কারাগারেও নেশার জন্য ছটফট করছে রনি!

মাদকাসক্ত অবস্থায় রাজধানীর নিউ স্কাটনে এলোপাতাড়ি গুলিতে জোড়া খুনের ঘটনায় আটক এমপিপুত্র বখতিয়ার আলম রনি এখনো কারাগারে মাদকের জন্য ছটফট করছেন। তাকে মাদক সরবরাহ বা চিকিৎসা দেয়ার জন্য কারা কর্তৃপক্ষ ও তার মা পিনু খানকে অনুরোধ করেছেন।
সোমবার ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে পুত্রকে দেখতে যান তার মা সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য পিনু খান। মাকে দেখেই মাদক সরবরাহের অনুরোধ করেন পিনু। কারাগার সূত্রে জানা গেছে, এসময় রনি খুব কাতরভাবে তার মায়ের কাছে মাদক সরবরাহ করতে বলেন।
কারা সূত্র জানায়, কারাবন্দীপুত্র বখতিয়ার আলম রনির সঙ্গে স্বাক্ষাৎ করতে মা সংরক্ষিত মহিলা আসনের এমপি পিনু খান সোমবার দুপুর ১টা ১০ মিনিটি কারাগারে প্রবেশ করেন। কারাবিধি মোতাবেক বিচারাধীন কোনো বন্দীর সঙ্গে মাসে একবার আধাঘণ্টা কথা বলার সুযোগ পান বন্দীর আত্মীয়-স্বজন। কিন্তু নিপু খান সে বিধি ভঙ্গ করে ১টা ১০ মিনিট থেকে ২টা ২৫ মিনিট পর্যন্ত এক ঘণ্টা ১৫ মিনিট কথা বলেন। এসময় তার সঙ্গে নিপু খানের ভাই, ভাবী ও একজন নারী ছিলেন।
কারাসুত্র আরো জানায়, ছেলেকে দেখতে এসে মা ও ছেলে উভয়ই কান্নায় ভেঙ্গে পড়েন। ছেলের প্রিয় খাবার বরফি, কেক, মিষ্টি ও শুকনা খাবারের সঙ্গে ঠাণ্ডা পানি নিয়ে আসেন। এসময় ছেলের সঙ্গে একই মামলায় গ্রেপ্তার হওয়া গাড়ীর ড্রাইভার ইমরান ফকিরের সঙ্গেও দেখা করেন পিনু খান। দীর্ঘ সময় তিনি ও তার ভাই ভাইয়ের বউ মিলে রনি ও ইমরানের সঙ্গে নানা বিষয় নিয়ে একান্তে অনুচ্চ স্বরে আলাপ করেন।
কারাসুত্র জানায়, কথা বলার মাঝে মাঝেই রনি চিৎকার করতে থাকেন। বলতে থাকেন, ‘আমি অসুস্থ, আমার চিকিৎসা করানো দরকার। মা আমার সারা শরীর জুড়ে মাদকের প্রভাব পড়েছে। আমাকে দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে চিকিৎসার ব্যবস্থা কর।’
এসময় পিনু খান তাকে বলেন, ‘তোমার চিকিৎসার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা করছি, চিন্তা করো না।’ কিন্তু রনি কোনো কথা না শুনে তাকে কারাগার থেকে বের হওয়ার ব্যবস্থা নিতে মা ও মামার কাছে বারবার অনুরোধ করেন। অঝরে কাঁদতে কাঁদতে বলতে থাকেন, ‘দুর্ঘটনার সময় অমি মাদকাসক্ত ছিলাম। আমি তেমন কিছুই বলতে পারবো না।’ রনি তার শরীরে যে মাদকের কারণে অনেক প্রভাব পড়েছে তা মাকে গায়ের টি শার্ট খুলে দেখাতে থাকেন। উচ্চস্বরে বলতে থাকেন, ‘আমার গায়ের সব রগে মাদকের প্রভাব পড়েছে। উন্নত চিকিৎসা না করালে আমি মারা যাব।’

কারাসুত্র জানায়, পিনু খান তার ছেলেকে বারডেম হাসপাতালে নিয়ে উন্নত চিকিৎসার আশ্বাস দিলেও ছেলে তা মানতে রাজি হয়নি। তখন উপস্থিত একজনের কাছে বারডেম হাসপাতালে চিকিৎসা দেয়া যাবে কি না জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে কারা অধিদপ্তরে সম্প্রতি চিঠি এসেছে যে কোনো বন্দীকে বারডেম হাসপাতালে রেখে চিকিৎসা দেয়া যাবে না। এরপর পিনু খান ছেলে রনিকে বঙ্গবন্ধু মেডিকেল হাসপাতালের প্রিজন্স এনেক্সে রেখে চিকিৎসার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থার কথা জানালে রনি কিছুটা আশ্বস্থ হন।

অপর একটি সুত্র জানায়, রনি দেশের বিভিন্ন পত্রিকা বা মিডিয়ায় তার সম্পর্কে কি কি আলোচনা হচ্ছে বা লিখা হচ্ছে জানতে চাইলে পিনু খান তাকে জানান, দেশের প্রায় সব পত্রিকায় তার সম্পর্কে নানা খারাপ কথা বলা হচ্ছে। এসময় রনি বলতে থাকেন আমি ঘটনার সময় আমি মাদকাসক্ত ছিলাম তাই কখন কি ঘটেছে তা আমি কিছুই বলতে পারবো না।

এসময় একজন স্বাক্ষাৎপ্রার্থী বলেন, ‘কয়েকটি পত্রিকায় অনেক বেশী খারাপ কথা বলছে, যা তোমার কর্মকাণ্ড বা চরিত্রের সাথে কোনো মিল নেই।’ স্বাক্ষাৎপ্রার্থীরা রনিকে এ বিষয়ে না ভাবতে পরামর্শ দেন। বখতিয়ার আলম রনি বর্তমানে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারের মেডিকেল হাসপাতাল-১ এ ভর্তি রয়েছেন। আর ড্রাইভার ইমরানকে ফকির যমুনা-৪ এ রাখা হয়েছে।

উল্লেখ্য, গত ১৩ এপ্রিল রাত ২টার দিকে রাজধানীর নিউ ইস্কাটনে রনির ছোঁড়া গুলিতে এক অটোরিকশা চালক এবং এক রিকশাচালক আহত হন। পরে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাদের মৃত্যু হয়। নিহত রিকশাচালক আব্দুল হাকিমের মা মনোয়ারা বেগম ঘটনার দুদিন পর থানায় যে মামলা করেছেন, তাতে বলা হয়, একটি মাইক্রোবাস থেকে এলোপাতাড়ি গুলি ছোড়া হলে তার ছেলে ও অটোরিকশাচালক ইয়াকুব আলী মারা যান। পরে তদন্তে পুলিশ জানতে পারে, সাদা মাইক্রোবাস নয়, সেটি ছিল কালো রঙের একটি প্রাডো গাড়ি এবং ওই গাড়িতে পিনু খানের ছেলে রনিসহ কয়েকজন ছিলেন। তদন্তে রনির সম্পৃক্ততা পাওয়ার পর গত ৩১ মে তাকে এবং তার গাড়িচালক ইমরান ফকিরকে পুলিশ গ্রেপ্তার করে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে রনি গুলিবর্ষণের কথা স্বীকার করেন বলে তদন্ত কর্মকর্তা জানিয়েছেন। ঘটনার দিন রনি কালো রঙের প্রাডো গাড়ি থেকে গুলিবর্ষণ করেন বলে তার গাড়িচালক ইমরান আদালতে জবানবন্দিতে বলেছেন।
সূত্র: বাংলামেইল।

You Might Also Like