ময়মনসিংহে যাকাতের কাপড় নিতে গিয়ে পদদলিত হয়ে শিশুসহ নিহত ২৫, আহত অর্ধশতাধিক

ময়মনসিংহে যাকাতের কাপড় আনতে গিয়ে পদদলিত হয়ে অন্তত এক শিশুসহ ২৩ জন হতদরিদ্র নারী নিহত হয়েছেন। এছাড়া, আহত হয়েছেন শতাধিক নারী-পুরুষ। আহতদের মধ্যে চারজনের অবস্থা গুরুতর। তাদের ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

 

আজ (শুক্রবার) ভোর ৫টার দিকে অতুল চক্রবর্তী রোড এলাকায় ব্যবসায়ী শামীম তালুকদারের বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে। ঘটনার পর ফ্যাক্টরির মালিক, তার ছেলে এবং ম্যানেজারসহ ৮ জনকে আটক করা হয়েছে।

 

পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বৃহস্পতিবার রাতে নূরানি জর্দা ফ্যাক্টরির পক্ষ থেকে দুস্থ-অসহায় নারীদের মধ্যে যাকাতের কাপড় বিতরণ করার ঘোষণা দেয়া হয়। এ খবর জানার পরে হাজারো নারী-পুরুষ মধ্যরাতের পর থেকেই অতুল চক্রবর্তী রোডে ফ্যাক্টরির গেটের সামনে জড়ো হয়। সেহরির পরে ফ্যাক্টরির গেট খুলে দেয়া হয়। এসময় গেট দিয়ে একসঙ্গে শত শত মানুষ ঢোকার চেষ্টা করলে হুড়োহুড়ি লেগে যায়। এক পর্যায়ে পদদলিত হয়ে ঘটনাস্থলেই অন্তত ২৩ জনের মৃত্যু হয়। তবে মৃতের সংখ্যা বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

 

ময়মনসিংহের পুলিশ সুপার মইনুল হক বলেন, ‘“এ পর্যন্ত ২০টি ডেডবডি এখানে এসেছিল। তবে সংখ্যা আরও অধিক হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। কারণ আহত-নিহত ব্যক্তিদের পরিবার-পরিজন এদের রাস্তা থেকে নিয়ে গেছে বিভিন্ন দিকে।”

পরে সকাল সাড়ে ১০টার দিকে জেলা প্রশাসক মুত্তাকীম বিল্লাহ ফারুকি বলেন, তিনি ১৮ জনের মৃত্যুর খবর পেয়েছেন। আর পুলিশ সুপার বেলা ১১টার দিকে ২৩ জনের লাশ হাসপাতালে যাওয়ার কথা নিশ্চিত করেন।

 

এসপি বলেন, ‘আমরা এ বিষয়ে তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেব। যাকাতের বিষয়ে আগে থেকে পুলিশকে কিছুই জানানো হয়নি। ঘটনা ঘটার পর আমরা এ বিষয়ে জানতে পেরেছি।’

 

কোতোয়ালি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কামরুল ইসলাম জানান, ২২ জনের লাশ উদ্ধার করে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ মর্গে পাঠানো হয়েছে। তাঁদের মধ্যে ২১ জন নারী ও একজন শিশু।

 

তদন্ত কমিটি গঠন

জর্দা কারখানায় পদদলিত শতাধিক ব্যক্তি হতাহত হওয়ার ঘটনায় পুলিশ সদর দফতর থেকে তিন সদস্যের কমিটি গঠন করা হয়েছে।

ঢাকা জেলার অতিরিক্ত ডিআইজি শফিকুল ইসলামকে এ কমিটির প্রধান করা হয়েছে। কমিটির অন্য সদস্যরা হলেন, এপিবিএনের কমান্ডেন্ট মোস্তফা কামাল এবং ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের ডি অ্যান্ড পিএস বিভাগের এএসপি আফজাল হোসেন।

কমিটিকে আগামী ৫ কার্যদিবসের মধ্যে পুলিশ হেডকোয়ার্টারে প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে।

You Might Also Like