ধর্ম মন্ত্রণালয়ের বিরুদ্ধে অনিয়মের অভিযোগ সংসদে

এজেন্সির মাধ্যমে হজযাত্রী পাঠানোর ক্ষেত্রে অনিয়মের অভিযোগ করে সংসদে ধর্ম মন্ত্রণালয়ের ওপর ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন সংসদ সদস্য মইন উদ্দীন খান বাদল ও নজিবুল বশর মাইজভাণ্ডারী।

 

মঙ্গলবার সংসদে অনির্ধারিত আলোচনায় অংশ নিয়ে জাসদের মইন উদ্দীন খান বলেন, ‘নামে ধর্ম মন্ত্রণালয় হলেও সবচেয়ে বেশি অধর্মের কাজ করছে তারা। তরিকত ফেডারেশনের নজিবুল বশর সরকারি কর্মকর্তাদের হজ ব্যবসায় সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ করেন।

 

এবছর হজযাত্রীদের নাম রেজেষ্ট্রেশনের ক্ষেত্রে ধর্ম মন্ত্রনালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা অনিয়ম করেছেন এমন অভিযোগ করে তা তদন্ত করা এবং কোটার অতিরিক্ত ২৫ হাজার হজযাত্রীকে হজে পাঠানোর ব্যবস্থা করার জন্য উদ্যোগ নেয়ার দাবি জানানো হয় সংসদে।

 

এবারই প্রথম হজ পালনে আগ্রহীদের নাম নিবন্ধন করতে হয়েছে অনলাইনে। বাংলাদেশের জন্য নির্ধারিত কোটা অনুযায়ী এ বছর এক লাখ এক হাজার ৭৫৮জন হজে যেতে পারবেন। কিন্তু এর বাইরে অতিরিক্ত প্রায় ২৫ হাজার আবেদন এবার এজেন্সিগুলোর মাধ্যমে জমা পড়ে, যার মধ্যে প্রায় ১০ হাজার আবেদনকারী টাকাও জমা দেন।

 

জাসদের কার্যকরী সভাপতি মইন উদ্দীন খান বলেন, ধর্ম মন্ত্রণালয়ে যারা নামাজ পড়ে অধর্মের কাজ করবেন, তাদের বিচার আল্লাহর তরফ থেকে হবে। আমাদের তরফ থেকেও হওয়া উচিত।

 

চলতি বছরের হজ রেজিষ্ট্রেশনের ক্ষেত্রে নানা অনিয়মের চিত্র তুলে ধরে তিনি বলেন, ধর্ম মন্ত্রনালয়ের কর্মকর্তাদের আত্বীয় স্বজনের হজ এজেন্সি রয়েছে। ফলে রেজিষ্ট্রেশনের ক্ষেত্রে অনিয়ম করা হয়েছে। তিনি বিষয়টি খতিয়ে দেয়ার  আহবান জানিয়ে বলেন, এজেন্সির কারণে এবার আমাদের দেশের মানুষ ওমরাহ করতে যেতে পারেনি।  হজের ক্ষেত্রে ২৫ হাজার লোক রেজিষ্ট্রেশন করতে পারেনি।  এরা হজে যেতে না পারলে একটা খারাপ প্রতিক্রিয়া হবে।

 

মইন উদ্দীন খান বলেন, যদি সৌদি আরব কোটা বৃদ্ধি না করে এবং করার সম্ভাবনা কম  তাহলে  যাদের বয়স ৪০ বছরের নীচে তাদের এবং যারা প্রতিবছর হজে যান তাদের  আগামী বছরের জন্য অপেক্ষমান রাখা যেতে পারে। এতো করে কিছু সংখ্যক হজযাত্রীকে অন্তর্ভুক্ত করার উপায় বের হবে। তাতেও সমাধান না হলে সব এজেন্সির হজযাত্রী যাতে হজে যেতে পারে তার ব্যবস্থা করতে হবে।

 

নজিবুল বশর মাইজভান্ডারী বলেন, হজযাত্রীর রেজিষ্ট্রেশন এবং ২৫ হাজার অতিরিক্ত হয়ে পড়ার বিষয়টি নিয়ে সংসদীয় কমিটিতে আমরা একটি তদন্ত কমিটি গঠন করার কথা বলেছি। আমরা আশা করছি তদন্ত কমিটি করে পুরো বিষয়টি তদন্ত করা হবে। সংসদীয় কমিটিও এ ব্যাপারে চূড়ান্ত সুপারিশ পেশ করবে।

 

প্রসঙ্গত, এ বছর বাংলাদেশি হজযাত্রীর কোটা ১ লাখ ১ হাজার ৭৫৮ জন। কিন্তু  এবার কোটা ছাড়িয়ে প্রায় ২৫ হাজার হজযাত্রী অতিরিক্ত হয়ে গেছে। বাংলাদেশের পক্ষ থেকে অতিরিক্ত কোটার জন্য আবেদন করা হলেও এখন পর্যন্ত কোন সাড়া পাওয়া যায়নি। প্রায় ৫শ এজেন্সি  অতিরিক্ত হয়ে যাওয়া  ২৫ হাজার হজযাত্রী নিয়ে উদ্বেগ উৎকণ্ঠার মধ্যে রয়েছেন।

You Might Also Like