বরিশালে প্রবল বর্ষণে জনজীবন বিপর্যস্ত

সাগরে নিম্ন চাপের প্রভাব ও প্রবল বর্ষণে জনজীবন সম্পূর্ণ বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। সুর্য্যরে মুখ দেখা যায়নি। নগরীর নিচু এলাকার বেশিরভাগ বাড়ি-ঘর সমান পানি উঠে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে।

অতিরিক্ত বৃষ্টির কারনে পানিতে শহরের অনেক দোকানপাট তলিয়ে গেছে এবং জেলার অন্তত ৫০টি গ্রাম প্লাবিত হয়েছে।

ওই এলাকার মানুষ ঘর ছেড়ে আশ্রয় নিয়েছে খোলা আকাশের নিচে। সেখানেই মানবেতর দিন কাটছে তাদের। তবে পানি উন্নয়ন বোর্ড বলছে জলবায়ুর পরিবর্তনের প্রভাবে বিস্তীর্ন জনপদ প্লাবিত হচ্ছে।

প্লাবিত বেশ কিছু স্থানে সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, অরক্ষিত বেড়িবাধ দিয়ে জোয়ারের পানি প্রবেশ করে বিস্তীর্ন জনপদ তলিয়ে যাওয়ার কারনে পলাশপুর, চরআবদানি, গুচ্ছগ্রাম, চরেরবাড়ির মানুষ খোলা আকাশের নিচে আশ্রয় নিয়েছে। যাদের নেই নাওয়া খাওয়া কিংবা মাথা খোজাঁর ঠাই। খোলা আকাশেই চুলো জ্বালিয়ে কষ্টে দিন কাটাচ্ছেন তারা।

জেলা প্রশাসক মোঃ শহিদুল আলম জানান জোয়ারের ও বৃষ্টির পানিতে নিম্মাঞ্চল পানির নিচে।

তলিয়ে গেছে পুকুর, মাছের ঘের, ও ছোট বড় হাটবাজার। ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে শত শত হেক্টর ফসলি জমি, রাস্তাঘাট আর শিক্ষা প্রতিষ্ঠান।

অত্যধিক পানি প্রবাহ দেখে শুধু এলাকাবাসী নয় চিন্তিত ক্ষোদ পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তারাও।

নগরীর ভাটারখাল কলোনীর বাসিন্দা বাদশা বলেন, বৃষ্টির পানিতে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে নগরীর নিম্নাঞ্চলে। হাঁটু সমান পানিতে তলিয়ে গেছে কীর্তনখোলা নদীর তীর সংলগ্ন বিভিন্ন এলাকা।

সকালে নগরীর বাসিন্দা শাখাওয়াত বলেন, বুধবার রাত থেকে বৃষ্টি শুরু হয়েছে। কখনো গুঁড়ি গুঁড়ি, আবার কখনো মুষলধারায় বৃষ্টি হচ্ছে।

গৃহিনী ফাতেমা বেগম অভিযোগ করেন, বৃষ্টির কারণে রাস্তায় যানবাহন চলাচল তেমন একটা না করার সুযোগে রিকশা চালকরা দ্বিগুণ ভাড়া আদায় করছে।

তবে সিটি মেয়র আহসান হাবিব কামাল বলেন, নগরীর ড্রেনগুলোতে জমে থাকা ময়লা বৃষ্টি শুরুর আগেই পরিষ্কার করায় এবার নগরীতে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়নি।

You Might Also Like