প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত

ইউএনএ : আওয়ামী লীগের ৬৬তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালন উপলক্ষ্যে যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগ আয়োজিত আলোচনা সভায় নেতৃবৃন্দ বলেন, ‘জাতির জনক’ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব আমাদেরকে দিয়েছেন স্বাধীনতা, দিয়েছেন স্বাধীন বাংলাদেশ আর তার সুযোগ্য কণ্যা, দেশনেত্রী, জননেত্রী, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দিয়েছেন অর্থনৈতিক মুক্তি। নেতৃবৃন্দ বলেন, আওয়ামী লীগ সরকারের উন্নয়নের জোয়ারে দেশের অর্থনীতি আজ শক্তিশালী, সমৃদ্ধ। সর্বত্রই উন্নয়নের জোয়ার। এই সরকারের সময়ে দেশের প্রবৃদ্ধি বেড়েছে, দেশ খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, প্রযুক্তি, খেলাধুলায় বিশেষ করে ক্রিকেটে বাংলাদেশ অসামন্য সাফল্য অর্জন করেছে। এসব কিছুই সম্ভব হয়েছে সরকারের সঠিক পদক্ষেপের কারণে। নেতৃবৃন্দ USA AL_23 June'2015--2(1)_Dr. Siddiqবলেন, বিএনপি-জামায়াতের সকল ষড়যন্ত্র প্রতিহত করে আওয়ামী লীগ দেশে স্থিতিশীল পরিবশে ফিরিয়ে এনেছে, দেশের মানুষ স্বস্তিতে আছে। এসব কৃতিত্বের জন্য নেতৃবৃন্দ আওয়ামী লীগ সরকার তথা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ ও ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, এখন সরকারের ভিষণ ২০২০ বাস্তবায়ন করাই আমাদের মূল লক্ষ্য। এই লক্ষ্য অর্জনে দেশ ও প্রবাসে বঙ্গবন্ধুর আদর্শের সৈনিকদের ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে।

সিটির জ্যাকসন হাইটস্থ পালকি পার্টি সেন্টারে ২৩ জুন মঙ্গলবার বিকেলে আয়োজিত দলের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর আলোচনা সভা ও পবিত্র রমজান উপলক্ষে ইফতার মাহফিল অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের সভাপতি ড. সিদ্দিকুর রহমান। সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন জাতিসংঘে নিযুক্ত বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি ড. একে আব্দুল মোমেন। যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সাজ্জাদুর রহমান সাজ্জাদের পরিচালনায় সভা মঞ্চে উপবিষ্ট ছিলেন সংগঠনের অন্যতম উপদেষ্টা ডা. USA AL_23 June'2015-6_Odianceমাসুদুল হাসান, সহ সভাপতি আকতার হোসেন, সৈয়ত বসারত আলী ও আবুল কাশেম, যুগ্ম সম্পাদক আইরীন পারভিন, সাংগঠনিক সম্পাদক ফারুক আহমেদ, মহিউদ্দিন দেওয়ান ও আব্দুল হাসিব মামুন। খবর ইউএনএ’র।

সভায় উল্লেখিত নেতৃবৃন্দ ছাড়াও অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল মুকিত চৌধুরী ও যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের দপ্তর সম্পাদক মোহাম্মদ আলী সিদ্দিকী, উপ প্রচার সম্পাদক তৈয়বুর রহমান টনি, সহ দপ্তর সম্পাদক আব্দুল মালেক প্রমুখ।

সভায় উপস্থিত মুক্তিযোদ্ধা আখতার আহমেদ চৌধুরী, যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের মুক্তিযোদ্ধা বিষয়ক সম্পাদক মুজাহিদুল ইসলাম, প্রবাস বিষয়ক সম্পাদক সোলেমান আলী, আওয়ামী লীগের কার্যকরী পরিষদের সদস্য সামসুল আবদীন, আনোয়ার হোসেন, রুহেল চৌধুরী, বিপ্লব প্রমুককে বক্তব্য দেয়ার আমন্ত্রণ জানানো হলেও তারা সময়ের কথা বিবেচনা করে তারা বক্তব্য না দিয়ে তাদের সময়টুকু অতিথিদের দিয়ে দেন।

সভার শুরুতে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানসহ দেশের স্বাধীনতা যুদ্ধ ও সকল গণণতান্ত্রিক আন্দোলনে নিহতদের স্মরণে দাঁড়িয়ে এক মিনিট নিরবতা পালন করা এবং বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ করা হয়। ইফতার গ্রহণের মধ্যUSA AL_23 June'2015-5_Odiance দিয়ে সভা শেষ হয়।

সভায় ড. আব্দুল মোমেন আওয়ামী লীগ সরকারের উন্নয়ন কর্মকান্ড সংক্ষেপে তুলে ধরে বলেন, দেশের উন্নয়ন ও সমৃদ্ধির জন্য দীর্ঘস্থায়ী সরকার প্রয়োজন। এশিয়ার দু’টি দেশ সিঙ্গাপুর ও মালয়েশিয়ায় একই দল ষাট বছরের বেশী সময় ধরে ক্ষমতায় আছে বলেই দেশ দুটির অভাবনীয় উন্নয়ন সাধিত হয়েছে। সেভাবেই বাংলাদেশকে একটি উন্নত রাষ্ট্রে পরিণত করতে শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন আওয়ামী লীগ সরকারকে দীর্ঘদিন ক্ষমতায় রাখতে হবে।

ড. মোমেন নিজেকে আওয়ামী লীগের সদস্য হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, জননেত্রী ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার হাতকে শক্তিশালী করতে আওয়ামী লীগের সর্বস্তরের নেতা-কর্মীদের ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। জাতিসংঘের আসন্ন সাধারণ পরিষদে ভাষণ দিতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আসন্ন সফর সফল করতে তিনি সবাইকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান।

ড. সিদ্দিকুর রহমান বলেন, সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার লন্ডর সফরকালীন সময়ে যুক্তরাজ্য বিএনপি’র অশোভন ও ন্যাক্কারজনক কর্মকান্ডের একজন প্রত্যক্ষদর্শী হিসেবে ঐ ঘটনার তীব্র নিন্দা ও ক্ষোভ জানিয়ে বলেন, প্রধানমন্ত্রীর আসন্ন নিউইয়র্ক সফরের সময় যুক্তরাষ্ট্র বিএনপির অনুরূপ কর্মকান্ড বরদাস্ত করা হবে না।

ড. সিদ্দিকুর রহমান বলেন, বঙ্গবন্ধু শেখ মজিবুর রহমানের ধারাবাধিকতায় জননেত্রী শেখ হাসিনা ও সজিব ওয়াজেদ জয় আমাদের নেতা। তাদের নেতৃত্বেই দেশ এগিয়ে যাবে। জাতিসংঘে বাংলাদেশের ইমেজকে সমুন্নত রাখতে স্থায়ী প্রতিনিধি ড. মোমেনের ভূমিকার ভূয়শী প্রশংসা করেন এবং জননেত্রী শেখ হাসিনা ও আওয়ামী লীগের ভবিষ্যত কান্ডারী সজিব ওয়াজেদ জয়ের নির্দেশে আগামী ৩ অক্টোবর শনিবার নিউইয়র্কে যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের আয়োজনে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নাগরিক সম্বর্ধনাকে সফল করতে ড. মোমেনের সর্বপ্রকার সহযোগিতা কামনা করেন।

যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী পরিবারের মতোবিভেদের কথা উল্লেখ করে ড. সিদ্দিক বলেন, এটা তেমন বড় কোন ব্যাপার নয়। বড় দলে মত পার্থক্য থাকতেই পারে। তবে আন্তরিক ও স্বার্থহীন প্রচেষ্টায় দ্রুত এই সমস্যার সমাধান সম্ভব।

সাজ্জাদুর রহমান সাজ্জাদ বলেন, অনেক চড়াই-উড়াই পেরিয়ে আওয়ামী লীগ আজকের অবস্থানে এসেছে। জননেত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আওয়ামী লীগ রাষ্ট্র ক্ষতায় এসেছে। দেশ অচিরেই মধ্যম আয়ের রাষ্ট্রে পরিণত হতে চলেছে। দেশের উন্নয়নের ধারা অব্যাহত রাখতে তিনি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও আওয়ামী লীগের ভবিষ্যৎ নেতা সজিব ওয়াজেদ জয়ের নেতৃত্বে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার জন্য দলীয় নেতাা-কর্মীদের প্রতি আহ্বান জানান।

সভায় যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মী ছাড়াও যুবলীগ, শ্রমিক লীগ, স্বেচ্ছাসেবক লীগ, মহিলা লীগ ও ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীরা উপস্থিত ছিলেন। উল্লেখ্য, সভা শেষে ইফতার গ্রহনের সময় আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাবাষির্কী পালন অনুষ্ঠানে শ্রমিক লীগের কাউকে বক্তব্য দেওয়ার সুযোগ না দেয়ায় যুক্তরাষ্ট্র জাতীয় শ্রমিক লীগের সাধারণ সম্পাদক জুয়েল আহমেদ প্রতিবাদ জানান।

You Might Also Like