ক্রিমিয়া সংকট : পাশ্চাত্য ও রাশিয়ার সংঘাত এড়িয়ে যাওয়ার নেপথ্যে

ইউক্রেন সংকটকে কেন্দ্র করে পাশ্চাত্যের সঙ্গে রাশিয়ার উত্তেজনা নজীরবিহীনভাবে বেড়ে গেলও দু’পক্ষই আলোচনার মাধ্যমে এ উত্তেজনা কমানোর আশা ব্যক্ত করেছে।

মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী জন কেরিকে বহনকারী বিমান সৌদি আরব থেকে ইসরাইলে না গিয়ে হঠাৎ করে গতিপথ পরিবর্তন করে প্যারিসে চলে গেছে। সেখানে তিনি ইউক্রেন সংকট নিয়ে রুশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই ল্যাভরভের সঙ্গে বৈঠক করেছেন। যদিও তাদের চারঘন্টাব্যাপী বৈঠক কোনো ফলাফল ছাড়াই শেষ হয়েছে।

ইউক্রেনের রুশপন্থী প্রেসিডেন্ট ভিক্টর ইয়ানুকোভিচ ইউরোপের সঙ্গে একটি চুক্তি সই করতে অস্বীকৃতি জানানোর পর গত নভেম্বরে এ সংকট শুরু হয়। শেষ পর্যন্ত পাশ্চাত্যপন্থী আন্দোলনের জের ধরে ক্ষমতাচ্যুত হন ইয়ানুকোভিচ। কিন্তু রাজধানী কিয়েভে সরকার পরিবর্তনের মধ্যেই ইউক্রেন সংকট থেমে থাকেনি; বরং এটি আরো জটিল আকার নেয়।

পাশ্চাত্য ও রাশিয়া পরস্পরের বিরুদ্ধে এই অভিযোগ তুলতে থাকে যে, তারা ইউক্রেনের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ করছে।  এরইমধ্যে ইউক্রেনের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলীয় স্বশাসিত প্রজাতন্ত্র ক্রিমিয়ায় অনুষ্ঠিত এক গণভোটের জের ধরে এটি রাশিয়ায় যোগ দেয়। এ অবস্থায় আমেরিকা ও ইউরোপীয় ইউনিয়ন মস্কোর বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিয়ে রুশ ফেডারেশনে ক্রিমিয়ার অন্তর্ভূক্তির প্রচেষ্টা রুখে দেয়ার চেষ্টা করে। শিল্পোন্নত দেশগুলোর সংস্থা জি-এইট থেকে রাশিয়াকে বহিষ্কার এবং দেশটির কয়েকজন শীর্ষ নেতার ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা ছিল এসব শাস্তিমূলক ব্যবস্থার অন্যতম।

কিন্তু পাশ্চাত্যের এ রক্তচক্ষু উপেক্ষা করে রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন ক্রিমিয়াকে তার দেশে অন্তর্ভূক্ত করার চুক্তিতে সই করেন। আর এর মাধ্যমে ৬০ বছর পর ক্রিমিয়া আবার রাশিয়ার মূল ভূখণ্ডে একীভূত হয়ে যায়। মস্কোর এ পদক্ষেপের পর পশ্চিমা দেশগুলো রাশিয়ার বিরুদ্ধে গরম গরম বক্তব্য দিয়ে যায়। কিন্তু তাতে বাস্তবতার কোনো হেরফের হয়নি; ক্রিমিয়া ইউক্রেন থেকে আলাদাই হয়ে যায়।

এখনো রাশিয়া এবং পাশ্চাত্য পরস্পরবিরোধী হুংকার দিয়ে যাচ্ছে ঠিকই কিন্তু একইসঙ্গে শান্তিপূর্ণ উপায়ে সংকট সমাধানের লক্ষ্যে দু’পক্ষের কূটনীতিকরা চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। অনেকে প্রশ্ন করছেন, শীতল যুদ্ধের পর প্রাচ্য ও পাশ্চাত্যের মধ্যকার সর্বোচ্চ উত্তেজনা কমানোর জন্য কেন দু’পক্ষই চেষ্টা করে যাচ্ছে? এ প্রশ্নের উত্তর হয়তো নয়া বিশ্বব্যবস্থার গঠনকাঠামোর আওতায় খুঁজতে হবে যেখানে অর্থনৈতিক স্বার্থই প্রাধান্য পায়। বর্তমান বিশ্বব্যবস্থায় প্রাচ্য ও পাশ্চাত্যের অর্থনৈতিক স্বার্থ এমনভাবে পরস্পরের সঙ্গে জড়িয়ে গেছে যে, সংঘাত নয় বরং সমঝোতা ও সহযোগিতার মাধ্যমেই দু’পক্ষ লাভবান হতে পারে। কোনো পক্ষ যদি সংঘাতে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেয় তবে তাকে পস্তাতে হয় এবং অর্থনৈতিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হতে হয়। পাশ্চাত্যের সঙ্গে বর্তমানে রাশিয়ার কয়েক হাজার কোটি ডলারের বাণিজ্য রয়েছে; তাই একটি ছোট ভূখণ্ডকে কেন্দ্র করে তারা আপাতত সংঘাতে না যাওয়ারই সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

You Might Also Like