উপজেলা নির্বাচন : তৃতীয় দফায় আওয়ামী লীগ এগিয়ে

তৃতীয় দফা উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে এবার এগিয়ে আওয়ামী লীগ। বিএনপি সমর্থিত প্রার্থীদের চেয়ে আওয়ামী লীগ সমর্থিত প্রার্থীদের জয়ের পাল্লা একটু ভারি হয়েছে। শনিবার ৮১টি উপজেলা পরিষদের নির্বাচন হয়েছে আর দুটিতে স্থাগিত করা হয়েছে নির্বাচন । বাকি ৭৯ টি উপজেলা পরিষদের নির্বাচনের বেসরকারি ফলাফেলে আওয়ামী লীগ ৪০, বিএনপি ২৮,  জামায়াত ৮ এবং অন্যান্য ৩টিতে বিজয়ী হয়েছে।

ময়মনসিংহের মুক্তাগাছা ও বরিশালের হিজলায় ফলাফল স্থগিত রয়েছে। এবার বিরোধী দল জাতীয় পার্টি কোনো উপজেলায় বিজয়ী হতে পারেনি। এর আগে কেন্দ্র দখল, জালভোটসহ বিচ্ছিন্ন সংর্ঘষে সকাল ৮টা থেকে বিকাল ৪টা পর্যন্ত ভোটগ্রহণ চলে। এর আগে প্রথম দুইধাপে বিএনপি ৯৪টি, আওয়ামী লীগ ৭৮টি এবং জামায়াত ২০টিতে জয়ী হয়।

আওয়ামী লীগ :

আওয়ামী লীগ সমর্থিত প্রার্থীদের মধ্যে যারা বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেনÑ দিনাজপুর সদরে ফরিদুল ইসলাম, নীলফামারি সদরে আবুজার রহমান, কুড়িগ্রামের সদরে পনির উদ্দিন আহমেদ, রোমারীতে বিদ্রোহী প্রার্থী মজিবুর রহমান বঙ্গবাসী, চিলমারীতে শওকত আলী সরকার বীরবিক্রম, নওগাঁর পোশরায় আনোয়ারুল ইসলাম ও রাজশাহীর দূর্গাপুরে নজরুল ইসলাম. রাঙ্গামাটির কাউখালীতে এস এম চৌধুরী, চাঁদপুরের হাজীগঞ্জে অধ্যাপক আব্দুর রশিদ, ফেনীর দাগনভূইয়া উপজেলায় দিদারুল কবির রতন, চট্টগ্রামের সীতাকুন্ডে এস এম মামুন, কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামে আবদুস সোবহান ভূইয়া, নাংলকোটে সামছুদ্দিন কালু, ব্রাহ্মণপাড়া জাহাঙ্গির খান চৌধুরী, বাগেরহাটের সদর উপজেলায় মজিবুর রহমান, শরণখোলায় কামাল উদ্দিন আকন, মোংলায়  আবু তাহের হাওলাদার, মোড়েলগঞ্জে আওয়ামী লীগ প্রার্থী শাহী আলম বাচ্চু, রামপালে শেখ আবু সাঈদ, বরিশালের বাবুগঞ্জে খালেদ হোসেন স্বপন, নড়াইলের লোহাগড়ায় ফয়জুল আমির লিটু, সাতক্ষিরার কালিগঞ্জে শেখ ওয়াহিদুজ্জামান, ভোলা সদরে মোশারফ হোসেন, বরিশালের মুলাদীতে তারিকুল হাসান, বাবুগঞ্জে খালেদ হোসেন স্বপন, টাঙ্গাইলের ধনবাড়ীতে অধ্যাপক মীর ফারুক আহমেদ, জামালপুরের দেওয়ানগঞ্জে আবুল কালাম আজাদ, শেরপুরের শীবার্দী আশরাফ হোসেন, সিলেটের দক্ষিণ সুরমা আবু জাহিদ, গোপালগঞ্জের টুঙ্গীপাড়ায় গাজী গোলাম মোস্তফা (বিদ্রোহী), মৌলভীবাজারের বড়লেখায় রফিকুল ইসলাম সুন্দর, ফরিদপুর সদরে খন্দকার মোহতেশাম হোসেন বাবর, ভাঙ্গা শাহদাত হোসেন (বিদ্রোহী), সদরপুর কাজী শফিকুর রহমান, আলফাডাংগা এম এম জালাল উদ্দিন, নেত্রকোনা সদরে এস এম কামরুল হাসান শাহীন, কিশোরগঞ্জের হোসেনপুরে আইয়ুব আলী, শরীয়তপুর সদরে আবুল হোসেন তপাদার ও নড়িয়ায় এ কে এম ঈসমাইল হক, যশোরের মনিরামপুরে আমজাদ হোসেন লাভলু ও ময়মনসিংহের ধোবাউড়ায় মজনু মৃধা ও চাঁদপুরের কচুয়ায় শাহজাহান শিশির বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন।

বিএনপি :

বিএনপি সমর্থিত প্রার্থীদের মধ্যে বেসরকারিভাবে যারা নির্বাচিত হয়েছেন ঠাকুরগাঁওয়ের হরিপুরে প্রিন্সিপাল নূরুল ইসলাম, লালমনিরহাটের আদিতমারীতে আইয়ুব আলী, জয়পুরহাটের আক্কেলপুরে কামরুজ্জামান কমল, চাপাইনবাবগঞ্জের ভোলাহাটে আনোয়ারুল ইসলাম, রাজশাহীর চারঘাটে আবু সাইদ মো. চাঁদ ও গোদাগাড়ীতে মো. ইসহাক, বান্দরবানের সদরে আব্দুল কুদ্দুস, আলীকদমে আবুল কালাম, লক্ষীপুরের কমলনগরে অ্যাডভোকেট সামসুল আলম, ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগরে ইঞ্জিনিয়ার শফিকুল ইসলাম, কুমিল্লার বুড়িচং উপজেলায় মিজানুর রহমান, হোমনায় আজিজুর রহমান মোল্লা, তিতাসে সালাউদ্দীন সরকার, নোয়াখালীর সেনবাগে আবুল কালাম আজাদ, পিরোজপুরের নেছারবাদে ওয়াহিদুজ্জামান ওয়াহিদ, টাঙ্গাইলের দেলদুয়ারে ফেরদৌস আহমেদ, পিরোজপুরের ওয়াহিদুজ্জামান ওহিদ, খুলনার পাইকগাছায় স.ম বাবর আলী,  কিশোরগঞ্জ সদরে শরিফুল ইসলাম শরিফ, কুলিয়ারচরে নুরুল মিল্লাত, মানিকগঞ্জের ঘিওরে লিয়াকত হোসেন, নেত্রকোনার মোহনগঞ্জে আ খ ম সফিকুল হক, ফরিদপুরে মধুখালী আজিজুর রহমান মোল্লা, চরভদ্রাসনে বাদল আমীন (বিদ্রোহী), ময়মনসিংহের ফুলপুরে আবুল বাশার আকন্দ, ফুলবাড়িয়ায় অ্যাডভোকেট আজিজুর রহমান, গৌরিপুরে আহমদ তায়েবুর রহমান হিরন ও সুনামগঞ্জের জামালগঞ্জে শামসুল আলম ঝুনু বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন।

জামায়াত :

বেসরককারিভাবে জামায়াতের যারা নির্বাচিন হয়েছেনÑগাইবান্ধা সদরে আবদুল করিম, সাদুল্যাপুরে সাইদুর রহমান মুন্সি, চাপাইনবাবগঞ্জ সদরে মুখলেসুর রহমান, শিবগঞ্জে জামায়াতের মাওলানা কেরামত আলী, দিনাজপুরের নবাবগঞ্জে মাওলানা নূরে আলম সিদ্দিকী ও চুয়াডাঙ্গার দামুরহুদায় আজিজুর রহমান, নওগাঁর মান্দায় আবদুর রশীদ ও ধামইরহাটে মাওলানা মইন উদ্দিন বিজয়ী হয়েছেন।

অন্যান্য ৩ :

চট্টগ্রামের চন্দনাইশে এলডিপি সমর্থিত আব্দুল জব্বার চৌধুরী, রাঙ্গামাটির বরকল উপজেলায় চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতির (জিএসএফ, সন্তু লারমা) একমাত্র নারী প্রার্থী মনি চাকমা ও বাঘাইছড়িতে চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতির (জিএসএফ, সন্তু লারমা) বড়ঋষি চাকমা বেসরকারিভাবে বিজয়ী।

প্রার্থী, ভোটকেন্দ্র, ভোটার ও ভোটগ্রহণ কর্মকর্তার সংখ্যা: ৮১ উপজেলায় মোট ১ হাজার ১১৯ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। এর মধ্যে চেয়ারম্যান পদে ৪১৯, ভাইস চেয়ারম্যান পদে ৪২৩ এবং সংরক্ষিত নারী ভাইস চেয়ারম্যান পদে ২৭৭জন। মোট ভোটার ১ কোটি ৩১ লাখ ৮৫ হাজার ১৩ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ৬৫ লাখ ৬৭ হাজার ৮৩২ জন, মহিলা ভোটার ৬৬ লাখ ১৭ হাজার ১৮১ জন। ভোট কেন্দ্রের সংখ্যা ৫ হাজার ৪৫৬টি, ভোটকক্ষ ৩৮ হাজার ১৮৯টি। প্রিজাইডিং অফিসার প্রতি ভোটকেন্দ্রে একজন করে ৫ হাজার ৪৫৬ জন। সহকারী প্রিজাইডিং অফিসার প্রতি ভোটকক্ষের জন্য এক জন করে মোট ৩৮ হাজার ১৮৯ জন এবং পোলিং অফিসার ৭৬ হাজার ৩৭৮ জন দায়িত্ব পালন করেন।

You Might Also Like