দুর্নীতির স্বর্গরাজ্য মুরাদনগর প্রাথমিক শিক্ষা অফিস

কুমিল্লার মুরাদনগর উপজেলার প্রাথমিক শিক্ষা অফিসের প্রধান কেরানী মো: শাহেব আলীর বিভিন্ন অনিয়ন ও দুর্নীতির ফলে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস দুর্নীতির স্বর্গরাজ্যে পরিণত হওয়ার অভিযোগ উঠেছে।

অভিযোগের বিত্তিতে অনুসন্ধানে জানা যায়, উপজেলার প্রাথমিক শিক্ষা অফিসের প্রধান কেরানী মো: শাহেব আলী কার্য্যালয়ে যোগদানের পর থেকে প্রায় ১১ বছর যাবত এখানেই কর্মরত রয়েছেন। দীর্ঘদিন যাবত মুরাদনগরে কর্মরত থাকার ফলে উপজেলার সকল প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা তার নিকট একপ্রকার জিম্মি হয়ে রয়েছে বলে জানা যায়। এখানে উৎকোচ ছাড়া কোন শিক্ষকদের কোন প্রকার কাজ হয় না বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

অভিযোগ রয়েছে শিক্ষকদের পেনশন টাকা উত্তোলন ও কিছু ক্রটিতে দিতে হয় ২০/৬০ হাজার টাকা, মেডিকেল ছুটি মনজুর ও বকেয়া বিল তৈরীতে ২০/৩০ হাজার টাকা, সদ্য সরকারী করা বিদ্যালয়ের অর্ন্তভূক্ত হওয়া প্রধান শিক্ষক ও সহকারী শিক্ষকদের ৬/৮ হাজার টাকা, জুনিয়র শিক্ষককে সিনিয়র শিক্ষক বানিয়ে অন্য স্কুলে বদলী করতে ১০/১৫ হাজার টাকা, এ উপজেলা থেকে অন্য উপজেলায় বদলীর ছাড়পত্র ও এলপিসি সার্ভিস নিতে ২/৩ হাজার টাকা, কোন টাইম স্কেল ও বকেয়া বিলের সময় ৫/৬ হাজার টাকা দিতে হয়, সেই টাকা প্রতি ক্লাস্টারের মাধ্যমে উত্তোলন করার অভিযোগ পাওয়া যায়।

নতুন শিক্ষক চাকুরীতে যোগদান ও কিছুদিন আগে যোগদান করা ২/৩ হাজার টাকা, কিছুদিন পূর্বে সরকারী ভাবে ২০০ স্কুলের জন্য অফিসিয়াল মালামাল ক্রয়ের জন্য সরকারি বরাদ্দে নিয়ম অনুযায়ী ভ্যাট ৭ শত পঞ্চাশ টাকার স্থলে ২ হাজার দু’শত টাকা পঞ্চাশ টাকা কর্তন করা হয় বলেও অভিযোগ রয়েছে। এ ছাড়াও অফিসিয়াল কোন ফরম, সরকারী বরাদ্দ কৃর্ত সকল মালামাল ক্রয় করতে হয় তারই নির্ধারিত তৃষ্ণা লাইব্রেরী ও ফটোষ্ট্যোট দোকান থেকে । শিক্ষকতা একটি মহান পেশা এবং শিক্ষকরা মানুষ গড়ার কারিগর হয়েও টাকা ছাড়া পায়না কেউ কোন প্রকার সেবা।

সূত্র জানায় এই কেরানী শাহেব আলীর উপর মহলের সাথে রয়েছে সুসর্ম্পক, উপজেলা শিক্ষা অফিসারও তার কাছে অসহায় বলে জানায় সূত্রটি।

এব্যাপারে প্রথান কেরানী মো: শাহেব আলীর কাছে জানতে চাওয়া হলে তিনি উল্লেখিত সকল অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, আমি হলাম একজন কেরানী, সেখানে আমার কী করার আছে। অফিসাররা যে নির্দেশ প্রদান করে আমি তা পালন করে থাকি।

উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার এ এন এম মাহবুবুল আলমের কাছে জানতে চাওয়া হয়ে তিনি তার অফিসের কর্মচারিদের বিরুদ্ধে আনীত সকল অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, আমি এ অফিসে যোগদানের পর থেকে কোন অনিয়ম হতে দেইনি। হয়তো এ অভিযোগ গুলো আমি আসার পূর্বে হতে পারে।

এবিষয়ে কুমিল্লা জেলা প্রাথমিক সহঃ শিক্ষা অফিসার, ফাতেমা মেহের ইয়াসমিন জানান, এসব বিষয় গুলো আমার জানা নেই। লিখিত ভাবে অভিযোগ পেলে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।

You Might Also Like