শিবচরে পুরুষশূন্য গ্রামে চলছে লুটপাট-অগ্নিসংযোগ নারী নির্যাতন

মাদারীপুরের শিবচরে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে গুলিতে যুবলীগ নেতাসহ জোড়া খুনের মামলায় পুলিশের ভয়ে গ্রাম পুরুষশূন্য হওয়ায় চলছে লুটপাট, অগ্নিসংযোগ ও ধর্ষণের মতো ঘটনা।

এসব ঘটনায় আতঙ্কিত অসংখ্য কিশোরী (ছাত্রী) গ্রাম ছেড়ে অন্যত্র আশ্রয় নিয়েছে। ধর্ষণের অভিযোগে মাদারীপুর আদালতে একটি মামলা দায়ের হলেও আতঙ্ক কাটছে না। খুনের ঘটনার পর থেকে এলাকায় পালাক্রমে পুলিশ পাহারা রয়েছে। অথচ পুলিশের চোখ ফাঁকি দিয়ে এসব অসামাজিক কর্মকা- চলছে। ফলে পুলিশের ভূমিকা নিয়ে এলাকার শান্তি প্রিয় জনগণ প্রশ্ন তুলছেন। বেশ কয়েকটি রাজনৈতিক দলের নেতাও এসব ঘটনায় ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছেন।

উল্লেখ্য, গত ২ জুন মঙ্গলবার সকালে মাদারীপুর জেলার শিবচর উপজেলার কুতুবপুর ইউনিয়নের শিকদার কান্দি গ্রামে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে গুলিতে খুন হয় যুবলীগ নেতা আরশেদ মাদবর (৩৮) ও শাহজাহান দড়ানী (৪৭)। এ ঘটনায় প্রতিপক্ষ সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান ইব্রাহিম শিকদারকে প্রধান আসামি করে দু’টি মামলা দায়ের হয়। ফলে গ্রেফতার আতঙ্কে এলাকা ছাড়ে গ্রামের পুরুষ সদস্যরা।

শিকদার কান্দী গ্রাম পুরুষশূন্য হয়ে যাওয়ার পর ঘটতে থাকে লুটপাট ও ধর্ষণের মতো ঘটনা। যে কারণে হ্রাস পাচ্ছে স্কুল, মাদরাসায় ছাত্রী উপস্থিতির হার। চলমান অর্ধবার্ষিক পরীক্ষা বাদ দিয়ে ধর্ষণ আতঙ্কে অর্ধশত কিশোরী গ্রাম ছেড়ে আত্মীয়-স্বজনের বাড়িতে আশ্রয় নিয়েছে বলে ভুক্তভোগী পরিবারগুলোর দাবি। গ্রামে পুলিশ মোতায়েন থাকলেও ১১ জুন বৃহস্পতিবার দুপুরে হত্যা মামলার প্রধান আসামির বসতঘরে অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে।

স্থানীয় একাধিক গৃহবধূ ও ইব্রাহিম শিকদারের স্ত্রী মমতাজ বেগম এবং প্রতিবেশী শেফালী বেগম বলেন, বৃহস্পতিবার দুপুরে অপরিচিত ৪/৫জন যুবক এসে আগুন ধরিয়ে দিয়ে পালিয়ে যায়। বাড়িতে কোনো পুরুষ সদস্য না থাকায় ভয়ে ঘরের বাইরে আসেনি প্রতিবেশী মহিলারা। তবে নিহত যুবলীগ নেতা আরশেদ মাদবরের পক্ষের লোকজনের দাবি হত্যা মামলা থেকে বাঁচতে নিজেরাই ঘরে আগুন দিয়েছে।

সরেজমিনে এলাকা ঘুরে দেখা গেছে থমথমে পরিস্থিতি। রাস্তা-ঘাটে দেখা যাচ্ছে না কাউকে। পুরো একটি গ্রামের কোনো বাড়িতে পুরুষ সদস্য খুঁজে পাওয়া যায়নি। মহিলারা থাকলেও ভয়ে কথা বলতে রাজি হয়নি অনেকেই।

শিকদার কান্দী এলাকার একাধিক মহিলা জানান, গত কয়েকদিন ধরে লুটপাটের সঙ্গে নারী নির্যাতনও হচ্ছে। ধর্ষণের শিকার হয়েছে স্কুলমাদ্রাসা পড়ুয়া বেশ ক’জন ছাত্রী। নির্যাতনের ভয়ে অর্ধশত কিশোরীকে অন্যত্র আত্মীয়-স্বজনদের বাড়িতে পাঠিয়ে দেয়া হয়েছে। বর্তমানে প্রায় অর্ধশত কিশোরী ধর্ষণ আতঙ্কে এলাকা ছাড়া।

অভিযোগ পাওয়া গেছে, ৫/৭ দিন আগে শিকদার কান্দীর জাহাঙ্গীর শিকদার ও তোতা শিকদারের বসতঘর থেকে রবিশস্যসহ বিভিন্ন মালামাল, বাদশা ও খালেক শিকদারের দোকানের মালামাল, সলেমান শিকদারের বাড়ি থেকে গরু লুটের ঘটনাসহ একই এলাকার সিরাজ মোল্যা ও আবুল কালাম ভুট্টোর বাড়িতে লুটপাট চালায় দুর্বৃত্তরা। মাঝে-মধ্যেই এমন অভিযোগ পাওয়া যাচ্ছে। তবে এসব ব্যাপারে পরষ্পরের বিরুদ্ধে অভিযোগ পাল্টা অভিযোগ করা হচ্ছে।

ঘটনার পর থেকে এলাকায় পুলিশ মোতায়েন রয়েছে। তাছাড়া শিবচর থানা থেকে টহল পুলিশও ঘটনাস্থলে টহল দিচ্ছেন নিয়মিত। এছাড়া কুতুবপুরে ত্রিমুখী দ্বন্দ্বের কারণে এলাকায় পুলিশ ফাঁড়িও রয়েছে। কিন্তু কোনো কিছুই কাজে আসছে না।

শনিবার সকালে সরেজমিনে অনুসন্ধানকালে দেখা গেছে ভয়ে মুখ খুলছেন না কেউ। ধর্ষণের অভিযোগে মাদারীপুর আদালতে একটি মামলা দায়ের হয়েছে বলে একটি সূত্রে জানা গেছে।

বিষয়টি জানতে শিবচর থানায় যোগাযোগ করা হলে শিবচর থানা থেকে জানা গেছে, ধর্ষণের কোনো অভিযোগ এখন পর্যন্ত আসেনি। এলাকায় সার্বক্ষণিক পুলিশ মোতায়েন রয়েছে।

অগ্নিসংযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে শিবচর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুস সাত্তার বিষয়টি নিয়ে তেমন কিছু বলতে রাজি হননি।

You Might Also Like