সুশীল সমাজের ভূমিকা নিয়ে মন্ত্রিসভায় প্রশ্ন

বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা ও প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানকে দেশের ‘প্রথম’ রাষ্ট্রপতি দাবি করা নিয়ে খালেদা জিয়া ও তারেক রহমানের বক্তব্যের জবাব দিতে সব রকম সক্ষমতা কাজে লাগাবে সরকার। এজন্য মন্ত্রিপরিষদের সদস্যদের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

মেজর জিয়াকে দেশের সপ্তম রাষ্ট্রপতির স্থলে প্রথম রাষ্ট্রপতি হিসেবে বিএনপি দাবি করে ইতিহাস বিকৃত করার পরও দেশের সুশীল সমাজ নিশ্চুপ কেন তা নিয়ে প্রশ্ন ওঠেছে মন্ত্রিসভায়।

মন্ত্রিসভার সদস্যরা জানতে চেয়েছেন, সরকার বা আওয়ামী লীগের কেউ একটু এদিক-সেদিক করলে সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা নানা প্রতিক্রিয়া দিয়ে থাকেন। অথচ বিএনপির ইতিহাস বিকৃতির জবাবে তারা কেন মুখ খুলছেন না। একই প্রশ্ন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনারও।

তিনি বলেছেন, টকশোতে রাত জেগে সরকারের সমালোচনা করেন সুশীল সমাজ। কিন্তু ইতিহাস বিকৃতি নিয়ে কোন কথা বলছেন না। প্রধানমন্ত্রী আরো বলেন, আওয়ামী লীগ আত্মরক্ষার্থে সব ধরনের পদক্ষেপ নেবে। কোনো ষড়যন্ত্রের কাছে মাথা নত করবে না। মন্ত্রিসভার বৈঠক শেষে একাধিক মন্ত্রী এসব তথ্য জানান।

সোমবার সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে মন্ত্রিসভার বৈঠকে অনির্ধারিত আলোচনায় বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমান সম্পর্কে দলটির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া ও সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমানের বক্তব্যের বিষয়টি প্রাধান্য পায়।

বৈঠকে উপস্থিত একজন মন্ত্রিপরিষদ সদস্য জানান, অনির্ধারিত আলোচনায় মন্ত্রিপরিষদের কেউ কেউ বলেছেন খালেদা জিয়া ও তারেক রহমানের বক্তব্য পাগলের প্রলাপ। তবে বেশির ভাগ সদস্যই বিষয়টি আমলে নেওয়ার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন।

তারা বলেছেন, বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখতে হবে। তা না হলে নতুন প্রজন্ম খালেদা জিয়া ও তারেক রহমানের বক্তব্যকেই সঠিক মনে করবে।

মন্ত্রিসভার একজন সদস্য জানান, মন্ত্রিসভা মনে করে যারা একবিংশ শতাব্দীতে ইতিহাস বিকৃত করতে চায় তাদের এই বিষয়টিকে শক্ত হাতে রোধ করা দরকার। জাতীয় সঙ্গীত লাখো কণ্ঠে গাওয়া নিয়ে বিএনপির গাত্রদাহ সৃষ্টি হয়েছে- এজন্য খালেদা জিয়া ও তারেক রহমানের বক্তব্য থেকে ষড়যন্ত্রের গন্ধ পাওয়া যাচ্ছে। কারণ খালেদা জিয়া-তারেক রহমান আমাদের জাতীয় সঙ্গীতে বিশ্বাস করেন না। যত প্রকারের সক্ষমতা আছে তা দিয়ে খালেদা জিয়া ও তারেক রহমানের এ ষড়যন্ত্রকে মোকাবেলা করা হবে। রাজনৈতিকভাবেও এ ষড়যন্ত্র মোকাবিলা করার বিষয়ে আলোচনা হয়েছে মন্ত্রিসভার বৈঠকে। জাতীয় সঙ্গীত গাওয়ার বিপরীতে আন্দোলন করে গিনেজ বুকে নাম লেখাবে বলে খালেদা জিয়া যে বক্তব্য দিয়েছে তাকেও ষড়যন্ত্র বলে দেখছে মন্ত্রিসভা।

উল্লেখ্য, বিএনপির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমান ২৫ মার্চ লন্ডনে এক অনুষ্ঠানে দাবি করেন, তার পিতা জিয়াউর রহমান ছিলেন বাংলাদেশের প্রথম রাষ্ট্রপতি ও স্বাধীনতার ঘোষক। দুদিন পর রাজধানীতে অপর এক অনুষ্ঠানে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াও একই দাবি করে বলেন, তার স্বামীই ছিলেন দেশের প্রথম রাষ্ট্রপতি।

বাংলাদেশের প্রথম রাষ্ট্রপতি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জায়গায় জিয়াউর রহমানকে প্রথম রাষ্ট্রপতি দাবি করা নিয়ে তাদের এ বক্তব্যের পর আওয়ামী লীগ নেতারা তীব্র সমালোচনা করেছেন। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোতেও সমালোচনার ঝড় ওঠে। সোমবার আদালতে একটি মামলাও হয়।

You Might Also Like