মোহাম্মদ এন মজুমদার ব্রঙ্কস কমিউনিটি বোর্ড ৯ এর ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান

নিউইয়র্ক সিটিতে বাংলাদেশী কমিউনিটির অতি প্রিয় পরিচিত মুখ ও আইন ব্যবসার সাথে দীর্ঘদিন যাবত জড়িত মূলধারার সংগঠক, সমাজসেবক মোহাম্মদ এন মজুমদার একজন দৃষ্টান্ত ও প্রতিষ্ঠান। তিনিই একমাত্র প্রবাসী যিনি নিজ প্রচেষ্টায় চালিয়ে যাচ্ছেন একটি ব্যতিক্রমধর্মী কর্মসূচি “নিউ ইমিগ্রান্ট ওয়েলকাম সেন্টার”, যেখানে বহু নবাগত অভিবাসী তাদের মৌলিক প্রয়োজন চাকুরি ও আবাসন সংক্রান্ত তথ্য নিয়ে দিক নির্দেশনা পেয়ে আসছেন ২০০৫ সাল থেকে।

জনাব এন মজুমদার ২০১০ সাল থেকে তার স্থানীয় কমিউনিটি বোর্ড ৯ এর সদস্য, ল্যান্ড এন্ড জোনিং কমিটির চেয়ারম্যান এবং ফার্ষ্ট ভাইস চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসছেন। সম্প্রতি চেয়ারপার্সন উইলিয়াম রিভারা ডিএম হিসেবে একই বোর্ডের চাকুরি গ্রহণ করলে জনাব মজুমদার অন্তবর্তীকালীন চেয়ারম্যান নিযুক্ত হন। আগামী ১৬ জুন মঙ্গলবার থেকে তিনি ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের দায়িত্ব গ্রহণ করবেন। এছাড়া ডিএম সার্চ কমিটিরও তিনি চেয়ারপার্সন এর দায়িত্ব পালন করেন। উল্লেখ্য, কমিউনিটি বোর্ড হচ্ছে স্থানীয় সরকার ব্যবস্থা, স্থানীয় জনগণের মৌলিক ইস্যুসমূহ নিয়ে আলোচনা ও সমস্যা সমাধানের প্রাথমিক প্রতিষ্ঠান। এখানে স্থানীয় জনগণের সমস্যা, যেমন স্কুল, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, বাড়ীঘর, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান, রাস্তাঘাট ইত্যাদির রক্ষণাবেক্ষণ, পুলিশ প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে স্থানীয় বাসিন্দাদের মতামত আলোচনা এবং উপদেশ প্রদান করা হয়।

মোহাম্মদ এন মজুমদার সেন্ট্রাল ব্রঙ্কস রোটারির প্রেসিডেন্ট হিসেবে এবং মূলধারার সংগঠন বাংলাদেশী আমেরিকান কমিউনিটি কাউন্সিলের প্রেসিডেন্ট হিসেবে বহু জনকল্যাণমূলক ও জনহিতকর প্রকল্প গ্রহণ করেন। রোটারির উল্লেখযোগ্য অবদানের জন্য তিনি ২০০৫ সালে “পল হ্যারিস” এওয়ার্ড এবং ২০১০ সালে “চ্যাম্পিয়ন ফর ইমিগ্রান্টস রাইট” হিসেবে প্রক্লেমেশন লাভ করেন। ২০১০-২০১২ সময়ে ডিপোর্টেশন বিরোধী বহু র‌্যালি ও শোভাযাত্রায় অংশগ্রহণ করে ইমিগ্রান্টদের অধিকার আদায়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। তিনি তার সংগঠনের মাধ্যমে অনেক সেমিনার ও জনসচেতনতামূলক তথ্য সরবরাহ করে আসছেন। এসবের মধ্যে হচ্ছে: ‘নো ইওর রাইটস. রেসপনসিবিলিটি” বিষয়ক সেমিনার, “রিডিউসিং গ্যাপ বিটুইন ইমিগ্রান্ট প্যারেন্টস এন্ড দেয়ার ইউএস বর্ণ চিলড্রেন” অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

গার্মেন্টস শ্রমিকদের ভাগ্যোন্নয়ন, বাংলাদেশে রানা প্লাজা ধ্বংস, ফিলিস্তিনে মুসলমানদের উপর ইসরাইলীদের সীমাহীন বর্বর অত্যাচার, নিউইয়র্ক সিটির স্কুলগুলোতে ঈদের ছুটি, হালাল খাবার সরবরাহ, সিটির সরকারি সংস্থাসমূহে  ইংরেজির পাশাপাশি বাংলাভাষায় ভোটার রেজিষ্ট্রেশন, ড্রাইভিং লাইসেন্স পরীক্ষা, হাসপাতালসমূহে বাংলা ইন্টারপ্রেটার প্রচলনসহ অন্যান্য উন্নয়নমূলক কাজে জনাব এন মজুমদারের অবদান ও অংশগ্রহণ প্রশংসনীয়।

তিনি দেশী বিদেশি বহু শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, মসজিদ ও মাদ্রাসা প্রতিষ্ঠায় উল্লেখযোগ্য অবদান রেখে আসছেন। দেশ ও প্রবাসী বাংলাদেশীদের কল্যাণে তিনি সবসময় মূলধারার নির্বাচিত প্রতিনিধি এবং কংগ্রেসম্যানদের সঙ্গে নিয়মিত বৈঠক করে বাংলাদেশের ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে বাণিজ্যিক চুক্তি পুনরুদ্ধার, গার্মেন্টস শ্রমিকদের স্বার্থরক্ষা, সর্বোপরি ওবামার কম্প্রিহেনসিভ ইমিগ্রেশন রিফর্ম বাস্তবায়নে কঠোর পরিশ্রম করে যাচ্ছেন। নিউইয়র্ক সিটির শিক্ষা, সাংস্কৃতিক ও গণমানুষের কল্যাণে এন মজুমদারের অবদান অনস্বীকার্য। তিনি বাংলাদেশ সোসাইটিসহ বহু সংগঠন ও প্রতিষ্ঠানের আজীবন সদস্য, পৃষ্ঠপোষক, ট্রাষ্টি ও পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করে বিগত দুই দশক ধরে একজন বহুল প্রশংসিত ব্যক্তিত্ব হিসেবে স্বীকৃতি লাভ করেছেন। সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের সিনিয়র কংগ্রেসম্যান চার্লস র‌্যাঙ্গেল তাকে কংগ্রেসনাল এওয়ার্ড প্রদান করেন।

নিউ ইয়র্কের টরো ল’ স্কুল থেকে আইনে ডিগ্রিধারী বাংলাদেশী আইনজীবী মোহাম্মদ এন মজুমদার একসময়ে ফেনী ও চট্টগ্রাম বারের সদস্য ছিলেন এবং বর্তমানে ঢাকা বারের সদস্য ও নিউইয়র্কের একটি খ্যাতনাম ল’ ফার্মের আন্তর্জাতিক কনসালট্যান্ট হিসেবে কর্মরত এবং একজন রিয়েল এষ্টেট ইনভেষ্টর।

ব্যক্তিগত জীবনে জনাব মোহাম্মদ এন মজুমদার বিবাহিত। তিনি তার স্ত্রী রেক্সোনা মজুমদার ও ছেলে রাশেদ মজুমদারসহ পার্কচেষ্টারে সুদীর্ঘ কাল েেথকে বসবাস করছেন। তার মেয়ে নাসরিন কিউনি ল’ স্কুল থেকে জেডি ডিগ্রিধারী এবং বার ক্যান্ডিডেট।

You Might Also Like