বাংলাদেশ থেকে জেলে ও নির্মাণ শ্রমিক নেবে থাইল্যান্ড

বাংলাদেশ থেকে জেলে ও নির্মাণশ্রমিক নেবে থাইল্যান্ড। খাদ্য, জ্বালানি, পর্যটন ও স্বাস্থ্য খাতে বিনিয়োগ করবে দেশটি।
বাংলাদেশের ৬৯৯৮টি পণ্য থাইল্যান্ডের বাজারে শুল্ক ও কোটামুক্ত সুবিধা পাবে। এ ছাড়া দুই দেশের উন্নয়নে সংযোগ (কানেকটিভিটি, বিশেষ করে সড়ক ও নৌ-যোগাযোগ) ইস্যুতে বাংলাদেশ-থাইল্যান্ড একসঙ্গে কাজ করবে।
প্রথমবারের মতো দুই দেশের মধ্যে অনুষ্ঠিত সচিব পর্যায়ের (এফওসি) বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। বৈঠকটি ঢাকার একটি রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবনে অনুষ্ঠিত হয়। বাংলাদেশের পক্ষে পররাষ্ট্র সচিব মো. শহীদুল হক এবং থাইল্যান্ডের পক্ষে পররাষ্ট্র সচিব নরসিত সিনহাসেনি নিজ নিজ দেশের প্রতিনিধিত্ব করেন।
বৈঠক শেষে গণমাধ্যমকর্মীদের জন্য আয়োজিত যৌথ প্রেস করফারেন্সে থাইল্যান্ডের পররাষ্ট্র সচিব নরসিত সিনহাসেনি বলেন, বাংলাদেশের জেলে ও নির্মাণশ্রমিকরা খুবই দক্ষ। থাইল্যান্ড বিষয়টি ওয়াকিবহাল। খুব দ্রুত এ বিষয়ে বাংলাদেশের সঙ্গে একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর করা হবে।
তিনি আরো বলেন, সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরের আগে প্রয়োজনীয় কাজ (সাচিবিক) সেরে নেওয়া হচ্ছে। আশা করছি, এ বছরের দ্বিতীয় পর্বে এ বিষয়ে দুই দেশের মন্ত্রী পর্যায়ের বৈঠকে চুক্তি স্বাক্ষর হবে।
থাইল্যান্ডের বাজারে শুল্ক ও কোটামুক্ত বাংলাদেশী পণ্য প্রবেশের সুবিধার বিষয়ে পররাষ্ট্র সচিব নরসিত সিনহাসেনি বলেন, বাংলাদেশের বাণিজ্যের উন্নয়নে ৬৯৯৮টি পণ্য থাইল্যান্ডের বাজারে শুল্ক ও কোটামুক্ত সুবিধা পাবে। এই সুবিধা দুই বছর পরপর নবায়ন করা হবে। বাংলাদেশের পক্ষ থেকে আরও কিছু পণ্যের শুল্ক ও কোটামুক্ত প্রবেশের প্রস্তাব ছিল। এগুলো সামনে নবায়নের সময় বিবেচনা করা হবে।
বাংলাদেশের পররাষ্ট্র সচিব মো. শহীদুল হক বলেন, প্রথমবারের মতো অনুষ্ঠিত সচিব পর্যায়ের বৈঠকটি খুবই ফলপ্রসু হয়েছে। বৈঠকে দ্বি-পাক্ষিক বাণিজ্য, সংযোগ, বিণিয়োগ, কারিগরি সহযোগিতা, যোগাযোগ, সামরিক, ক্রীড়া, সংস্কৃতি, পর্যটন ও শ্রম খাত নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। এ ছাড়া আঞ্চলিক ফোরাম বিমসটেক (BIMSTEC) ও আসেম (ASEM)-কে আরও কিভাবে শক্তিশালী করে এই অঞ্চলের উন্নয়ন নিশ্চিত করা যায় সে বিষয়েও বৈঠকে আলোচনা করা হয়।
থাইল্যান্ডের পররাষ্ট্র সচিব নরসিত সিনহাসেনি বলেন, ২০১২ সালে থাইল্যান্ডের তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী ইংলাক সিনাওয়ার্তা ঢাকা সফর করেন। দুই দেশের মধ্যে বিদ্যমান দ্বি-পাক্ষিক সম্পর্ক আরও শক্তিশালী করতে ওই সফরে দুই দেশের মধ্যে নিয়মিতভাবে সচিব পর্যায়ের বৈঠক অনুষ্ঠানের বিষয়ে একটি সমাঝোতা স্মারক স্বাক্ষর করা হয়। এরপর দুই দেশের বিভিন্ন কারণে স্বাক্ষর করা সমাঝোতা স্মারক অনুযায়ী সচিব পর্যায়ের বৈঠক অনুষ্ঠান করা সম্ভব হয়নি।

You Might Also Like