সংযোগ প্রদানে পল্লীবিদ্যুৎ সমিতির দুর্নীতির সন্ধান

পল্লীবিদ্যুৎ সমিতির গ্রাহকদের সংযোগ প্রদানে দুর্নীতির সন্ধান পেয়েছে পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়। পল্লীবিদ্যুৎ সমিতির বিদ্যমান বিতরণ ব্যবস্থায় দশ লাখ গ্রাহক সংযোগ প্রকল্পে এ দুর্নীতি হয়েছে বলে জানা গেছে। সম্প্রতি পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের বাস্তবায়ন, পরিবীক্ষণ ও মূল্যায়ন বিভাগের (আইএমইডি) সাম্প্রতিক এক প্রতিবেদনে এ বিষয়টি উঠে এসেছে।
কোথায় কীভাবে দুর্নীতি হয়েছে সরাসরি প্রতিবেদনে তা উল্লেখ না করলেও সুপারিশ দিতে গিয়ে সংস্থাটি দুর্নীতির বিষয়ে ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বলেছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আবেদন করার পর স্বল্পতম সময়ে বিদ্যুৎ সংযোগ প্রদান করা ও সংযোগ প্রদানে দুর্নীতি বন্ধ করার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া দরকার। তাছাড়া সংযোগ প্রদানে গ্রাহকদের নিকট থেকে অতিরিক্ত ফি গ্রহণ না করার বিষয়ে লক্ষ্য রাখতে তাগিদ দেওয়া হয়েছে।
এ বিষয়ে বাস্তবায়ন, পরিবীক্ষণ ও মূল্যায়ন বিভাগের (আইএমইডি) সচিব সহিদউল্লাহ খন্দকার বলেন, চলতি অর্থবছরের ১৫টি সমাপ্ত প্রকল্পের প্রভাব মূল্যায়ন এবং ১১টি চলমান প্রকল্পের নিবিড় পরিবীক্ষণসহ মোট ২৬টি প্রকল্পের সমীক্ষা পরিচালনা করা হয়। তার মধ্যে এ প্রকল্পটি রয়েছে। এ প্রকল্পটি নিয়ে সম্প্রতি আমরা পর্যালোচনা বৈঠক করেছি। সেখানে বিদ্যুৎ বিভাগের প্রতিনিধি, পল্লীবিদ্যুৎ সমিতির চেয়ারম্যান, ওই প্রকল্পের পরিচালক, পরিকল্পনা কমিশনের বিদ্যুৎ উইংয়ের প্রধানসহ দায়িত্বশীলরা উপস্থিত ছিলেন। আমরা এ প্রকল্পের প্রতিবেদনটি চূড়ান্ত করে মন্ত্রী মহোদয়ের কাছে পাঠাব। তাছাড়া দাতা সংস্থার কাছেও পাঠানো হবে। সবার জন্য এটি ওয়েবসাইটেও প্রকাশ করা হবে। আশা করছি প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে মন্ত্রণালয় এবং পরবর্তী প্রকল্প গ্রহণের ক্ষেত্রে এসব বিষয়ে বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে দেখা হবে।
প্রকল্পটির মূল্যায়ন করতে গিয়ে আইএমইডি আরো যেসব বিষয়ে সুপারিশ দিয়েছে সেগুলো হচ্ছে- সুদূরপ্রসারী ফলাফলের জন্য যে সমস্ত এলাকায় বিদ্যুতায়ন হয়নি সেইসব এলাকায় দ্রুত বিদ্যুৎ সংযোগ দেওয়ার ব্যবস্থা করা এবং ডিজিটাল মিটার সরবরাহে প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি নিয়মিত সংগ্রহ, সংরক্ষণ ও বিতরণের ব্যবস্থা করা।
সূত্র জানায়, পল্লী বিদ্যতায়ন বোর্ড সরকারী ও ডিএফআইডির অর্থায়নে ৩ হাজার ৪৭৭ কোটি ৫৮ লাখ টাকা ব্যয়ে এ প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হয়েছে চলতি অর্থবছরে (২০১৪-১৫)। এটির মূল উদ্দেশ্য ছিল ৫৮টি পল্লীবিদ্যুৎ সমিতি (পিবিএস) এ বিদ্যমান ১ লাখ ৫১ হাজার ৫৬১ কিলোমিটারে ১০ লাখ গ্রাহককে বিদ্যুৎ সংযোগ দেওয়া এবং অপক্ষোকৃত সুবিধাবঞ্চিত মানুষের মধ্যে গ্রাহক সংখ্যা বাড়ানো। সমাপ্ত হওয়া এ প্রকল্পটি প্রভাব মূল্যায়ন করতে গিয়ে আইএমইডি যে ফলাফল পেয়েছে তা হলো, বিদ্যুৎ খরচ সাশ্রয় হচ্ছে ৩৬ শতাংশ, ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা বেড়েছে ৩৬ শতাংশ এবং মানুষের আয় বেড়েছে ৩৮ শতাংশ।
প্রকল্পের প্রভাব মূল্যায়ন প্রসঙ্গে পরিকল্পনা কমিশনের সাধারণ অর্থনীতি বিভাগের সদস্য (সিনিয়র সচিব) ড. শামসুল আলম বলেন, মন্ত্রণালয়গুলো যাতে সুপারিশ বাস্তবায়ন করতে দ্রুত ব্যবস্থা নেয় সেজন্যই সরকার আইএমইডির মাধ্যমে টাকা খরচ করে প্রভাব মূল্যায়ন করে থাকে। এতে করে প্রকল্পের গুণগত মান বাড়ে এবং দুর্নীতি ও অনিয়মের অভিযোগ কমে। সুতরাং মন্ত্রণালয় ও বিভাগগুলোর উচিত আইএমইডির এসব সুপারিশে বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে ব্যবস্থা গ্রহণ করা।

You Might Also Like