরীরা বঙ্গবন্ধুর দ্বিতীয় বৃহত্তম মুসলিম রাষ্ট্রের ধারণার ভেতর সাম্প্রদায়িকতার গন্ধ খুঁজছেন। কলমের আঁচড়ে, জিহ্বার ডগায় তাদের ইসলামবিদ্বেষ এখন খোলামেলা। সামাজিক শক্তি হিসেবে পরিচিত রাজনীতিবিমুখ আলেম-ওলামারাও তাদের ছোবল থেকে রেহাই পাচ্ছেন না। নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠ মুসলমানদের দেশে এই লাগামহীন আচরণ জনগণ বেশি দিন সহ্য করার কথা নয়।

কিছু আওয়ামী লীগারের ধারণা, বিএনপি-জামায়াতের তৃণমূল পর্যায়ের কিছু লোককে ‘আশকারা’ দিয়ে, ভয় দেখিয়ে কিংবা পুলিশি হয়রানির মুখে দলে টানলে সংখ্যালঘুকরণের জোয়ারের ভেতর একটা ভারসাম্য রক্ষা করা যাবে। বাস্তবে এসব কৌশল এই মুহূর্তে রাষ্ট্রক্ষমতার মালিক আওয়ামী নেতৃত্বের মগজে নেই। তারা সর্বগ্রাসী হয়ে উঠছে। এই গ্রাসের কবলে পড়ে বিরোধী দলের অসহায় জনশক্তি আপস করে চলতে চায়। ঘরছাড়া ও মামলার হয়রানিতে নাকাল হওয়া মানুষেরা আপাতত স্বস্তি চায়। এটা ভাঙাগড়ার রাজনীতি নয়, জার্সি বদলও নয়, ক্ষমতার দাপটের নিচে আপাতত মাথা গোঁজা। পরিবর্তিত পরিস্থিতি সব কিছু পাল্টে দেবে। কারণ, এ সরকার প্রথম সরকারও নয়, শেষ সরকারও নয়।

You Might Also Like