না.গঞ্জের ৭ খুন: নারাজি আবেদন খারিজ

চাঞ্চল্যকর নারায়ণগঞ্জের ৭খুনের মামলায় নারাজি আবেদন খারিজ করে দিয়েছেন আদালত। বুধবার নারায়ণগঞ্জ আদালত এ আবেদন খারিজ করে দেন। একই সঙ্গে আদালত পলাতক আসামিদের ধরতে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেছেন। র‌্যাবের সাবেক কর্মকর্তা তারেক সাঈদসহ ৩২ আসামি আদালতে হাজির করা হয়। গত ৮ জুন চার্জশীটের বিরুদ্ধে বাদী নিহত কাউন্সিলর নজরুল ইসলামের স্ত্রী সেলিনা ইসলাম বিউটির নারাজি আবেদনের শুনানি অনুষ্ঠিত হয়। নারায়ণগঞ্জ সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট এইচএম শফিকুল ইসলামের আদালতে শুনানি শেষে ৮ জুলাই শুনানি ও আদেশের দিন ধার্য করে দিয়েছিলেন।

জানা গেছে, গত ৯ এপ্রিল সাত খুনের মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ডিবির ওসি মামুনুর রশিদ নারায়ণগঞ্জের সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের ৪নং ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর নূর হোসেনকে প্রধান আসামি করে র‌্যাব-১১ এর সাবেক তিন কর্মকর্তা লে. কর্নেল (অব) তারেক সাঈদ মোহাম্মদ, মেজর (অব) আরিফ হোসেন ও লে. কমান্ডার (অব) এসএম রানাসহ ১৭ র‌্যাব সদস্য ও কাউন্সিলর নূর হোসেনের সহযোগীসহ মোট ৩৫ জনকে অভিযুক্ত করা হয়। এদের মধ্যে ২২ জন কারাগারে আটক রয়েছেন। অপরদিকে ভারতের কলকাতার জেলহাজতে নূর হোসেন আটক আছেন। আর আরও ১২ আসামি পলাতক রয়েছেন।

অপরদিকে অভিযোগপত্র থেকে নিহত নজরুল ইসলামের স্ত্রী বিউটির দায়ের করা মামলার এজাহারভুক্ত ৬ আসামির মধ্যে পাঁচ আসামি সিদ্ধিরগঞ্জ থানা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ইয়াছিন মিয়া, ঠিকাদার ও নিহত নজরুলের চাচাশ্বশুর হাসমত আলী হাসু, আমিনুল ইসলাম রাজু, ইকবাল হোসেন ও আনোয়ার হোসেন আশিককে অব্যাহতি দেয়া হয়।

ফলে গত ১১ মে আদালতে সেলিনা ইসলাম বিউটি চার্জশীটের বিরুদ্ধে নারাজির আবেদন করেন। নারাজি আবেদনে নয়টি কারণ উল্লেখ করা হয়।

ফতুল্লা থানায় দায়ের করা একটি মামলার বাদী নিহত প্যানেল মেয়র নজরুল ইসলামের স্ত্রী সেলিনা ইসলাম বিউটি জানান, এজাহারভুক্ত পাঁচ আসামিকে বাদ দিয়ে অভিযোগপত্র কোনমতেই সুষ্ঠু হতে পারে না। নারাজি আবেদন মঞ্জুর না হওয়া পর্যন্ত আদালতে তার আবেদন অব্যাহত থাকবে বলে তিনি জানিয়েছেন।

উল্লেখ্য, গত বছরের ২৭ এপ্রিল ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ লিংক রোডের লামাপাড়া এলাকা থেকে কাউন্সিলর নজরুল ইসলাম, আইনজীবী চন্দন সরকার, নজরুলের বন্ধু সিরাজুল ইসলাম লিটন, যুবলীগ নেতা ও নজরুলের সহযোগী মনিরুজ্জামান স্বপন, তাজুল ইসলাম, স্বপনের প্রাইভেটকারচালক জাহাঙ্গীর ও চন্দন সরকারের প্রাইভেটকার চালক ইব্রাহিমকে অপহরণ করা হয়।

এরপর ৩০ এপ্রিল শীতলক্ষ্যা নদীর বন্দর থানার কলাগাছিয়া থেকে নজরুল ও চন্দন সরকারসহ ছয়জন এবং পরদিন সিরাজুল ইসলাম লিটনের লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। এ ঘটনায় ফতুল্লায় থানায় নিহত নজরুলের স্ত্রী বিউটি ও নিহত চন্দন সরকারের জামাতা ডা. বিজয় কুমার পাল বাদী হয়ে পৃথক দুটি মামলা দায়ের করেন।

You Might Also Like