রেলওয়ের সেবা বৃদ্ধির লক্ষ্যে ৩৩ হাজার ৬৪৭ কোটি টাকা ব্যয়ে ৪৮ প্রকল্প চলমান : রেলমন্ত্রী

রেলওয়েকে যুগোপযোগীকরণ, রেলওয়ের সক্ষমতা বৃদ্ধি, নিরাপদ, সাশ্রয়ী, নির্ভরযোগ্য, পরিবেশ বান্ধব ও যাত্রী সেবামূলক গণপরিবহন হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্যে সরকার রেলকে সর্বাধিক গুরুত্ব দিচ্ছে। বর্তমানে ৩৩ হাজার ৬৪৭ কোটি ২২ লাখ টাকা ব্যয়ে মোট ৪৮ টি প্রকল্প চলমান বলে জাতীয় সংসদকে জানিয়েছেন রেলমন্ত্রী মুজিবুল হক।

সোমবার জাতীয় সংসদের বৈঠকে ঢাকা-১ আসনের সালমা ইসলামের লিখিত প্রশ্নের জবাবে তিনি এ তথ্য জানান।

রেলমন্ত্রী বলেন, রেলের যাত্রী সেবার মান বৃদ্ধির লক্ষে অনেকগুলো উন্নয়ন প্রকল্প গ্রহণ করা হয়েছে। এগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য রেলওয়ের লাইন ক্যাপাসিটি বৃদ্ধি।

তিনি বলেন, এর মধ্যে আছে ঢাকা-টঙ্গি, টঙ্গী- ভৈরববাজার, চিনকি আস্তানা-লাকসাম ও লাকসাম-আখাউড়া ডাবল লাইন নির্মান, ঢাকা- নারায়নগঞ্জ সেকশনে বিদ্যমান রেললাইনের সমান্তরাল একটি ডুয়েলগেজ লাইন নির্মান এবং ভৈরব ও দ্বিতীয় তিতাস সেতু নির্মাণ প্রকল্প হাতে নেয়া হয়েছে।

মুজিবুল হক জানান, এছাড়া রেলপথ সম্প্রসারণ ও নতুন রেলপথ নির্মাণের কাজ হাতে নেয়া হয়েছে। খুলনা থেকে মংলা পর্যন্ত রেল লাইন স্থাপন, কালুখালি- ভাটিপাড়া, পাচুরিয়া-ভাঙা রেলপথ নির্মাণ করা হবে।

নাভারন থেকে সাতক্ষীরা হয়ে মুন্সিগঞ্জ পর্যন্ত রেল লাইন নির্মাণের কাজের সম্ভাব্যতা সমীক্ষার কাজ সমাপ্ত হয়েছে বলে জানান তিনি।

এছাড়া দোহাজারী থেকে রামু হয়ে কক্সবাজার ও মায়ানমায়ের নিকট গুনদুম পর্যন্ত রেল লাইন সম্প্রসারণের কাজ হাতে নেয়া হয়েছে।

তিনি জানান, রেলরাইনের পূনর্বাসন, রোলিং স্টক সংকট নিরসনে অনেক গুলো প্রকল্প গ্রহণ করা হয়েছে, সিগন্যালিং ও ইন্টার লকিং সিস্টেম উন্নয়নে কার্যক্রম চলছে, নতুন ট্রেন চালুকরা হচ্ছে, ই-টিকেটিং ব্যবস্থা প্রচলন হয়েছে, ট্রেন ইনফরমেশন ডিজিটাইজেশন করা হয়েছে, ট্রেন ইনফরমেশন ডিসপ্লে চালু হয়েছে, নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করার হয়েছে ও বিভিন্ন স্টেশনে বিশ্রামাগার ও টয়লেট সুবিধা বৃদ্ধি করা হয়েছে বলে জানান তিনি।

২০ বছর মেয়াদী ( জুলাই-২০১০ থেকে ২০৩০ সালের জুন) একটি মাস্টার প্লান তৈরি করা হয়েছে। এটি ৪ টি পর্যায়ে শেষ করা হবে। মাস্টার প্লানটি বাস্তবায়নের জন্য ২ লাখ ৩৩ হাজার ৯৪৪ কোটি ২১ লাখ টাকা ব্যয়ে ২৩৫টি প্রকল্প অন্তর্ভূক্ত করা হয়েছে বলে সংসদকে জানান রেলমন্ত্রী।

You Might Also Like