‘অসৎ ব্যবসায়ীদের চিহ্নিত করে নিবৃত্ত করবে এনবিআর’

অসৎ ব্যবসায়ীদের চিহ্নিত করে নিবৃত্ত করা হবে বলে জানিয়েছেন জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের(এনবিআর) চেয়ারম্যান মো. নজিবুর রহমান।

 

বৃহস্পতিবার রাজধানীর সেগুন বাগিচায় এনবিআরের কনফারেন্স রুমে জাতীয় মূসক দিবস ও মূসক সপ্তাহ উপলক্ষে এক সংবাদ সম্মেলনে এনবিআর চেয়ারম্যান বলেন, অনেক সময় অসৎ ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন শুল্ক স্টেশনসহ বিভিন্ন পর্যায়ে আমাদের কর্মকর্তাদের হয়রানির অভিযোগ পাওয়া যায়। বিষয়টি অত্যন্ত দুঃখজনক। তাই অসৎ ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে অত্যন্ত কঠোর ব্যবস্থা থাকবে। তাদের চিহ্নিত করে নিবৃত্ত করা হবে। অন্যদিকে সৎ ব্যবসায়ীদের সঙ্গে এনবিআর অত্যন্ত সুসম্পর্ক বজায় রাখবে। তাদের সহায়তা দেওয়া হবে।

 

তিনি আরো বলেন, শুধু তাই নয় এনবিআরের যেসব কর্মকর্তা গ্রাহকদের হয়রানি করবে তাদের বিরুদ্ধেও যেমন কঠোর পদক্ষেপ থাকবে তেমনি সততার সঙ্গে যেসব কর্মকর্তা দায়িত্ব পালন করবেন তাদের নিরাপত্তার বিষয়ে এনবিআর থেকে ভিন্ন পদক্ষেপ থাকবে। আমাদের নীতি হচ্ছে দুষ্টের দমন শিষ্টের পালন।

 

ইসিআর(ইলেকট্রনিক ক্যাশ রেজিস্ট্রার) ব্যবহারে অনিয়মের বিষয়ে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের উত্তরে এনবিআর চেয়ারম্যান বলেন, ইসিআর নিয়ে বিভিন্ন ধরনের জটিলতা রয়েছে। এই প্রকল্প শুরুর পর থেকেই অনেক ব্যবসায়ী কারসাজির মাধ্যমে এ মেশিনগুলো নষ্ট করে ফেলেন। ভ্যাট ইনটিলিজেন্সকে আরো জোড়দার করা হয়েছে। এরই মধ্যে বেশ কিছু ব্যবসা প্রতিষ্ঠানকে জরিমানাসহ বিভিন্ন দন্ডে দন্ডিত করা হয়েছে।

 

তিনি আরো বলেন, ভ্যাট ফাঁকি রোধে ইতিমধ্যে ভ্যাট অনলাইন প্রকল্প হাতে নিয়েছে এনবিআর। এটা পুরো মাত্রায় চালু হলে আশা করা যায় আর কারসাজি করা অসম্ভব হবে। এর পাশাপাশি ভ্যাট প্রদান, সংরক্ষন ও পরিশোধ এই তিনটি বিষয়ের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

 

সরকারি গ্যাস ডিসট্রিবিউশন কোম্পানির কাছে প্রায় ১৯ হাজার অনাদায়ী ভ্যাট আদায়ের বিষয়ে এক প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, সরকারি প্রতিষ্ঠান গ্যাস ডিসট্রিবিউশন কোম্পানিসহ বেশ কিছু কোম্পানির বকেয়া ভ্যাট নিয়ে এরই মধ্যে অর্থমন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনা হয়েছে। এরই মধ্যে ওই সকল কোম্পানি তাদের হালনাগাদ ভ্যাট প্রদানে উদ্যোগী হয়েছে।

 

এর আগে সংবাদ সম্মেলনে ১০ জুলাই মূসক দিবস উপলক্ষে বিভিন্ন কর্মসূচির ঘোষনা দেন এনবিআর চেয়ারম্যান। এ বিষয়ে তিনি বলেন, বিশ্বের অন্যান্য দেশের মতো আমরা আমদানি শুল্কে কম গুরত্ব দিয়ে মূসকের ওপর জোড় দিয়েছি। বাংলাদেশে ১৯৯১ সালে মূসক প্রবর্তিত হওয়ার পর এ বিষয়ে অধিক সচেতনতা বৃদ্ধির জন্য ২০১১ সাল থেকে মূসক দিবস ও সপ্তাহ উদযাপন করা হচ্ছে।

 

এবারে জাতীয় মূসক দিবসের মূল শ্লোগান হলো- ‘সময় মতো মূসক দেবো, দেশ গড়ায় অংশ নেবো’।

 

দিবসটি উপলক্ষে রাজধানীসহ সারা দেশে মূসক র‌্যালি, মতবিনিময় সভা, জাতীয় পত্রিকায় ক্রোড়পত্র প্রকাশ, টিভি টকশোসহ বিভিন্ন কর্মসূচি হাতে নেওয়া হয়েছে। এরই মধ্যে জাতীয় ও জেলা পর্যাযে সর্বোচ্চ মূসকদাতা ১১৯টি প্রতিষ্ঠানের নাম ঘোষণা করা হয়েছে।

You Might Also Like