ওবামা কেয়ার নিয়ে ওয়াইসিবিএ-এর অনুষ্ঠান

এই বছরে চালু হওয়া যুক্তরাস্ট্রের নতুন স্বাস্থ্যনীতি ‘এফোর্ডেবল কেয়ার এ্যাক্ট বা ওবামা কেয়ার’  নিয়ে গত শনিবার ২২ মার্চ ইয়ুথ কংগ্রেস অব বাংলাদেশী-আমেরিকানস্ন’  (ওয়াইসিবিএ) জ্যাকসন হাইটস্ একটি সেমিনার ও স্বাস্থ্য বীমায় আবেদন সহযোগিতার অনুষ্ঠান আয়োজন করে। ঐদিন দুপুর ২টা থেকে শুরু হয়ে বিকাল ৬টা পর্যন্ত চলে অনুষ্ঠানটি। অনুষ্ঠানটির সহ-আয়োজক হিসেবে ছিল সাউএ এশিয়ান কাউন্সিল ফর সোশ্যাল সার্ভিসেস (এসএসিএসএস)।

অনুষ্ঠানের প্রথম অংশে ছিল ‘এফোর্ডেবল কেয়ার এ্যাক্ট বা ওবামা কেয়ার’ নিয়ে সেমিনার ও প্রশ্নোত্তর পর্ব এবং শেষে ছিল স্বাস্থ্য বীমার আবেদনে সহযোগিতার ব্যবস্থা। ওয়াইসিবিএ-এর চেয়ার অব দি বোর্ড রাসেল কবির রহমানের স্বাগত বক্তব্যের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠানটি শুরু হয়। তিনি অনুষ্ঠানটি আয়োজনের উদ্দেশ্যে ব্যাখ্যা করতে গিয়ে বলেন যে, ‘ওয়াইসিবিএ একটি স্বেচ্ছাসেবী সংগঠণ হয়েও বাংলাদেশী-আমেরিকানদের সামগ্রিক কল্যাণ ও প্রয়োজনে নানারকম প্রোগ্রাম হাতে নেয়ার চেষ্টা করছে। তারাই অংশ হিসেবে এই অনুষ্টান। আমাদের কাছে মনে হয়েছে কম্যুনিটির মানুষ জন খুব ভালভাবে ওবামা কেয়ার সম্পর্কে অবহিত নন। এর সুবিধা-অসুবিধাগুলো কি কি? এই মাসের মধ্যে কোন না কোন ধরণের স্বাস্থ্য বীমায় অন্তর্ভুক্ত না হলে আগামী বছরের ট্যাক্স ফাইলিংয়ে জরিমানা প্রদান করতে হবে, এই ব্যাপারটা কার জন্য কতটা প্রযোজ্য তার সবকিছু আমরা ভাল করে জানি না।’ এরপর তিনি ওবামা কেয়ার নিয়ে বিস্তারিত তথ্য নিয়ে পাওয়ার পয়েন্ট পরিবেশনার জন্য আহবান জানান অনুষ্ঠানের সহ-আয়োজক এসএসিএসএস-এর ডিরেক্টর অব হেলথ সার্ভিসেস রেহান মাহমুদ ও ডিরেক্টর অব ফ্যামিলি সাপোর্ট এন্ড এডুকেশন ভিরা মুখার্জি। বাংলা ও ইংরেজী উভয় ভাষা মিলিয়ে উপস্থাপিত তাদের পরিবেশনায় তারা জানান, অনেকেরই ধারণা “এফোর্ডেবল কেয়ার এ্যাক্ট বা ওবামা কেয়ার” কোন একটি নতুন ইন্সুরেন্স এর নাম, যা কিনা সম্পূর্ণ ভুল। মূলত এটি হচ্ছে ওবামা সরকারের গত মেয়াদে পরিণত হওয়া একটি আইনের নাম। যার মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের স্বাস্থ্য খাতে একটি বিশাল সংস্কার সাধনের চেষ্টা করা হয়েছে। রোগীর নিরাপত্তা ও ইন্সুরেন্স গ্রহণে স্বাধীনতা বৃদ্ধি ইত্যাদি সুযোগ-সুবিধা বাড়ানোর চেষ্টা করা হয়েছে। একইভাবে এই আইনের আওতায় নিয়ম-নীতির কড়াকড়ির কারণে বৈধ ইমিগ্রেশন স্ট্যাটাসধারী প্রত্যেককে কোন না কোন স্বাস্থ্য বীমায় অন্তর্ভুক্ত হওয়াটাকে পরোক্ষভাবে বাধ্যতামূলক করার চেষ্টা করা হয়েছে। আর এই বছরে মার্কেট প্লেস থেকে বীমাতে অন্তর্ভুক্ত হওয়ার সময় সীমা হচ্ছে এই মাসের ৩১ তারিখ। কোন না কোন স্বাস্থ্য বীমায় অন্তর্ভুক্ত না হলে আগামী বছরের ট্যাক্স ফাইলিংয়ে জরিমানা প্রদান করতে হবে। তবে যারা মেডিকেইড পাওয়ার উপযুক্ত তারা বছরের যেকোন সময় আবেদন করতে পারবেন। এসময় তারা মেডিকেইড সহ অন্যান্য স্বাস্থ্য বীমা’র জন্য ইনকাম গাইড লাইন সম্পর্কে সংক্ষিপ্ত আকারে ব্যাখ্যা প্রদান করেন। এসময় সেমিনার-এর উল্লেখিত প্রেজেন্টাররা ছাড়াও মেট্রোপ্লাস গ্রুপ-এর প্রতিনিধি হোসনে আরা বেগম উপস্থিত শ্রোতাদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর প্রদান করেন। বিভিন্ন প্রশ্নের মধ্যে আনডকুমেন্টেড মানুষ ও স্টুডেন্ট ভিসায় বসবাসরতদের এই আইনের আওতায় কি কি ধরণের সুযোগ সুবিধা রয়েছে তাও তারা জানান। প্রশ্নোত্তরসহ বিভিন্ন পর্যায়ে আরো বক্তব্য রাখেন তারা হলেন, ওয়াইসিবিএ-এর কার্য্যকরী কমিটির সভাপতি মাহতাব মাসুদ, উপদেশক শাফি মাহমুদ, কবির আলী, সিমা আহমেদ, সহ-সভাপতি মার্ক হাসান, বোর্ড মেম্বার শাকিল মাহমুদ খান তানাম, সহ-সাধারণ সম্পাদক মো: মাসুদ, ক্যারিয়ার সম্পাদক জোবায়ের আহমেদ, অর্থ সম্পাদক আব্দুল্লাহ মাহবুব, প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক আফরোজা সালাম, নির্বাহী সদস্য আনিসুর রহমান প্রমূখ। উল্লেখযোগ্য সংখ্যক মানুষের উপস্থিতিতে অনুষ্ঠিত উক্ত সেমিনার শেষে স্বাস্থ্য বীমায় আবেদনে সহযোগিতা গ্রহণ করেন প্রায় ১৫জন ব্যক্তি ও তাদের পরিবারের সদস্যরা।

You Might Also Like