জামায়াতের বিরুদ্ধে তদন্ত প্রতিবেদন প্রসিকিউশনে

মানবতাবিরোধী অপরাধের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে জামায়াতের বিরুদ্ধে তদন্ত প্রতিবেদন প্রসিকিউশনে জমা দিয়েছে তদন্ত সংস্থা। আজ বৃহস্পতিবার দুপুর ১টা ২৫ মিনিটে তদন্ত প্রতিবেদন প্রসিকিউশনে জমা দেয়া হয়।

গত বছরের ১৮ আগস্ট জামায়াতের বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু করে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের তদন্ত সংস্থা। প্রায় আট মাস পর বিভিন্ন নথিপত্র, স্থান পরিদর্শন করে জামায়াতের বিরুদ্ধে প্রতিবেদন চূড়ান্ত করা হয়।
এর আগে ১৮ মার্চ মঙ্গলবার তদন্ত সংস্থার প্রধান সমন্বয়ক আবদুল হান্নান খান সংবাদ সম্মেলনে জানান, একাত্তরে মুক্তিযুদ্ধকালে জামায়াতে ইসলামী সাত ধরনের অপরাধের সাথে জড়িত ছিল। প্রতিবেদনে দল হিসেবে জামায়াতকে নিষিদ্ধ করার সুপারিশ করা হয়েছে। একই সাথে দৈনিক সংগ্রাম পত্রিকা নিষিদ্ধে সুপারিশ করা হয়েছে।
ভবিষ্যতে জামায়াতের আদর্শে কেউ যেন ভিন্ন নামে রাজনীতি করতে না পারে তারও সুপারিশ করা হয়েছে ওই প্রতিবেদনে। জামায়াতের নিয়ন্ত্রণাধীন ১০৯টি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতেও বলা হয়েছে। প্রতিবেদনে ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ থেকে ১৬ ডিসেম্বর পর্যন্ত সক্রিয় জামায়াতের সকল স্তরের নেতাদের অভিযুক্ত করা হয়। প্রতিবেদনে বর্তমান জামায়াতের ৫২ জন নেতার নাম উল্লেখ করা হয়। এদের মধ্যে কয়েকজনকে মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে সাজা দেওয়া হয়েছে।
জামায়াতের বিরুদ্ধে সমগ্র বাংলাদেশ তদন্ত করে মোট ৭০ জন সাক্ষীর সাক্ষ্যের ভিত্তিতে ৩৭৩ পৃষ্ঠার এই প্রতিবেদনটি তৈরী করা হয়েছে বলে জানানো হয় সংবাদ সম্মেলনে। প্রতিবেদনের সঙ্গে বিভিন্ন জব্দ তালিকা ও দালিলিক প্রমাণপত্র আছে সাত খন্ডের মোট ২৩০৩ পৃষ্ঠার। এ ছাড়া অন্যান্য দলিল ১০ খন্ডে (৩৭৬১ পৃষ্ঠা) এর সঙ্গে যুক্ত করা হয়েছে।
প্রসঙ্গত, গত বছরের ১ আগস্ট জামায়াতে ইসলামীর নিবন্ধন অবৈধ ঘোষণা করে হাইকোর্ট। সেই অনুযায়ী নিবন্ধিত দলের তালিকা থেকে জামায়াতকে বাদ দেয় নির্বাচন কমিশন। তবে জামায়াত এখনও নিষিদ্ধ নয়। রাজনৈতিক কার্যক্রম পরিচালনার বৈধ অধিকার রয়েছে দলটির।

You Might Also Like