লাখো কণ্ঠ প্রতিযোগিতা নিয়ে সংস্কৃতিমন্ত্রী নুরের ব্যবসা!

২৬ মার্চ স্বাধীনতা দিবসে ‘লাখো কণ্ঠে সোনার বাংলা’ গেয়ে রেকর্ড গড়েছে বাংলাদেশ। একসাথে সবচেয়ে বেশি কণ্ঠে জাতীয় সঙ্গীত গাওয়ার রেকর্ড করে গিনেজ বুক অব ওয়ার্ল্ড রেকর্ডসে বাংলাদেশের নাম এখন কেবল আনুষ্ঠানিকভাবে ওঠার বাকি। কিন্তু চাঁদে যেমন কলঙ্ক আছে, ঠিক তেমনি এ আসরকে নিয়েও বিতর্কের শেষ নেই।

লাখো কণ্ঠে সোনার বাংলা’র মূল উদ্যোক্তা সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়। আর টাকার বিনিময়ে এর আয়োজন করছে বিজ্ঞাপনী সংস্থা এশিয়াটিকের সহযোগী প্রতিষ্ঠান ‘ফোরথট পিআর’। সংস্কৃতিমন্ত্রী আসাদুজ্জামান নূর এই জনসংযোগ প্রতিষ্ঠানটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি)।

মঙ্গলবার ফোরথট পিআর-এর ওয়েবসাইটে ঢুকে দেখা যায়, প্রতিষ্ঠানটির যে কর্পোরেট পরিচয় তুলে ধরা হয়েছে তাতে এমডি হিসেবে আসাদুজ্জামান নূরের নাম ও ছবি রয়েছে। তার দুই পাশে আলী যাকের (চেয়ারম্যান এশিয়াটিক গ্রুপ) এবং সারা যাকেরের (পরিচালক এশিয়াটিক গ্রুপ) ছবি ও পরিচয় রয়েছে।

কিছুদিন আগে মন্ত্রী নিজেই সাংবাদিকদের জানিয়েছিলেন, এই অনুষ্ঠান আয়োজন করতে সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের ৫০ কোটি টাকা খরচ হবে। তবে এর বাইরেও সরকারের আরো ৪০ কোটি টাকা ব্যয় হবে বলে জানা গেছে।

সরকারি দায়িত্বের পাশাপাশি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের লাভজনক পদে থাকায় সংস্কৃতিমন্ত্রীর বিরুদ্ধে আইন লঙ্ঘনের অভিযোগ উঠেছে। পাশাপাশি এই আয়োজনের মাধ্যমে তার নিজের প্রতিষ্ঠান সরাসরি লাভবান হওয়ায় ব্যাপক সমালোচনাও হচ্ছে।

ফোরথট পিআর প্রতিষ্ঠানটি বিতর্কিত বহুজাতিক কোম্পানি এশিয়া এনার্জি বা জিসিএম রিসোর্সের হয়েও কাজ করে। ফোরথটের ওয়েবসাইটেও গ্রাহক তালিকায় জিসিএম রিসোর্সেস বা এশিয়া এনার্জির নাম রয়েছে।

‘লাখো কণ্ঠে সোনার বাংলা’র আসরটি প্রথম বিতর্কের জন্ম দেয় ইসলামী ব্যাংকের কাছ থেকে স্পন্সরশিপ বাবদ তিন কোটি টাকা নিয়ে। তখন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোতে এ নিয়ে সরকারের ব্যাপক সমালোচনায় শুরু হয়। এরপরে সামাজিক-সাংস্কৃতিক সংগঠনসহ বেশকিছু অনলাইন অ্যাক্টিভিস্ট এ অনুষ্ঠান বর্জনের ডাক দেয়।

পরে সংস্কৃতিমন্ত্রী আসাদুজ্জামান নূর ঘোষণা করেন, “ইসলামী ব্যাংক থেকে কোনো টাকা নেয়া হয়নি। চাইলে আপনারা অনুসন্ধান করে দেখতে পারেন।”

কিন্তু গত ২৩ মার্চ শেষ পর্যন্ত সরকার টাকা নেওয়ার কথা স্বীকার করে এবং তা ফেরত দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়।

You Might Also Like